Timesofbangla.com
সফলতার স্বর্ণশিখরে নিঃসঙ্গতার আর্তনাদ!
Saturday, 01 Jun 2019 17:30 pm
Reporter :
Timesofbangla.com

Timesofbangla.com

ঢাকা : হিন্দি চলচ্চিত্রের সুপারস্টার এবং জীবন্ত কিংবদন্তি মিঠুন চক্রবর্তীর একটি সাক্ষাৎকার দেখতে গিয়েই আজকের শিরোনাম নিয়ে লেখার কথা মনে এলো। আমাদের বরিশালে জন্ম নেয়া এবং বেড়ে ওঠা মিঠুন চক্রবর্তী প্রথমে কলকাতা এবং পরে মুম্বাই গিয়ে কী যে নিদারুণ কষ্টকর সময় পার করছিলেন, তা বর্ণনা করতে গিয়ে মাঝে মধ্যে তিনি নিজেই আঁতকে উঠছিলেন। তার জন্ম, শৈশব, কৈশোরের বেড়ে ওঠা, যৌবনের সংগ্রাম ইত্যাদির সাথে তিনি তার বর্তমানের গগনচুম্বী সফলতা ও জনপ্রিয়তার কোনো সংযোগ খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

মিঠুনের মতে= সফলতা হলো এমন একটি একক যা কেবল পরিশ্রম, জ্ঞান-গরিমা, সততা-নিষ্ঠা ইত্যাদি মানবিক গুণের ওপর নির্ভর করে না। সফলতার জন্য অবশ্যই উপরওয়ালার মনোনয়ন দরকার পড়ে। মানুষ যখন তার স্রষ্টা কর্তৃক কোনো একটি বিষয়ে সফল হওয়ার ব্যাপারে মনোনীত হন, তখন সেই মানুষটির কাছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অনেক গুপ্ত তথ্যভাণ্ডার উন্মোচন হয়- অনেক কিছু প্রকৃতিগতভাবে তার কাছে এসে হাজির হয় এবং পুরো প্রকৃতি ও পরিবেশ তার অনুকূলে চলে আসে।

সেদিনের টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মিঠুন চক্রবর্তী হয়তো চমৎকার একটি মুডে ছিলেন। ফলে উপস্থাপকের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি মেধা-আন্তরিকতা এবং আধ্যাত্মিকতার সংমিশ্রণ ঘটাতে পেরেছিলেন। উপস্থাপকের একটি প্রশ্ন ছিল- মিঠুন দা, তুমি তো খুবই ব্যস্ত একজন মানুষ, বলতে গেলে ভয়ঙ্কর ব্যস্ত। এই কথা বলে উপস্থাপক নিজেই গড় গড় করে বলতে আরম্ভ করলেন, হররোজ মিঠুনকে যে কত্তোসব কাজকর্ম করে বেড়াতে হয়। সুতরাং মিঠুনের দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যে তিনি তার ভক্তদের সামলান কিভাবে।

অথবা কোনো ভক্ত অনুরক্ত যদি মিঠুনের সান্নিধ্য পেয়ে নিজেকে ধন্য করতে চান, তবে সেটি কিভাবে সম্ভব। উপস্থাপকের কথা শুনে মিঠুন অসহায়ের মতো হাসলেন। তারপর কিছুটা গম্ভীর হয়ে বললেন- যারা সফলতার স্বর্ণশিখরে পৌঁছায় তারা সবাই কমবেশি নিঃসঙ্গতায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। সবাই ভাবেন- লোকটি হয়তো ব্যস্ত- সুতরাং ওখানে যাওয়া দরকার নেই কিংবা যদি যাই তবে তিনি হয়তো বিরক্ত হবেন নতুবা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এভাবে লোকজন ধীরে ধীরে সফল মানুষের বলয় থেকে দূরে চলে যায়।

