বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:৫০:৫৫

জামায়াত নিয়ে উদ্বেগে বিএনপি

জামায়াত নিয়ে উদ্বেগে বিএনপি

ঢাকা: জেলার সাতটি আসনের মধ্যে শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৫ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলেই মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায়ও নেমে পড়েছেন বেশ আগেভাগেই।

আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি। সাবেক এক এমপিসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা কমিটির অন্তত সাতজন নেতা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হতে চাইছেন। নৌকা মার্কার কাণ্ডারি হিসেবে ভোটের মাঠে নেমেছেন বর্তমান এমপি ও সাবেক দু'জন উপজেলা চেয়ারম্যানসহ পাঁচ নেতা। এ দুই দলের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতাও প্রার্থী হওয়ার আশায় সক্রিয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে এ আসনে মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর এ প্রার্থী। এমন পরিস্থিতি হলে ভোটের লড়াইয়ে বাড়তি সুবিধা পাবে আওয়ামী লীগ। তাই এমন হওয়ার সম্ভাবনায় দুশ্চিন্তা বেশ অনেকটাই কেটে গেছে এ দলের। তবে এ নিয়ে উদ্বেগে আছে বিএনপি।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হচ্ছেন বর্তমান এমপি হাবিবর রহমান, শেরপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মজনু, ধুনট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান টিআইএম নুরুন্নবী তারিক, বগুড়ার শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমান উল্লাহ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপা।

বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, ধুনট উপজেলার চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম মামুন, শেরপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান হারেজ, শেরপুর পৌরসভার সাবেক দুই মেয়র জানে আলম খোকা ও স্বাধীন কুমার কুণ্ডু, মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিউজ্জামান খোকন এবং দলের জেলা সদস্য ব্যারিস্টার আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন।

বিএনপির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর উপজেলা কমিটির সাবেক আমির দবিবর রহমান। তিনি শেরপুর উপজেলার চেয়ারম্যান। জামায়াতে ইসলামী তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে।

বগুড়া-৫ আসনটি অধিকাংশ সময়ই বিএনপির দখলে ছিল। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির এই আসন চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে। বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হন 'এসপি হাবিব' নামে সমধিক পরিচিত আওয়ামী লীগের হাবিবর রহমান। ২০১৪ সালেও তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

হাবিবর রহমান আগামী নির্বাচনেও নৌকা মার্কার কাণ্ডারি হতে চাইছেন। তার সমর্থকদের দাবি, তার ব্যাপারে দলের হাইকমান্ড বরাবরই সহানুভূতিশীল। তাই তারই মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। হাবিবর রহমান বলেছেন, তার এলাকায় মাধ্যমিক কিংবা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। তিনি দুই উপজেলায় চারটি স্কুল ও কলেজ সরকারি করেছেন। পাশাপাশি আরও অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। তাই দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে মনে করছেন তিনি।

তবে হাবিবর রহমানকে ছাড় দিতে চাইছেন না দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু। শেরপুর পৌরসভার সাবেক এই মেয়র জানান, তারা নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছিলেন বলেই ২০০৮ সালে নৌকার বিজয় এসেছিল। তাই তিনি আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন চাইবেন। দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে আশা করছেন তিনি।

দলের ধুনট উপজেলা সভাপতি টিআইএম নুরুন্নবী তারিক বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে জেল-জুলম ও নির্যাতন সহ্য করে তিনি দলকে টিকিয়ে রেখেছেন। এখন তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে আরও বড় পরিসরে কাজে লাগাতে চাইছেন। তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

দলের জেলা সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আমান উল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘ দিন ধরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থেকে দল ও জনগণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইবেন।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌস রূপা বলেছেন, শেরপুর ও ধুনটের জনগণ আগামী নির্বাচনে নেতৃত্বের পরিবর্তন চাইছে। আর এ কারণেই তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

তবে আওয়ামী লীগের কব্জা থেকে আসনটি পুনর্দখলের লক্ষ্যে বিএনপির একাধিক নেতা নানা কৌশলে আগেভাগেই ভোটের ময়দানে নেমেছেন। তাদের মধ্যে তিন বারের এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের এগিয়ে থাকার কথা থাকলেও ওয়ান ইলভেনের প্রেক্ষাপটে সংস্কারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। অবশ্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের দাবি, এমপি থাকার সময় তিনি রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। নিজের একাধিক প্রতিষ্ঠানে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে জনকল্যাণমূলক কাজ করতে তিনি আবারও দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন।

দলের ধুনট উপজেলা সভাপতি তৌহিদুল আলম মামুন জানিয়েছেন, দলের চরম দুঃসময়ে তিনি তার সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আটকে রেখেছেন। নিশ্চয় হাইকমান্ড দলীয় মনোনয়নে তাকে মূল্যায়ন করবে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান হারেজ বলেছেন, এ আসনকে আওয়ামী লীগের কব্জা থেকে পুনর্দখলের লক্ষ্য নিয়ে তিনি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনিও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

দলের জেলা কমিটিরি উপদেষ্টা জানে আলম খোকার অভিযোগ, ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাকে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা হয়েছে। শেরপুর ও ধুনটের সিংহভাগ মানুষ বিএনপির ভক্ত। তারা তার সঙ্গেই রয়েছেন। তিনি দলের মনোনয়ন চাইছেন।

শেরপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক স্বাধীন কুমার কুণ্ডু জানিয়েছেন, এমপি পদে দলের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে তিনি নতুন দিনের সূচনা করবেন।

মনোনয়নের জন্য দলের হাইকমান্ডের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন শফিউজ্জামান খোকন। তিনি বলেছেন, 'আমি একবার সুযোগ চাইব। আশা করি, দল আমাকে সে সুযোগ দেবে।'

ব্যারিস্টার আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনও সুযোগ পেলে নতুন দিনের সূচনা করার কথা জানিয়েছেন। তিনিও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।সকা

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?