শনিবার, ১৯ অক্টোবর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১০ জুলাই, ২০১৯, ০২:৩০:৪৯

খালেদা জিয়ার জামিনে সরাসরি বাধা দিচ্ছেন শেখ হাসিনা: রিজভী

খালেদা জিয়ার জামিনে সরাসরি বাধা দিচ্ছেন শেখ হাসিনা: রিজভী

ঢাকা : বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনে মিডনাইট মার্কা নির্বাচনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন সরাসরি বাধা দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘দেশের জনগণের প্রিয়নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার নীলনকশা তৈরি করেছে সরকার। তাঁকে মিথ্যা মামলায় ক্ষমতার মত্ততায় দেড় বছর বন্দি রাখা হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। তাঁর জামিনে এখন সরাসরি বাধা দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। আদালতে হস্তক্ষেপ করার পাশাপাশি দেশনেত্রীর আইনজীবীদেরও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা দেয়া হচ্ছে। দেশনেত্রীর ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে দেয়া হচ্ছে না।’

বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘নিশিরাতে ভোট ডাকাতির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এখন ভোট ডাকাত সরকারের আর এক মুহূর্তও ক্ষমতায় থাকার ন্যূনতম অধিকার নেই। সারা দেশের ১০ কোটি ৪১ লাখ ভোটারের ভোটাধিকার দস্যুবৃত্তির দ্বারা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন জবরদখলকারী দস্যুরাই দেশ শাসন করছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ তাদের ক্ষমতা ফিরে পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে দেশের মালিক জনগণকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে বর্তমান ধিকৃত আগ্রাসী সরকার। ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা, সন্ত্রাস ও হিংস্রতা দিয়ে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। তখন জনরোষে, দুর্বার আন্দোলনের মুখে এই সরকারের পতন ইতিহাসের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

একাদশ নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও দেশের স্বনামধন্য নাগরিক সংগঠনগুলো ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। বিবিসি বলেছে-১৯৭ কেন্দ্রে শতভাগ এবং হাজারো কেন্দ্রে ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলেছে- ৩০০টি আসনে ৪০ হাজার ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি আসনের ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে, ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ৩৫৮টি কেন্দ্রে, ৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে ৫১৬টি কেন্দ্রে। অর্থাৎ ১৪১৮টি ভোটকেন্দ্রে ৯৬ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে। সুজন সিইসিসহ সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছে। আমরা মনে করি এই দাবি যথার্থ। মূলত: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০টি আসনেই ভোট জালিয়াতি ছিল নজীরবিহীন ও বিস্ময়কর।’

রিজভী বলেন, ‘নিশিরাতে ভোট ডাকাতি পর এখন বন্দুকের নলের মুখে জনগণের জানমাল জিম্মি করে ক্ষমতায় বসে যা ইচ্ছা তাই করছে এই অবৈধ সরকার। কোনও দায়বদ্ধতা না থাকায় একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তারা। শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের গায়ের ঘাম ঝরানো অর্থ লুণ্ঠনের জন্য গ্যাসের দাম বাড়িয়ে নাভিঃশ্বাস পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। দুর্নীতি ও লুটপাটের উত্থান এই সরকারের প্রধান উন্নয়ন।’

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী চীন থেকে দেশে ফিরে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সেখানে তিনি বলেছেন ‘উন্নয়ন পেতে হলে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি মেনে নিতে হবে। এখন যে পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়েছে, তারপরও বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হবে’। বাস্তবতা হলো- উন্নয়ন উন্নয়ন শুনতে শুনতে দেশের জনগণ ক্লান্ত ও মূমুর্ষ হয়ে পড়েছে। সরকারের উন্নয়ন বুলির আড়ালে লুটপাটের মহোৎসবের কাহিনি মানুষ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। উন্নয়নের কথা বলে জনগণের পকেট কেটে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনদের আর ভোট ডাকাতিতে সহযোগিতাকারীদের পকেট ভারি করা হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে রিজভী আরও বলেন, ‘সবাই জানে, গ্যাসে এই মুহূর্তে কোনও ভর্তুকি নেই। এই গ্যাসের মূল্য এলএনজি আমদানি করে তার ভর্তুকি দেয়ার জন্য বাড়ানো হয়েছে। সরকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং তাদের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন এলএনজি আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ মেটাতে জনগণের ঘাড়ে গ্যাসের দাম চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এলএনজি ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে সাধারণ ভোক্তাদেরকে কেন বাড়তি দাম দিতে হবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানিতে ভর্তুকি দেয়া হয়। সরকার ভর্তুকি দেয় জনগণের টাকায়। কারণ এই ক্ষেত্রগুলোতে ভর্তুকি দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসসহ জীবনযাত্রার মান সহজ ও স্বস্তিদায়ক রাখা হয়। গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে কলকারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সর্বত্রই। সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং তারা যে দেশ পরিচালনায় অক্ষম তার প্রমাণ এই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি। গণবিরোধী সরকারের হিসাব খুবই সোজা। তারা চুরি করবে আর ক্ষতির টাকা জনগণের পকেট থেকে উসুল করে নেবে।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান ও নিতাই রায় চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর

  আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেয়নি, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল : মান্না

  বিএসএফ বাংলাদেশে এসে ‘বাহাদুরি' করেছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  এদেশে ভিন্নমত পোষণকারীদের পরিণতি বিশ্বকে জানিয়ে গেছে আবরার : মওদুদ

  উন্নয়নের সাথে সাথে দেশে লুন্ঠন, দূনীর্তি মহামারি আকার ধারন করেছে : মেনন

  লোক দেখানো মানববন্ধনে বেগম জিয়ার মুক্তি হবে না : শওকত মাহমুদ

  ছাত্রলীগ নেতাকর্মী হওয়ার পরও আবরার হত্যাকারীদের ছাড় দেয়া হয়নি : কাদের

  লুট করতেই জবির ভিসি ‘যুবলীগের’ দায়িত্ব পেতে চান : মোশাররফ

  সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  রাজনৈতিক বৈষম্যে তরুণরা বিপথে, জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে: মনিরুল

  আকাশ থেকে হাতিরঝিল দেখলে মনে হয় ইউরোপের শহরে এসেছি : তথ্যমন্ত্রী

  জামায়াতকে একটু তালাক দিন: বিএনপিকে জাফরুল্লাহ

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?