মিঠুন চক্রবর্তীর মতে- মানুষ যখন সফলতার পথে পা বাড়ান তখন তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা হয় ছেলেমেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালের অবস্থার মতো। সে অনেক কাজকর্ম করে যার হয়তো আদৌ প্রয়োজন নেই। সফলতার শুরুর দিকটায় প্রায় সব সফল মানুষই নিজেকে তুলে ধরার প্রাণান্ত চেষ্টা করেন। খ্যাতি-জনপ্রিয়তা-ক্ষমতা অর্জন এবং সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অহেতুক ক্রিয়াকর্ম আরম্ভ করে দেন। নিজের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য তারা অকারণ ব্যস্ততা, সীমাহীন অস্থিরতা, হাঁক-ডাক, হৈ-হুল্লোড় এবং সাজসজ্জার মাধ্যমে জীবনকে জটিল করে তোলেন। তাদের আক্রমণের প্রথম শিকার হন পরিবারের আপনজন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় এবং পাড়া প্রতিবেশীরা। তিনি বা তারা চান যে, আশপাশের লোকজন তাদের তোয়াজ-তদ্বির করুক এবং সব ব্যাপারে তাকে বা তাদের অনুকরণ করুক।

সফলতা পাওয়া মানুষগুলো হঠাৎ করে হেঁয়ালি এবং খেয়ালি হয়ে পড়েন। খেয়ালি হওয়ার কারণে তারা রুক্ষ, বদ মেজাজি, জেদি এবং স্বার্থপর হয়ে পড়েন। তারা সব কিছু নিজেদের খেয়াল খুশি মতো করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। অন্য দিকে হেঁয়ালিপনার কারণে তারা কাউকে কাউকে অতিমাত্রায় এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে গুরুত্ব দিতে আরম্ভ করেন এবং বেশির ভাগ মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য অথবা অপমান করে একধরনের সুখ অনুভবের চেষ্টা করতে থাকেন। তাদের একাংশ হঠাৎ বা দৈবাৎ মৃত্যুবরণ করবেন এমন অদ্ভুত চিন্তার বশবর্তী হয়ে গোপনে ও প্রকাশ্যে হাস্যকর লঙ্কাকাণ্ড ঘটাতে থাকেন। এই শ্রেণীর অন্য অংশটি দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকার আশায় ডাক্তার-কবিরাজ, বৈদ্য-ওঝা, পীর-ফকির, মাজার অনুরক্ত হয়ে দু’হাতে টাকা খরচ করতে করতে নিজেদের জীবনকে জটিল বানিয়ে ফেলেন। তার দীর্ঘ জীবন লাভের জন্য যেকোনো পরামর্শ লুফে নেন এবং সেভাবে জীবন পরিচালনা করতে গিয়ে নিকটজনদের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ান।

মানুষ যখন সফলতার প্রাথমিক স্তরে পা রাখেন, তখন নানাবিধ লোভ-লালসা তাকে অস্থির করে তোলে। খ্যাতির লোভ, বিত্তের লোভ, ভোগের লোভ, অতি মানবীয় হওয়ার লোভ ইত্যাদি কারণ মনের মধ্যে প্রতি মুহূর্তে খইয়ের মতো ফুটতে থাকায় সফলতার প্রাথমিক দিনগুলোতে মানুষ প্রচণ্ড অস্থির অবস্থায় দিন কাটাতে থাকেন। নতুন নতুন সম্পত্তি ক্রয়, দালান-কোঠা নির্মাণ, দৃশ্যমান জনহিতকর কাজকর্ম, রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুদান ইত্যাদি কর্মের মাধ্যমে তারা নিজেকে বিশিষ্টজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে মূলত সমাজ-পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। সফলদের একাংশ যেমন হঠাৎ ধার্মিক হয়ে পড়েন তেমনি অপর অংশটি অতিমাত্রায় যৌনতা, প্রেম-রোমাঞ্চ, মদ-জুয়া ইত্যাদির সাথে জড়িয়ে যান। ফলে তাদেরকে গোপনীয়তার আশ্রয় নিতে হয়, যা করতে গিয়ে নিঃসঙ্গতা তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

