সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১২ মার্চ, ২০১৮, ০৬:১২:০১

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেও বাধা, কোন পথে এগোচ্ছে বিএনপি

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেও বাধা, কোন পথে এগোচ্ছে বিএনপি

ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার পর তার মুক্তির দাবিতে গত এক মাসে বিভিন্ন ভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের চেস্টা করেছে দলটি। বিএনপি আগেই ঘোষণা দিয়েছিল এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে । তবে বিএনপির কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলেও ঢাকাসহ দেশের কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার পাশাপাশি মারমুখী ছিল পুলিশ। তাই প্রশ্ন উঠেছে কোন পথে এগোচ্ছে বিএনপি, আর সে পথে খালেদার মুক্তি ও আগামী নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়া কতটা সহজ হবে দলটির জন্য?

চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে ঘোষিত পাঁচ দিনের প্রথম কর্মসূচি পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়েছে। ঢাকায় সমাবেশ করার জন্য তিন দফা স্থান বরাদ্দ চেয়েও অনুমতি পায়নি দলটি। ঢাকার বাইরেও সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন দলটির নেতারা। তবে শনিবার ১০ই মার্চ খুলনার কেডিঘোষ রোড সমাবেশ করেছে দলটি।

খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পরদিন গত ৯ই ফেব্রুয়ারি বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ করে বিএনপি। ১০ই ফেব্রুয়ারি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটক থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে মিছিলটি দৈনিক বাংলা মোড় অতিক্রম করে ফকিরাপুল পানির ট্যাংকের কাছে এলে পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে যায়।

গত ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, ১৩ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি। ১৪ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।

কর্মসূচিতে কিছুটা পরিবর্তন এনে ১৭ই ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করে।

১৮ই ফেব্রুয়ারি সারা দেশে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়। ২০শে ফেব্রুয়ারি ফের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

২২শে ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি গ্রহন করে।

২৪ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে যায়। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ডাকা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ওই দিন হঠাৎ পুলিশ নেতা-কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। আটক করা হয় প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মীকে।

এসময় গরম পানিতে আক্রান্ত হন মহাচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন থানায় প্রতিবাদ মিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে ১লা মার্চ সারা দেশে লিফলেট বিতরণ করে বিএনপি।

৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে আটক করা হয়। ওই দিন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অস্ত্র উঁচিয়ে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে শফিউল বারীকে আটকের ঘটনা ব্যাপক আলোচনায় আসে।

গত বুধবার ৭ই মার্চ দলের জ্যেষ্ঠ সাত নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। কারাগারে তাঁর সঙ্গে দেখা করে এসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘কোনো উসকানিতে’ পা না দিয়ে ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা পেয়েছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার ৮ই মার্চ সারা দেশে এক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি ছিল। ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়। এসময় বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি থেকে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম মিজানুর রহমানকে আটক করে পুলিশ ।

এছাড়া শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল দলটির। বিক্ষোভের তেমন কোন খবর না আসলেও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কাক ডাকা ভোরে পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল করেন। ভোর সাড়ে ছয়টার সেই মিছিলে মাত্র ১০ থেকে ১৫ জন নেতা-কর্মী ছিলেন। তাছাড়া কয়েক মিনিট পর রিজভী নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে যান । তিনি এসময় বলেন, তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তিনি বেশিক্ষণ মিছিল নিয়ে বাইরে ছিলেন না।

এছাড়া আজ শনিবার খুলনায় সাবেশ করেছে বিএনপি, এসময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ , ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ, নজরুল ইসলাম খান ও বরকত উল্লাহ ভুলু উপস্থিত ছিলেন।

১২ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তবে এখনো অনুমতি পায়নি তারা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না পেলে ঢাকার আশপাশের কোনো এক জেলায় সমাবেশ করার চিন্তা করছে বিএনপি।

তবে সমাবেশের অনুমতি চাইতে ৮ই মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে যান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। ডিএমপি থেকে বেরিয়ে আতাউর রহমান ঢালী বলেন, অনুমতির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি পুলিশের পক্ষ থেকে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কৌশলগত কারণে আপাতত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখলেও পরিস্থিতি বুঝে অন্য কৌশলে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। দলটির নেতা-কর্মীদের বিশ্বাস, আইনি লড়াই ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ তৎপরতা চালিয়েছে বিএনপি। ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করার পাশাপাশি জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও রাষ্ট্রের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরাতো শান্তিপূর্ণ আন্দোলই করতে চাই , কিন্তু তাও পারি না। তিনি আরো বলেন, আমাদের আজকের খুলনার সমাবেশ সফল হয়েছে, সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে। চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বেড়েছে। আমরা আগামী দিনেও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে চাই।শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশনেত্রী মুক্তি পাবেন।

এছাড়া খালেদার জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, এধরনের (৫ বছরের কারাদণ্ড)রায়ে অধিকাংশই জামিন পায়, তাছাড়া তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তার বয়স এবং শারিরিক অসুস্ততা বিবেচনা নিয়ে তিনি রোববার জামিন পাবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হয় খালেদা জিয়ার। বর্তমানে তিনি পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

 

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?