বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ০৯ অক্টোবর, ২০১৯, ০২:১১:১৩

চুক্তি বাতিল করে প্রমাণ দিন আপনি আবরারের পক্ষে: প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী

চুক্তি বাতিল করে প্রমাণ দিন আপনি আবরারের পক্ষে: প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী

ঢাকা : ‘শেখ হাসিনা নিজেদের সমালোচনা সহ্য করতে পারলেও ভারত নিয়ে কোনো সমালোচনা হলে সেটা সহ্য করতে পারে না।’

‘স্বৈরাচারের কাছে বিচার চাওয়ার সময় এখন না। এখন সময় এসেছে স্বৈরাচারের বিচার করার।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলবো- ‌‌‌‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদ করতে গিয়ে লাশ হতে হলো আবরারকে। চুক্তি বাতিল করে প্রমাণ দিন আপনি আবরারের পক্ষে, ভারতের আবদারের পক্ষে নন।’

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের কাছে জেনেছি আজ প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে বক্তব্য দিবেন- জাতির সামনে বক্তব্য দেয়ার আগে সকল দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করবেন কি না জানতে চাই।

বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদের বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর যখন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী গগনবিদারী স্লোগানে উত্তাল তখন সরকার ছাত্রদেরকে নিরস্ত করার জন্য নানা ছলছাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে। সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রীরা নানা রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। যে কারণে আবরারকে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেদিক থেকে দৃষ্টি ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে সরকার। মূলত, দেশের মাটি, পানি, আকাশের স্বার্থে স্ট্যাটাস দেয়ায় বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আবরারের স্ট্যাটাসের পিছনে কারণই ছিল দেশবিরোধী চুক্তির বিরোধীতা ও সত্য ইতিহাস তুলে ধরা। আর দেশবিরোধী চুক্তিটি করেছেন বর্তমান মিডনাইট ভোটের সরকার জনগণের সাথে দিনে দুপুরে প্রতারণা করে। সুতরাং আবরার খুনের দায় সরকারও এড়াতে পারে না। দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল ছাড়া আবরারের আত্মা শান্তি পাবে না।

রিজভী বলেন, বাস্তবে খুনি ও স্বৈরাচারের কাছে বিচার চাওয়ার সময় এখন না। এখন সময় এসেছে স্বৈরাচারের বিচারের। যারা নিজেদের ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য একের পর এক দেশবিরোধী চুক্তি করে দেশের সব কিছু অন্যোর হাতে তুলে দিচ্ছে তাদের বিচার করতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কিংবা শেখ হাসিনা নিজেদের সমালোচনা কিছুটা সহ্য করতে পারলেও ভারত নিয়ে কোনো সমালোচনা হলেই তারা সেটা সহ্য করতে পারে না। ন্যায্য হিস্যার কথা বললেও আওয়ামী লীগ সরকার তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা পাওয়ার কোনো অধিকার নেই, ন্যায্য হিস্যার দাবি তোলাটাও যেন ভয়ংকর অপরাধ। সুতরাং আবরার ফাহাদ আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর কাছে অপরাধী, কারণ সে আওয়ামী লীগের বন্ধু রাষ্ট্রের বাংলাদেশের প্রতি আচরণের সত্য ইতিহাস তুলে ধরেছিল। এজন্য তাকে জীবন দিতে হলো।

এ সময়ের শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিক আবরার ফাহাদ। মৃতুঞ্জয়ী আবরার ফাহাদ দেশের জন্য জীবন দিয়ে মৃত্যুকে জয় করেছে। এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধের প্রধান প্রেরণা হয়ে থাকবে আবরার ফাহাদ। আবরার ফাহাদ আমাদের প্রাণের পতাকা।

রিজভী আরও বলেন, যার রুমে যার উপস্থিতিতে আবরারকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয় সেই অমিত সাহার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এজাহারে তার নাম নেই, তাকে বহিষ্কারও করেনি ছাত্রলীগ। শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুম তথা টর্চার সেলটি অমিত সাহার। তাকে বাঁচাতে বুয়েট প্রশাসন ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অথচ প্রথম আলোসহ অধিকাংশ পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে আবরারকে মারার সময় অমিত সাহা সেখানে উপস্থিত ছিল এবং সে মারামারিতে অংশ নেয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অন্যরা লাশ নিয়ে গেলেও অমিত সাহা তার রুমেই ছিল। কক্ষের ভেতরে যখন আবরার এর ওপর অকথ্য টর্চার চলে তখন পুলিশ খবর পেয়েও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাকে বাঁচানোর জন্য এখন নানারকম অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে একটি গোষ্ঠী।

বিএনপির এই নেতা বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদের নির্মম মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ক্ষমতাসীনদের খুনের সংস্কৃতির ধারাবাহিক চর্চার একটি অংশ মাত্র। আজ তাই, বাংলাদেশের মানুষের পক্ষের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় এসেছে। এই অন্ধকারের সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে মানুষের অধিকার মানুষের হাতে ফিরিয়ে দিতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের বিকল্প নেই। একজন মাত্র ব্যক্তির ক্ষমতার লিপ্সা, লোভের কারণে আজ দেশের জনগণই যেন নিজ দেশে পরাধীন। এই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে আমাদের জেগে উঠতে হবে। এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে দেশের জনগণের অধিকার ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুনিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আন্দোলনরত ছাত্রদের দাবির সাথে আমরাও অবিলম্বে অমিত সাহাকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে ছাত্রদের প্রতিটি দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি।

‘একটা ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, বাংলাদেশ ভারতকে গ্যাস দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি হচ্ছে বিদেশ থেকে আমদানি করা গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে তা ভারতে রফতানি হবে।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মোমেন এর এমন বক্তব্য উল্লেখ করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, কি হাস্যকর যুক্তি ! ভারতের সাথে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক তৈরি করা এই মন্ত্রী মহোদয়কে বলতে চাই-বিদেশ থেকে গ্যাস এনে আমাদের প্রক্রিয়া করে ভারতে রফতানি করতে হবে কেন? ভারত নিজে কি প্রক্রিয়া করতে জানে না? আপনি যেখান থেকে গ্যাস আনবেন সেখান থেকে ভারত নিজেইতো গ্যাস নিতে পারে, আপনাকে কেন দিতে বলবে ?

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবির মুরাদ, আবুল খায়ের ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?