সফলতার দ্বিতীয় স্তরে গিয়ে মানুষ আবার নিঃসঙ্গতার কবলে পড়ে। এই স্তরে মানুষ নিজের সফলতার বাহাস দেখাতে গিয়ে দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত, মারামারি, মামলা-মোকদ্দমা এবং মন কষাকষি তথা মান-অভিমানে আক্রান্ত হন। নিজেদের সফলতার প্রাথমিক স্তরের অস্থিরতা, লোভ, ক্রিয়া-কৌতুক, সম্পত্তি অর্জন, ভোগ-বিলাস এবং প্রভাবশালী হওয়ার প্রচেষ্টার কারণে তাদের সাথে অনেকের শত্রুতা শুরু হয়। তারা ক্ষেত্রবিশেষে প্রচণ্ড বাধা-বিপত্তির শিকার হন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপমান, লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং বদনামই তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তাদের মাধ্যমে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা যদি সক্ষম হন তবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেনÑ নতুবা দূরে সরে গিয়ে নানা রকম কুৎসা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষজনকে সফলদের ব্যাপারে ক্ষেপিয়ে তোলেন। ফলে লোকজন এই শ্রেণীর সফলদের এড়িয়ে চলতে আরম্ভ করেন।

সফলদের মধ্যে যারা যৌনতায় তাড়িত হন তারা দ্বিতীয়পর্যায়ে এসে লাজ-লজ্জা হারিয়ে বেহায়া ও বেপরোয়া হয়ে পড়েন। বহুগামিতা, বহুবিয়ে ও বিকৃত রুচির নানা অশ্লীল কর্মের কারণে আপনজনেরা তাদের ত্যাগ করতে থাকেন। যারা অর্থবিত্তের লোভের কবলে পড়েন তারা অতিমাত্রায় কৃপণতা এবং ঘুষ-দুর্নীতিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। যারা রাজনৈতিক ক্ষমতা পেয়ে যান তারা রাগচণ্ডালী স্বভাব, দুর্ব্যবহার, অত্যাচার-জুলুম এবং মানুষকে অপমান করার অভ্যাস অর্জন করে সমাজ থেকে ক্রমান্বয়ে দূরে সরে যেতে থাকেন। যারা সামাজিক মর্যাদা পেয়ে যান তারা অতিমাত্রায় দাম্ভিকতা, অতি আত্মবিশ্বাস এবং সব সময় অতিরিক্ত সাধু সাজার অপতৎপরতায় আক্রান্ত হয়ে নিজেদের সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন।

সফলতার তৃতীয়পর্যায়ে মানুষ সাধারণ দু’টি উপায়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে নিঃসঙ্গতার কবলে পড়েন। প্রথমটি হলো নিজের ব্যর্থতা, পারিপার্শ্বিক চাপ, আপনজনদের সমালোচনা, প্রতিদ্বন্দ্বীদের শত্রুতা ইত্যাদি কারণে মানুষ বিষণœতার কবলে পড়েন। তাদের আচরণ তখন অসংলগ্ন ও গাছাড়া প্রকৃতির হয়ে পড়ে। হাপিত্যেস এড়িয়ে চলার অভ্যাস এবং সব ব্যাপারে উদাশীনতার মনোভাবের কারণে মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। এই স্তরে এসে যারা সফল হন অর্থাৎ দ্বিতীয় স্তরে থাকাকালীন সময়ে তারা যে কাজকর্ম শুরু করেছিলেন তা যদি তারা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন, তবে তারা অনেকের কাছে ভীতিকর বস্তু হিসেবে পরিগণিত হতে থাকেন। লোকজন তাদের এই স্তরের সফলতাকে হিংসা করার পরিবর্তে ভয় করতে আরম্ভ করে। অন্য দিকে, যারা সফল হন তারাও অতিমাত্রার দাম্ভিকতা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ক্রমান্বয়ে দূরে সরিয়ে দিতে থাকেন। তারা নিজেদের সফলতাকে সবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য তার আশপাশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার জ্ঞানী-গুণী ও জনপ্রিয় লোকদের কারণ-অকারণে নাজেহাল করার জন্য বিভিন্ন উপলক্ষ সৃষ্টি করেন।

