মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, ১২:০৬:২৫

সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ঢাকা

সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ঢাকা

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে টানটান উত্তেজনা সারাদেশে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ অবস্থানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। রায়কে ঘিরে বিএনপি কোনও কর্মসূচি ঘোষণা না করলেও সহিংসতার আশঙ্কা মাথায় রেখেই আগামী কয়েকদিনের পরিকল্পনা সাজিয়েছে সরকার। নজরদারি, তল্লাশি, চলাচল ও সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ মিলিয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘেরাটোপে চলে এসেছে রাজধানী ঢাকা। এরইমধ্যে রাজধানীর সব বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন ও সদরঘাটে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। পাড়ায়-মহল্লায়ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন পক্ষের তৎপরতায় রায়ের একদিন আগে আজ বুধবার থেকেই ঢাকা মূলত সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

বিগত কয়েকদিনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতাকর্মীদের বক্তব্যে রায়কে ঘিরে বিএনপির কোনও ধরনের সহিংস কর্মসূচির আভাস পাওয়া যায়নি। তবু রায়ের পর তাৎক্ষণিক যেকোনও ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই তিনদিনকে বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে, বলে জানায় গোয়েন্দা সূত্রটি। এ কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সবগুলো রাষ্ট্র্রীয় সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হযেছে। রাজধানী ঘিরে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আজ বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে আগামী তিনদিন পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্র— এই তিনদিনকে বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় নিয়েছে রাষ্ট্রের অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। তাদের সঙ্গে সক্রিয় থাকবে গোয়েন্দারাও।

এরইমধ্যে মঙ্গলবার রাত থেকে রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশমুখে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। যানবাহনে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সেখানেও রয়েছে কড়াকড়ি। নগরীতে বাড়তি নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি টহলও জোরদার করেছে র‌্যাব। সারা শহরে সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থা করেছে সংস্থাটি। সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনার পাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।টঙ্গি, আমিনবাজার, যাত্রাবাড়ী ও পোস্তগোলায় ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবেশমুখের সবকিছু সদর দফতরে বসে দেখতে পারবেন কর্মকর্তারা। সে অনুযায়ী সেসব স্থানে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেবেন তারা। এছাড়াও মহানগরীতে প্রবেশ করা প্রতিটি পরিবহনে তল্লাশি করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, যাতে কোনও ‘দুষ্কৃতিকারী’ ঢাকায় প্রবেশ করে কোনও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে।

ঢাকার প্রবেশপথগুলো ছাড়াও পাড়া-মহল্লায় এবং বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। পুলিশের পাশাপাশি তৎপর রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছে তারা।

এদিকে, ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়ের দিন ঢাকার রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা বসে কোনও ধরনের মিছিল করা যাবে না বলে ৬ ফেব্রয়ারি ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। রাজধানীতে সব ধরনের লাঠি, ছুরি, চাকু বা ধারালো অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজধানীতে পুলিশের তল্লাশি

পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেকোনও মূল্যে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় পুলিশ সদর দফতর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সব রেঞ্জ ডিআইজি ও কমিশনারদের এ নির্দেশ দেন তিনি।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জানান, নাশকতা মোকাবিলার জন্য রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনালে (গুলিস্তান, মহাখালী, ফুলবাড়িয়া ও সায়েদাবাদ) গজারি নিয়ে অবস্থান নেবেন ১৫ হাজার মালিক-শ্রমিক। বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে তিনি বলেন, ‘মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতারা বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছেন। এ কারণে নিজেদের বাস নিরাপদ রাখার জন্য আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।রায়ে খালেদা জিয়ার জেল হলে বিএনপি যদি হরতালের ঘোষণা দেয়, তবুও বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানান খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। প্রতিটি বাসে অগ্নিনির্বাপক ও দুই বালতি বালু রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাস চলাচল বন্ধ হবে না। এমনকি দূরপাল্লার বাসও চলবে। তবে যত্রতত্র বাস রাখা যাবে না।

এদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ভালো থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারি দেশে কোনও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হতে দেবো না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের যা যা করার তাই করবে।

এদিকে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চার শতাধিক কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। যদিও পুলিশ বলছে, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। তবে তা অস্বীকার করে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ সরকারের ইচ্ছেমতো সারাদেশে গণগ্রেফতার চালাচ্ছে।

রাজধানীতে পুলিশের তল্লাশি

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার ফেরার পথে আটক দুই কর্মীকে প্রিজন ভ্যান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান বিএনপিকর্মীরা। এ সময় পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তা রাস্তায় ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বিষয়টি।

এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, রায়ের পর বিএনপিকর্মীরা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে তা ঠেকাতে আওয়ামী লীগ নয়, রাস্তায় নামবে পুলিশ। জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে যা করণীয়, তা পুলিশই করবে।তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আজ (৬ ফেব্রুয়ারি) থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সতর্ক থাকবে। দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবো আমরা।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?