মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ০৮ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:২৩:৫৭

ল্যাংড়া খালেদের ভয়ে ছাত্রলীগের দু:সময়ের নেতা কানাডায়

ল্যাংড়া খালেদের ভয়ে ছাত্রলীগের দু:সময়ের নেতা কানাডায়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: ক্যাসিনো খালেদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকলেও তার ভয়ে দেশে ফিরতে পারছে না ছাত্রলীগের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতা সোহেল শাহরিয়ার।

সূত্রে জানা গেছে,  সোহেল শাহরিয়ার শৈশব থেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। তার জন্ম রাজধানীর শাজাহানপুরে।  ৯ম-১০ম শ্রেণিতে পড়ালেখা অবস্থাই তিনি শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদে কাজ করেন। তখন এই সংগঠনের ঢাকা মহানগরের দায়িত্ব পালন করে সোয়েব খান ও শারমিন সুলতানা সালমা। ১৯৯৭ সালে
এসএসসি পাশ করার পর সোহেল শাহরিয়ার রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে ভর্তি হন। ঐ বছরই তাকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এরপর ২০০২ বৃহত্তর মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভোটে নির্বাচিত হয়।

সূত্রে আরও জানা যায়, তখন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকায় সরকারি দল বিএনপি হাতে অনেক অত্যাচর ও নিযার্তনে শিকার হয়েছে।  রাজনীতি কারণে কারাবন্দী হয়েছেন কয়েক বার। শুধু তাই ১/১১ এর সময়ও নেত্রীর মুক্তি আন্দোলন করেও জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছে।  আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার পর সোহেল শাহরিয়ার অত্যাচার নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি।  অাওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারী খালেদের অত্যাচার শুরু হয় তার ওপরে।  শুধু তাই নয় মতিঝিল, শাহজাহানপুর, রামপুরা, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা এলাকার পুরো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একক আধিপত্য বিস্তার করতে ছাত্রলীগের অনেক নেতাকে অত্যাচার নির্যাতন করতে থাকে। খালেদ  এক পর্যায়ে সোহেল শাহরিয়ারকে দেশে থাকলে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিলে কানাডায় গিয়ে আশ্রয় নেন সোহেল শাহরিয়ার।

২০০৮ সালের ৪ মার্চ রাজধানীর শাহজাহানপুরে দিনেদুপুরে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাউসার আলীকে। কাউসার হত্যায় লেংড়া খালেদের নাম থাকলে। কৌশলে তার নাম কাটিয়ে নেয় লেংড়া খালেদ। ২০১৬ সালে ফেব্রুয়ারীতে কাউসার আলী হত্যার চার্জসিটে খালেদ সোহেল শাহরিয়ার নাম জড়িয়ে দেয়। সোহেল তখন স্ত্রীসহ কানাডায় অবস্থান করছেন।

সূত্রে আরও জানা যায়, কাউসার হত্যার সময় সোহেল শাহরিয়ার আওয়ামী লীগের নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী সঙ্গে রাজনৈতিক প্রোগ্রামে ছিলেন। ২০১১ সালে মোহাম্মদপুরে ঢাকা মহানগর উত্তরে সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন বাবু ওরফে লীগ বাবু খুন হন। ঐ খুনের সঙ্গে খালেদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

যেভাবে খালেদের উত্থান:

যুবলীগ নেতা খালেদের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি শান্তিনগরের হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়াশোনা করেছেন। ঐ সময় কলেজে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে পুলিশের সঙ্গে তার সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের গুলিতে তার একটি পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই থেকেই তাকে ল্যাংড়া খালেদ নামে অনেকে চেনে।

১৯৮৭ সালে ফ্রিডম মানিক ও ফ্রিডম রাসুর নেতৃত্বে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে হামলা হয়। এ দুই নেতার হাত ধরেই খালেদের উত্থান। ২০০২ সালে বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসের ভাই মির্জা খোকনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন খালেদ।
 
দুবাইয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। দুবাই ও সিঙ্গাপুরে জিসানের সঙ্গে যুবলীগ দক্ষিণের একজন শীর্ষ নেতাসহ খালেদকে চলাফেরা করতেও দেখেছে অনেকে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিঙ্গাপুরে হোটেল মেরিনা বে’তে জিসান, খালেদ ও যুবলীগের ওই শীর্ষ নেতার মধ্যে ক্যাসিনো এবং ঢাকার বিভিন্ন চাঁদার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে জিসান তাদের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়েই খালেদ ও যুবলীগের ঐ শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে যুবলীগের ওই শীর্ষ নেতাকে সরিয়ে দিতে একে-২২ রাইফেলসহ ভারী আগ্নেয়াস্ত্রও আনেন খালেদ। এসব অস্ত্র পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করে।

এখনও লেংড়া খালেদের বাহিনীর আতংকে দেশে ফিরতে পারছে না সোহেল শাহরিয়ার।

 

 

এই বিভাগের আরও খবর

  যুবদল নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশী হামলা ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে যুবদলের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

  খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা বলে কাঁদলেন আলাল

  পদ হারিয়ে যা বললেন ওমর ফারুক চৌধুরী

  ব্যর্থতার দায়ে ঐক্যফ্রন্ট বিলুপ্ত করা উচিত: ইরান

  হামলা: তবুও ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের বিশাল শোডাউন!

  আমি পদত্যাগ করব না: মেনন

  গণপূর্তের ২ প্রকৌশলী ও তাদের স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুদক

  খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সম্মতি পেল ঐক্যফ্রন্ট

  গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বড় লড়াইয়ের বিকল্প নেই: আলাল

  খালেদা জিয়া-তারেক রহমানকে সাজা দেয়ায় ২ বিচারককে পুরস্কৃত করা হয়েছে : খোকন

  ইডেন ছাত্রলীগ নেত্রী মৌসুমীর সঙ্গে প্রেম ছিল সম্রাটের

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?