মানুষ যখন সফলতার স্বর্ণশিখরে পৌঁছায় তখন তার জন্য নিঃসঙ্গতা অনিবার্য হয়ে পড়ে। সফল মানুষের প্রকার-প্রকৃতি ও চরিত্র অনুযায়ী সেই নিঃসঙ্গতা কখনোবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠে, আবার কখনোবা অভিশাপ হয়ে দেখা যায়। যেসব সফল মানুষ জ্ঞানগরিমা, বিদ্যাবুদ্ধিতে পরিচালিত হন, সুন্দর একটি পরিবার নিয়ে বসবাস করেন এবং নীতিনৈতিকতা, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক, রাষ্ট্রীয় এবং ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা মান্য করে জীবন পরিচালনা করেন তাদের জন্য সাফল্যই নিঃসঙ্গতা বিরাট এক আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয়। নিঃসঙ্গতা কাজে লাগিয়ে সে আত্মসুদ্ধির পথে এগোতে এগোতে একসময় সত্যিকার অর্থে অনুকরণীয় ভালো মানুষে পরিণত হন। তার চিন্তার জড়তা কেটে যায়, অকপটে সত্য কথা বলার সাহস এসে যায় এবং যেকোনো সমস্যার শ্রেষ্ঠতম সমাধানের সূত্র তার মাথা থেকে ক্রমাগত বের হতে থাকে। ফলে এ ধরনের মানুষ জমিনের জন্য সর্বজনীন উপকারী উপাদানে পরিণত হয়ে যান।

সফলতার স্বর্ণশিখরে পৌঁছা আরেক শ্রেণী মানুষ রয়েছেন, যারা মূলত কুকর্ম করেই নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে যান। তারা যদি ধনী হন তবে তাদের হস্তগত হওয়া ধনসম্পত্তি প্রধানত চুরি-ডাকাতি, ঘুষ-দুর্নীতি, লোক ঠকানো, জাল-জালিয়াতি, ধোঁকাবাজি প্রতারণা ইত্যাদির মাধ্যমে অর্জিত হয়ে থাকে। তারা যদি শিক্ষিত হিসেবে পরিচিতি পান তবে নকলবাজি, গলাবাজি, অন্যের অনুসরণ অনুকরণ, তথ্য চুরি, অন্যের জ্ঞানগরিমা ইত্যাদি নিজের বলে চালিয়ে দেন। তারা যদি সাধু সন্ন্যাসীর রূপ ধরেন, তবে নিঃসন্দেহে পর্দার আড়ালে তাদের ভয়ঙ্কর সব প্রতারণা, ভণ্ডামি, মোনাফেকি লুকানো থাকে। তারা যদি নেতা হন তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, হত্যা-ধর্ষণ, গুম, খুন, মিথ্যাচার, অনাচার ইত্যাদি বদখাসলতকে হাতিয়ার বানিয়েই এসব লোক নেতৃত্বের স্বর্গশিখরে পৌঁছে যান।

