শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ১১ মার্চ, ২০১৮, ০৯:৪৪:৪১

ক্ষমতাসীনদের দাপটে বিরোধীরা দিশেহারা

ক্ষমতাসীনদের দাপটে বিরোধীরা দিশেহারা

ঢাকা: বিগত সময়ে নির্বাচনী বছরে সরকার কিছুটা নমনীয় থাকায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন ইসু্যতে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার সুযোগ পেলেও এবারের পরিবেশ ও পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার ক্ষমতাসীনদের দাপটে বিরোধীরা রাজপথে নামা তো দূরে থাক, একেবারে দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে। শাসকদল একাই মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিগত সময়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন করতে হতো বলে মেয়াদের শেষ বছরে সরকারি দল বিভিন্ন চাপের কারণে নমনীয় আচরণ করত এবং নির্বাচনে জয়ের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনে বেশি মনোযোগী হতো। আর দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না হওয়ায় বিরোধী দলগুলোও জোরেশোরে মাঠে নেমে পড়ত। এ পরিস্থিতিতে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত্ম প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে বিরোধীরাই জয়লাভ করেছে।

তবে এবারের পরিস্থিতি যে ভিন্ন তা সরেজমিন অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নির্বাচনের এখনো ১০ মাস বাকি থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ দখলে রেখেছেন। আর সরকারবিরোধী দলগুলো নির্বাচনী প্রচারণা তো দূরে থাক, সাধারণ সভা-সমাবেশও করতে পারছে না।

বিশেস্নষকদের মতে, বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যে ধরনের চাপে রয়েছে, নির্বাচনী বছরে অতীতে কোনো প্রধান বিরোধী দল এমন চাপে ছিল না।

বিগত নির্বাচনী বছরগুলোতে দেখা গেছে, বিরোধী দলগুলো মাঠ দাপিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ইসু্যতে রাজপথ গরম করে সরকার ও সরকারি দলকে চাপে ফেলে দিত। শেষ সময়ে আন্দোলনের বাইরেও সরকারি দল নানা কারণে চাপে থাকত, ফলে বিরোধীদের কিছুটা ছাড় দিতে বাধ্য হতো। এ ছাড়া প্রশাসনও শেষ সময়ে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছে।

জানা গেছে, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত্ম নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কোনো দল জয়লাভ করেনি। ১৯৯৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থেকে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলেও সংসদের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১২ দিন।

এবারের নির্বাচনী বছরে মাঠপর্যায়ে বিরোধী দল-বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ কারও কোনো উপস্থিতি নেই। প্রচারণা কিংবা আন্দোলনে কেউ মাঠে নামতে পারছে না। এমনকি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোও প্রচারণায় নামেনি এখনো। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অবস্থানও নাজুক। সরকারবিরোধী আন্দোলন নয়, ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণে ব্যস্ত্ম তারা।

এ অবস্থায় সরকার রয়েছে শক্ত অবস্থানে আর বিরোধীরা ভয়ের বাতাবরণে। আওয়ামী লীগ এককভাবে মাঠ দখল করে থাকলেও বিরোধীদের কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। প্রশাসনও সরকারবিরোধীদের কোনো ছাড় দিচ্ছে না। বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে পুলিশ।

এ ছাড়া বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলো দর-কষাকষিতে শক্ত অবস্থানে থাকলেও এবার তারাও সরকারের রোষানলে পড়ার ভয়ে অনেকটা নীরব। আগে নির্বাচনী বছরে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ছোট দলগুলোর কদর বাড়ত; কিন্তু এবার পরিস্থিতি উল্টো।

এ ছাড়া সরকারকে চাপ দিয়ে যেসব দাবি আদায়ের আন্দোলন হচ্ছে তাদেরও সুর পাল্টে গেছে। তারা বিগত সময়ে সরকারের সমালোচনা করা এবং ভোট না দেয়ার কথা বললেও এবার সব দাবি আদায়ের আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছেন। তারা যে দল বা মতাদর্শের হোক না কেন কেউই সরকারবিরোধী কোনো কথা বলছেন না।

রাজনৈতিক বিশেস্নষকদের মতে, এ রকম পরিস্থিতি তৈরি হওয়া মানে রাজনৈতিক সংকট বিরাজ করা। আর এর কারণ হলো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে সবসময় ক্ষমতাসীনরা এগিয়ে থাকে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও যার প্রভাব দেখা যায়।

অতীতে যেসব নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হয়েছে সেখানে বিরোধী দলগুলোকে কোণঠাসা অবস্থায় দেখা গেছে এবং যেসব নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হয়নি সেখানে সরকারি দলকে চাপে থাকতে দেখা গেছে। সে হিসেবে দলীয় সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন হলে সেখানে ক্ষমতাসীনরা বিশেষ সুবিধা পাবে এবং বিরোধীরা চাপে থাকবে।

এ ছাড়া দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপির আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষমতাসীনরা এবার অনেক শক্ত ও অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে। তারা বিএনপিকে কোনো ছাড় দেবে না।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক নুরম্নল আমিন ব্যাপারী বলেন, অন্য যে কোনো নির্বাচনী বছরের তুলনায় এবার রাজনৈতিক চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অতীতে নির্বাচনের আগমুহূর্তে কোনো বিরোধী দল বিএনপির মতো চাপে থাকেনি। সরকারি দলকে চাপে থাকতে দেখেছেন। ফলে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত্ম ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেনি।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ যায়যায়দিনকে বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত্ম দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়নি। বিএনপির অধীনে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলেও তারা টিকতে পারেনি আওয়ামী লীগের আন্দোলনের কারণে। সে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর ভরসা করে বিরোধী দল আন্দোলন জমিয়ে তুলত। সরকারি দলও খুব একটা কঠোর হতে পারত না; কিন্তু বর্তমানে নিজেদের সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় আওয়ামী লীগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?