বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:২৬:৩২

নির্বাচন নিয়ে অশ্চিয়তা বাড়ছে, আগামী নির্বাচন কি আদৌ হবে !

নির্বাচন নিয়ে অশ্চিয়তা বাড়ছে, আগামী নির্বাচন কি আদৌ হবে !

ঢাকা: বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবখানেই এক ধরনের অস্থিরতার কারণে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বড় দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেকার রাজনৈতিক দূরত্ব এসব আলোচনার রসদ জোগাচ্ছে।

নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টির পথ তৈরির জন্য প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল বা জোট একে অপরকে দায়ী করছে। দেশে আরেকটি অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সুশীল সমাজ। বিবিসি সংলাপসহ বেসরকারি বিভিন্ন টিভি টকশোগুলোতে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচকরা এ এসব আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন।

রাজনীতির সুস্থ ধারাকে নস্যাৎ করার জন্য নানা নাটকীয়তার মধ্যদিয়ে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সৃষ্টি করা হয় ১/১১। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের একতরফা সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ওই দিন দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবরণে গঠিত হয় সেনা নিয়ন্ত্রিত ‘অন্তবর্তীকালীন সরকার’।

এবার বিশেষ করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বেড়েছে। রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংসদ ভেঙে দিয়ে সরকারকে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও শরীক দলের কোনো কোনো নেতা বিএনপির এ ইস্যুতে উসকানি না দেওয়ার পক্ষে। এসব নিয়ে দিন দিন ঘোলাটে হচ্ছে রাজনৈতিক পরিবেশ। সামনের দিনগুলোতে তা ভয়াবহতার দিকে মোড় নিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। তাদের মতে এর প্রভাব পড়তে পারে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতিকে বিতর্কিত করছেন। তারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতিকে বিতর্কিত করে আরেকটি অস্থিরতা তৈরি করছেন। তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ। তাই সরকার প্রধানের উচিত অবিলম্বে পদত্যাগ করে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসা। আলোচনার মধ্য দিয়ে যেকোনো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মত দেন তিনি।

এদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগও রাজনৈতিক অস্থিরতা কথা তুলে ধরছে। তবে এজন্য তারা বিএনপিকে দায়ী করছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি আন্দোলনের জন্য কোনো ইস্যুতে সফল না হয়ে নিত্য নতুন ইস্যু তৈরি করে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র বৈঠক হচ্ছে। রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিষাক্ত পরিবেশের উসকানি দিয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। আর এজন্য আগামী নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। এটি করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। যারা নির্বাচন চায় না তারাই এটি করছে।

এদিকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ায় উদ্বিগ্ন সিপিবি-বাসদ। বড় দল দুটির ‘দায়িত্বহীন আচরণ’ বাংলাদেশকে আবারও বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাম দল দুটির নেতারা।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এক বিবৃতিতে বলেছেন, একদিকে প্রধান বিচারপতির প্রতি সরকারি দল ও জোটের নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ, আন্দোলনের হুমকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অন্যদিকে রায় নিয়ে বিএনপি নেতাদের অকারণ উল্লাসও উদ্বেগজনক। দুই দলের নেতাদের এমন দায়িত্বহীন আচরণ দেশকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন



আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?