আলোচনার এই পর্যায়ে কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন, সব সফলতার মূলেই যদি সময় সুযোগ অথবা উপরওয়ালার মর্জি প্রধান ভূমিকা হিসেবে কাজ করে তবে সফল ব্যক্তির পরিণতি কেন একেক রকম হবে অথবা সফলতার মন্দ দিকগুলোর জন্য কেন ব্যক্তিকে দায়ী করা হবে! পাঠকের এই প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলা যায় যে, সফল মানুষের ইচ্ছাশক্তি, মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গির ওপরই তার পরিণতি নির্ভর করে শতকরা নব্বই ভাগ। বাকি দশ ভাগ নির্ভর করে তার শিক্ষাদীক্ষা, পরিবেশ পরিস্থিতি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যকারণের ওপর। সফলতার যে সুযোগ তা সাধারণত সর্বজনীনভাবে এসে হাজির হয়। কিন্তু উপরওয়ালার মনোনীত ব্যক্তি সর্বপ্রথম সেই সুযোগ দেখতে পান এবং নিজের দক্ষতা অভিজ্ঞতা, শক্তি-সামর্থ্য ও রুচি অনুযায়ী সুযোগকে কাজে লাগান এবং ফল ভোগ করেন।

সফল মানুষদের ইতিবাচক পরিণতিকে বলা হয় সার্থকতা। সব সার্থক মানুষই সফল; কিন্তু সব সফল মানুষ সার্থক হন না। কারণ দাগী চোর যেমন চৌর্যবৃত্তিতে সফলতা পাওয়ার পর দাগী উপাধি পান। তেমন ধর্ষণকারী, ডাকাত, বাটপাড় ইত্যাদি নামের আগে যখন কুখ্যাত বা দুর্ধর্ষ শব্দ যোগ হয়, ধরে নেয়া হয় যে অপরাধীরা নিজ নিজ কুকর্মে যথেষ্ট সফলতা অর্জন করেছেন। এসব ক্ষেত্রে কেউ কোনো দিন বলেনি যে, ওমুক ভণ্ডের জীবন সার্থক অথবা তমুক ডাকাতের সার্থক জীবনালেখ্য পাঠ্যসূচিতে থাকা দরকার। সাধারণভাবে যদি আমরা সফল মানুষের কাজকর্মের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করি তবে দেখা যাবে যে, সফলতার সুযোগকে বাজে কাজে ব্যবহার করা অথবা মন্দভাবে কাজে লাগানো লোকজন সাধারণ মানুষের অভিশাপ, বিরক্তি, নিন্দা ও ঘৃণার পাত্রে পরিণত হন। অন্য দিকে সার্থক লোকের কাজকর্ম মানুষের মধ্যে প্রশান্তি ছড়ায়, তার উপস্থিতিতে মানুষের হৃদয় ও চক্ষু শীতল হয়ে যায়। তার জীবন ও কর্ম কোনো প্রচার ও প্রচারণা ও রাখঢাক ছাড়াই নীরবে নিভৃতে অন্য মানুষের কাছে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে পড়ে।

সার্থক মানুষেরা সাধারণত অন্যের সমালোচনা করেন না, অন্যের খুঁত ধরার কাজে সময় নষ্ট করেন না এবং অন্যের মর্যাদাহানিকর কথা ও কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখে। তারা অন্তর্মুখী হয়ে নীরবে কাজ করতে ভালোবাসেন এবং নিজেদের শুভকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে তারা লজ্জায় ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েন। তারা কোথাও অনাহূত উপস্থিত হন না এবং কোথাও তারা বিরক্তি ও ঘৃণার পাত্রে পরিণত হন না। তাদের চরিত্রে নির্মলতা, চোখ মুখের অভিব্যক্তি এবং কণ্ঠের মাধুর্য্য মিশক আম্বরের সুঘ্রাণ ছড়াতে থাকে। সার্থকতার বিপরীতে যারা শুধুই সফল তাদের জীবনের সব কিছুর প্রতিক্রিয়া হয় সার্থক মানুষের সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা সবাইকে খোঁচা দিয়ে গুঁতো দিয়ে অপমান করে অত্যাচার করে ক্রমাগতভাবে লোকজনকে দূরে সরাতে থাকেন এবং নিঃসঙ্গতার ফাঁদে পড়ে বাকি জীবনে অপমান আর্তনাদ অভিশাপ এবং ঘৃণার প্রতীক হিসেবে ভবলীলা সাঙ্গ করার জন্য এগোতে থাকেন।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য