শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৩ জুন, ২০১৮, ১২:৩২:৪৩

অনেক প্রশ্নের একটি অডিও

অনেক প্রশ্নের একটি অডিও

ঢাকা: টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক (৪৬) গত শনিবার র্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। তার মৃত্যু ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে চারটি ক্লিপ মিলিয়ে ১৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।

নিহত হওয়ার ঠিক আগে একরামুল হকের সঙ্গে তার দুই মেয়ে ও স্ত্রীর টেলিফোনে ‘শেষ কথোপকথনের’ রেকর্ডটি প্রকাশ করে পরিবার। এই অডিও রেকর্ড ইতোমধ্যেই

ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে গেছে। এটি ছড়িয়ে পড়ার পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকারকর্মীরা একরামের মৃত্যুর পুরো ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন।

১৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ওই অডিও রেকর্ডে কয়েকজনের কণ্ঠ, গুলির শব্দ আর চিৎকার শুনিয়ে একরামের স্ত্রী আয়েশা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামীকে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যা’ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অডিওর শুরুতে মেয়ের সঙ্গে একরামের কথা হয়, পরে তার নিজের সঙ্গে। এর পর ওপ্রান্তে গুলির শব্দ, পুলিশের সাইরেন, চিৎকার-হাঁকডাক ও গালাগাল এবং এই প্রান্তে নারী ও শিশুদের আহাজারি মিলিয়ে রোমহর্ষক এক পরিস্থিতির চিত্র পাওয়া যায় ওই অডিও রেকর্ডে।

আয়েশা সাংবাদিকদের বলেন, একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার বারবার ফোন পেয়ে গত ২৬ মে রাত ৯টার দিকে একরাম বাড়ি থেকে বের হন। রাত ১১টার সময় বাড়ি ফিরে না এলে মেয়ে সোয়া ১১টার দিকে তার বাবাকে ফোন করে। ওই সময় একরাম মেয়েকে জানান, তিনি একজন মেজর সাহেবের সঙ্গে হ্নীলা যাচ্ছেন, যে কথা অডিও ক্লিপটিতেও শোনা যায়।

শুরুর একটি ক্লিপে মেয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন একরাম। মেয়ের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি টিএনও অফিসে যাচ্ছি তো, আমি চলে আসব, আম্মু।

কতক্ষণ হবে? মেয়ের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বেশিক্ষণ লাগবে না। আমি চলে আসব, ইনশাআল্লাহ।’

স্বামীর খোঁজ নেওয়ার জন্য রাত ১১টা ৩২ মিনিটে আবারও ফোন করেন তার স্ত্রী আয়েশা। ওপাশ থেকে কিছু বিচ্ছিন্ন শব্দ ছাড়া কারো কথা শোনা যাচ্ছিল না। এ প্রান্ত থেকে আয়েশা ‘হ্যালো’ ‘হ্যালো’ করে যাচ্ছিলেন। আয়শা বলছিলেন, ‘হ্যালো!... হ্যালো! হ্যালো কে? আমি কমিশনারের (একরাম) সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছি। আমি ওনার মিসেস বলতেছি হ্যালো! হ্যালো...

ওপাশ থেকে একইভাবে কিছু শব্দ হতে থাকে অনুচ্চ স্বরে। হঠাৎ অস্ত্র লোড করার শব্দ এবং সঙ্গে সঙ্গে গুলি! একটি পুরুষ কণ্ঠের আর্তনাদ ‘ওহ’! এর পর আবার আরেকটি গুলি!

ফোনের এ প্রান্ত থেকে আয়েশা ও আল্লাহ... বলে বুকফাটা আর্তনাদ করে ওঠেন! একই সঙ্গে আরও শিশুকণ্ঠের কান্না শোনা যায়। আয়েশাকে বলতে শোনা যায়, আমার জামাই কিছু করে নাই, আমার জামাই কিছু করে নাই...। আমরা বিনা দোষী।

ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তখন ভেসে আসে হুইশেলের আওয়াজ। কিছু গালাগালের আওয়াজ। আর এ প্রান্ত থেকে আয়েশা বলে যাচ্ছিলেন, আমার হাজব্যান্ড কিছু করে নাই.... আমার হাজব্যান্ড কিছু করে নাই.....।

একরামের পরিবারের দেওয়া ওই অডিও সম্পর্কে তার বড় ভাই নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, একরামের ফোন খোলা ছিল বলে এ প্রান্তে পুরো ঘটনাপ্রবাহ রেকর্ড হয়েছে ফোনের অটোরেকর্ডারে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে একরামুল হকের স্ত্রীর অভিযোগ এবং প্রকাশিত অডিও রেকর্ডের বিষয়ে র্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান আমাদের সময়কে জানান, তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানসহ সব ধরনের অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের লাগাম টানতে হবে। বিনাবিচারে মানুষ হত্যার প্রতিটি ঘটনাই তদন্তের আওতায় আনতে হবে। যারাই এসব হত্যাকা-ের জড়িত, তাদেরও বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।

কাউন্সিলার একরামের মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি হত্যাকা-ই দুঃখজনক। তবে কিছু কিছু ঘটনা মর্মস্পর্শী হয়ে যায়। কাউন্সিলর একরামের মৃত্যুর ঘটনা তেমনই একটি মর্মান্তিক দুঃখজনক ঘটনা। তাই আমার মনে হয় নিহতের পরিবার যে অভিযোগ তুলেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। কেউ দোষী হলে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা হ্রাস পাবে।

আরেক মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, প্রচারিত অডিও ক্লিপটি আমি শুনেছি। কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যাকা- নিয়ে বারবার একই কথা বলে আসছি। প্রতিটি বন্দুকযুদ্ধের ব্যাপারে যেভাবে বলা হচ্ছে তাতে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, এগুলো ঠা-া মাথার খুন।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে একরামকে গুলি করা হয়েছে, তার পরিবারের সঙ্গে কথপোকথন হয়েছে, অডিও ক্লিপে যেভাবে শুনতে পেরেছি, তাতে স্পষ্ট মনে হয়েছে একটি মানুষকে গাড়িতে করে নিয়ে নিরিবিলি এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অডিও ক্লিপ যদি সত্য হয়, তা হলে এটা ঠা-া মাথার হত্যাকা-। এ ঘটনায় বিশ^াসযোগ্য তদন্ত হওয়া দরকার। প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
উৎসঃ   আস

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

 

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?