বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১০:৪৩:১১

স্থায়ী কমিটির পদ নিয়ে বিএনপিতে কানাঘুষা!

স্থায়ী কমিটির পদ নিয়ে বিএনপিতে কানাঘুষা!

ঢাকা: শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পদ। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যাদের অবদান রয়েছে, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কথার ধার রয়েছে এমন প্রজ্ঞাবানদের সেখানে দেখতে চান দলটির নেতা-কর্মীরা।

২০১৬ সালের ৬ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন ১৯ সদস্যের মধ্যে ১৭ ও ১৮ নম্বর ঘর ফাঁকা রেখে বাকি সদস্যদের নাম ঘোষণা হয়। ওই বছর ২৭ সেপ্টেম্বর আ স ম হান্নান শাহ এবং ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে আরো দুটি পদ ফাঁকা হয়। আপাততদৃষ্টিতে স্থায়ী কমিটিতে ৪টি পদ ফাঁকা থাকলেও এর কলেবর আরো বাড়তে পারে বলেও গুঞ্জন উঠছে।

বিএনপির শীর্ষ ফোরামে সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে আলোচনায় যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে এগিয়ে ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর বীর উত্তম।

দুই বারের কমিটিতে একই পদে রয়েছেন এমন একজন নেতা স্থায়ী কমিটির পদে সম্ভাব্য সদস্য নিয়ে বলেন, ‘বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। এটা অনেক বড়দের ব্যাপার। স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ভৌগলিক, শ্রমিক দল, মহিলা দল, যুবদল, ছাত্রদল কোটা হিসেবে পদ বণ্টনের ব্যাপার রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যুবদলের কোটায় মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্থায়ী কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন। ছাত্রদলের কোটায় সর্বোচ্চ ফোরামে কেউ থাকলে ছাত্রদল আরো চাঙা হতো। সালাহউদ্দিন আহমেদ এক সময় ছাত্রদল করলেও তার সঙ্গে ছাত্রদলের এখন অনেক দূরত্ব। সেক্ষেত্রে ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানকে স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব দেয়া হলে সারা দেশে ছাত্রনেতারা চাঙা হবে। বেগম সরোয়ারি রহমান বার্ধক্যে ভুগছেন। বেগম সেলিমা রহমানকে নেয়া হলে বরিশাল এবং ঢাকা অঞ্চল কাভার হবে। চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে আব্দুল্লাহ আল নোমান, তিনি শ্রমিক দলের রাজনীতি করতেন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘পেশাজীবীদের মধ্য থেকে আইন অঙ্গনের খন্দকার মাহাবুব হোসেন রয়েছেন। বিগত আন্দোলনে আইনজীবীদের পক্ষ থেকে তার ব্যাপক ভূমিকা ছিলো। লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান অসুস্থ, সেক্ষেত্রে মেজর (অব.) হাফিজ রয়েছেন। হাফিজের চেয়ে এক্ষেত্রে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বেটার। তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার আস্থা বিশ্বাসে এখনও চিড় ধরেনি। শাহজাহান ওমর বরিশাল অঞ্চল, আইন অঙ্গন, তিনি সামরিক বাহিনীতেও ছিলেন। তার বর্ণাঢ্যময় বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা।’

ঝালকাঠি জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ ব্যারিস্টার এস মিজানুর রহমান জানান, ‘বৃহত্তর বরিশালবাসীর প্রাণের দাবি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মেজর, ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দেখতে চাই।’

দলের মধ্যম সারির এক নেতা জানান, ‘স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর নামও শোনা যাচ্ছে। যাদের নাম শোনা যাচ্ছে এদের মধ্য থেকেই দায়িত্ব পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ আল নোমান মুক্তিযোদ্ধা, শ্রমিক নেতা, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তার। কিন্তু বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) তাকে মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে বলেন, কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালন না করে সিঙ্গাপুর চলে যান। তার প্রতি তো বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে। মেজর (অব.) হাফিজ একজন প্রজ্ঞাবান নেতা। তিনি খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে আরেক বিএনপি গড়ে তার অস্থায়ী মহাসচিব ছিলেন। শাহ মোয়াজ্জেমের দল বদলের নীতি।’

ওই নেতা জানান, ‘আব্দুল আউয়াল মিন্টুর নাম শোনা যাচ্ছে। ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে আগে তিনি যেমন সক্রিয় ছিলেন এখন তার তেমন প্রভাব নেই। মো. শাহজাহানের কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি তো বছর বছর ধরেও তৃণমূল পুনর্গঠন করতে পারছেন না। বরং তাকে ঘিরে নানা বিনিময়ের কথা শোনা যাচ্ছে। যারা আলোচনায় রয়েছে তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর পরিচ্ছন্ন।’

জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মো. সাইফ আলী খান বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যাদের অবদান রয়েছে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে তাদের দেখতে চাই। আমাদের প্রত্যাশা হবে, নেত্রী বিচক্ষণ, মেধাবী, যাদের কথার ধার রয়েছে। যাদের ঐতিহ্য রয়েছে, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। যারা সত্য কথা বলতে পারে, মিউ মিউ করে বিড়ালের মতো নয়, সিংহের মতো করে। তাদের দেখতে চাই। যারা ওখানে গেলে খালেদা জিয়ার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে পারবে। তাদের দেখতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, খন্দকার মাহাবুব হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানসহ বেশ কয়েকটা নামই গণমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে। যতই শুনি না কেন। নেত্রী যেটা করবেন আমাদের কাছে সেটাই গ্রহণযোগ্য।’

স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য সদস্য প্রসঙ্গে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মোবাইলে বেশ কয়েকবার কল দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য সদস্য প্রসঙ্গে আগেও আলোচনা শুনেছি, এখনও আলোচনা চলছে।’

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নাগালের বাইরে চলে গেছে। আপনি কি একমত?