সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:০৮:৫৯

বিএনপির ৩৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

বিএনপির ৩৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

ঢাকা: বিএনপির ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৭৮ সালের এ দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। বেশ কয়েকবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসলেও বর্তমানে কিছুটা দুঃসময় পার করছে দলটি। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে দুই দফা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত নেতাকর্মীরা। তবে দল গুছিয়ে আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়াই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলটির জন্য মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন নীতিনির্ধারকরা। যদিও বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও সাদামাটাভাবেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন করা হয়েছে। অন্যান্য দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটেন কিন্তু এবার  লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকায় আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক কেক কাটা অনুষ্ঠান।

শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভোরে নয়াপল্টনসহ দেশের সব কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে শেরে বাংলানগরে জিয়ার মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হবে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার, লিফলেট ও গণমাধ্যমে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়।

৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, আজকের দিনটি আমাদের সবার জন্য আনন্দ ও প্রেরণার। ১৯৭৮ সালের এই দিনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি বিগত ৩৯ বছরে বার বার সকলের অংশগ্রহণমূলক জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে এবং দেশ ও জনগণের সমৃদ্ধি ও কল্যানে কাজ করে গেছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের এই প্রিয় দল অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি ৯ বছরের স্বৈরাচার বিরোধী গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের আন্দোলনেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি রাজপথে আপোসহীন অগ্রণী ভূমিকা পালন করে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়ার লক্ষ্যে বিএনপি ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনকালে সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশসহ দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিএনপির বলিষ্ঠ ভূমিকা জনগণ কর্তৃক সমাদৃত হয়েছে। এই কারনেই বিএনপি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। জনগণের আত্মবিশ্বাস অক্ষুন্ন রেখে দেশ ও জনগণের সেবায় বিএনপি আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে ইন্শাআল্লাহ।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ থেকে ৩৯ বছর আগে দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বিশ্বনন্দিত নেতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষকে একদলীয় দুঃশাসনের করাল গ্রাস থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দেশ, দেশের মানুষের উন্নয়ন এবং বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সৌহার্দ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপি’র ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মহান দিনে দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দলকে আরো গতিশীল করার ক্ষেত্রে মনেপ্রাণে কাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকার আহবান জানাচ্ছি। পাশাপাশি দেশবাসীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য উদ্ধাত্ত আহবান জানাই।”

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় রাজধানীর রমনা রেস্তোরাঁয় দলের প্রতিষ্ঠাতা সে সময়ের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির যাত্রা হয়। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় ২ ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ’র ওপর বিশ্বাস, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র (অর্থনৈতিক ও সমাজিক ন্যায়বিচারের অর্থে) এই ৪ মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটির লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্রায়ন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের মধ্যে স্বনির্ভরতার উত্থান ঘটানো। এগুলোর ভিত্তিতে জিয়াউর রহমান তার ১৯ দফা ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, বিএনপি গঠন করার আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল সে সময়ের উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে বিএনপি গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই জাগদল বিলুপ্ত ঘোষণা এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সব সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত বিএনপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়। গঠনের সময় থেকেই বিএনপি রাষ্ট্রপতি শাসন পদ্ধতির সরকার সমর্থন করে আসছিল।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে বিদ্রোহী সেনাদের হাতে দলটির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হলে সে সময়ের উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার বিএনপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি অসু¯’ হলে ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন বেগম খালেদা জিয়া। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ৩৩ বছর ৩ মাস ২২ দিন ওই পদে বহাল রয়েছেন তিনি। অবশ্য এর আগে ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। এরপর ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

প্রতিষ্ঠার পর দলটি ৪ দফা ক্ষমতায় ছিল। ২ দফা ছিল জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয়, ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ ও ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদে ছিল সরকারি দল। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদে ছিল বিরোধী দল। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয়, ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ এবং ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। তবে আগামী দিনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ নেবে বলে দলটি ইতোমধ্যে জানান দিয়েছে।



আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?