শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৭, ১১:০৪:১৮

যে কোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের সুপার ফাইভ কমিটি !

যে কোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের সুপার ফাইভ কমিটি !

ঢাকা: ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেনকে ৮ দিনের রিমান্ড শেষে আজ কোর্টে হাজির করে পল্টন থানা পুলিশ। এই ৮ দিন পল্টন থানাতেই রাখা হয় তাকে। অতীতে ছাত্রদল,যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে গ্রেফতারকৃত সকলকেই মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও এবার আকরামের ক্ষেত্র ঘটল ব্যতিক্রম। আকরামকে রিমান্ডের ৮ দিন পল্টন থানাতেই রাখা হয় ।

দলীয় সুত্র থেকে জানা যায়, ছাত্রদলের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে গভীরভাবে দৃষ্টি রাখছে হাই কমান্ড, অনেকটা গোপনে চলছে কমিটি গঠনের কাজ, যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছোট পরিসরের সুপার ফাইভ টাইপের কমিটি, যেটাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা দেয়া থাকবে।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভা থেকে ফেরার পথে প্রেসক্লাবের উল্টোদিকের রাস্তা থেকে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আকরাম। আলোচনা সভা শেষ হওয়ায় অনেক আগেই বিএনপির সিনিয়র নেতাদের রেখে তিন-চার জন দলীয় সহকর্মীকে নিয়ে একটি প্রাইভেট কারে করে প্রেসক্লাব থেকে বের হয়ে যান আকরাম, পরক্ষণেই রাস্তার ওপার থেকে তার গ্রেফতারের খবর আসে।

ছাত্রদল সুত্র জানায়, রাজিব-আকরাম কমিটি হওয়ার পর থেকে একটি বড় আন্দোলনসহ নানা কর্মসূচীতে বিএনপির অন্য অনেক নেতা গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ কারাবরণ করে্ন এবং এখনও সবাইকে ছুটির দিন ছাড়া প্রায় প্রতিদিনই কোর্টে হাজিরা দিতে হয় । কিন্তু আকরাম ৭০ টার মত মামলা মাথায় নিয়ে একবারও গ্রেফতার হননি, বরং ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নানা অনুষ্ঠানে এবং দলীয় কর্মকান্ডে পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে উপস্হিত থাকতেন। এটা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকদিন ধরেই একটা কানাঘুষা চলছিল।

এদিকে ছাত্রদলের বর্তমান কমটির মেয়াদ তিন বছর পেরিয়ে চার বছরে পা রাখলেও নতুন কমিটি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে নেতাকর্মীরা। পদপ্রত্যাশীরা নতুন কমিটির দাবীতে দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় ও নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্হান নেন বিভিন্ন সময়। সম্প্রতি তারা দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সাথে একযোগে দেখা করে কমিটির দাবী জানান। তাদের মতে, যে সময়ে নতুন কমিটির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বাকী নেতারা, তখনই কমিটি ঠেকাতে স্বেচ্ছায় গ্রেফতার হলেন আকরাম। ওই সময় তার গাড়িতে ছাত্রদলের আরো তিনজন থাকলেও তাদের গ্রেফতার না করে শুধু আকরামকে একা গ্রেফতার করা হয়েছে, এই সরকারের শাসনকালে একজনকে রেখে এভাবে বাকীদের ছেড়ে দেয়ার ঘটনা একেবারে নজিরবিহীন বলে জানান সংগঠনের নেতারা।

এদিকে তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে উত্তরবংগ ফোরাম আয়োজিত প্রেস ক্লাবের ওই অনুষ্ঠানে আকরামকে দাওয়াতই দেওয়া হয়নি বলে অনুষ্ঠান আয়োজকদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ছাত্রদলের মত বড় একটি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দাওয়াত না পেলেও কিভাবে এবং কি উদ্দেশ্যে একটা অনুষ্ঠানে হাজির হন, তা নিয়েও চলছে কানাঘুষা।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির এক সহসভাপতি বলেন, সেদিনই আমরা আলাপ করছিলাম যে আকরাম অ্যারেস্ট হয়ে যেতে পারে। কারণ, দীর্ঘদিন যাবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সাথে রাজনীতি করার কা্রণে তার ধাচটা আমরা জানি। নতুন কমিটি আটকানো বা বিলম্ব করার এটাই ছিল তার ট্রাম্প কার্ড।

ছাত্রদল সূত্র জানায়, আকরাম নিজেও নতুন কমিটির সভাপতি পদের প্রত্যাশী ছিল। কিন্তু উচ্চ পর্যায় থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে সে কমিটি আটকাতে গ্রেফতারকে বেছে নেন।

আকরামের ঘনিষ্ট একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে যে নতুন কমিটিতে আকরাম থাকতে পারবে না এটি নিশ্চিত হওয়ার পরই কমিটি আটকানোর শেষ প্রক্রিয়া হিসেবে স্বেচ্ছায় কারাবরন করে। তাছাড়াও গত কয়েক মাসে বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও থানা কমিটিতে পদ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার কথা আকরামের ঘনিষ্ঠ এক নেতার কাছ থেকে জানা গেছে। কিন্তু হাইকমান্ডন থেকে নতুন কমিটি ঘোষনার অনুমতি না পেয়ে টাকা নেয়ার দায় এড়ানোর জন্য জেলখানায় চলে যাওয়াই ভাল অজুহাত মনে করেছেন বলে জানা যায়।

সূত্র জানায়, আকরাম নরসিংদির শিবপুর থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাই এই সুযোগে মাস ছয়েক জেল খেটে সব মামলা থেকে জামিন নিয়ে খোশমেজাজে এলাকায় নির্বাচনী কাজ করতে পারবে, অন্যদিকে তার অনুপস্হিতিতে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি না হলে সে কারাগার থেকে ফেরত এসে আবার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

এদিকে আকরাম গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব‍‍্যক্ত করেছেন । বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা। তারা কিছু সময় পরিস্হতি পর্যবেক্ষণ ছাড়া এবং সাংগঠনিক স্হিতিশীলতার স্বার্থে এখনই নাম প্রকাশ না করে বলেন, দলের সাথে এত বড় প্রতারণা কেউ করতে পারে, তা অবিশ্বাস‍‍্য।

এদিকে বিএনপি দলীয় আইনজীবী সুত্রে জানা যায়, আকরামের ৭০ টার মত মামলার জামিন নিতে কম করে হলেও ছয় থেকে সাত মাস বা আরো অধিক সময় লাগতে পারে।

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?