শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৬ এপ্রিল, ২০১৮, ১১:১৬:১৯

যে ৪ বাঁধায় আটকে আছে খালেদার মুক্তি

যে ৪ বাঁধায় আটকে আছে খালেদার মুক্তি

ঢাকা: বেগম জিয়ার ‘অসুস্থতা’ নাটক শেষ হয়েও হচ্ছে না। কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসনের প্যারোলে মুক্তি আটকে আছে সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায়। সমঝোতা কবে, কীভাবে চূড়ান্ত হবে তা নিয়ে পাওয়া যাচ্ছে নানামুখী বক্তব্য। ব্যক্তিগত পছন্দের চিকিৎসকরাও সাক্ষাৎ করতে পারছেন না, সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায়। আবার বেগম জিয়া পুত্রবধূ, ভাইবোন দুদফা সাক্ষাৎ করলেও তারা বেগম জিয়ার অসুস্থতার ধরন এবং মাত্রা নিয়ে কোনো কথাই বলছেন না। বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা নিয়ে সরকার লুকোচুরি করছে। তাঁর সুচিকিৎসার উদ্যোগ নিচ্ছে না।’ কিন্তু এর জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘অসুস্থতার খবর আমাদের কাছে কেন বিএনপি নেতাদের জানতে হবে। বেগম জিয়ার আত্মীয়রা তো বুধবারও দেড় ঘণ্টা জেলখানায় কথা বলে এসেছেন। তাদের কাছেই তো ফখরুল সাহেব সব খবর পেতে পারেন।’ ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে কি বেগম জিয়ার আত্মীয়রা বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস করেন না?’

জেল কর্তৃপক্ষ সূত্রেও জানা গেছে, বেগম জিয়া এখনই তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন না। আইনজীবী, দলীয় লোকজন থেকে তিনি এখন দূরত্ব রাখতে চাইছেন। নিকটাত্মীয় ছাড়া কারও সঙ্গেই তিনি সাক্ষাৎ করছেন না। আর সমঝোতার স্বার্থে বেগম জিয়ার আত্মীয়রাও কারও সঙ্গেই কথা বলছেন না।

একাধিক সূত্র বলছে, ৪ টি বিষয় মীমাংসা না হওয়ায় সমঝোতা আটকে আছে। প্রথমত, বেগম জিয়া চাইছেন, তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বিদেশ গেলে তাঁর সব মামলার কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। কিন্ত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মামলার কার্যক্রম আদালতের বিষয়। রাজনৈতিক সমঝোতায় আদালতের কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। কারণ আদালত স্বাধীন। বিশেষ করে, সরকার জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলার আপিল নিষ্পত্তি চূড়ান্ত করতে চায় তাড়াতাড়ি। সমঝোতার দ্বিতীয় বাধা হলো নির্বাচন। বেগম জিয়া প্যারোল নিয়ে বিদেশে যাবেন, নির্বাচন পর্যন্ত বিদেশে থাকবেন, এ পর্যন্ত ঠিকই আছে। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন চান নির্বাচনের পর তিনি দেশে আসবেন এবং বিএনপির যেকোনো এমপির ছেড়ে দেওয়া আসনে উপ-নির্বাচন করবেন।

কিন্ত সরকারের অবস্থান হলো: তিনি (বেগম জিয়া) নির্বাচনের অযোগ্য হন আদালত থেকে, তাহলে কীভাবে তাঁকে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হবে। সমঝোতার তৃতীয় বাধা হলো তারেক জিয়ার দেশে ফেরা। বেগম জিয়া চাইছেন তারেক দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তাঁকে ইনডেমনিটি দেওয়া হবে। কিন্তু এমন প্রস্তাবে সরকার একদমই রাজি নয়। সমঝোতার শেষ বাধা হলো বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা। বেগম জিয়ার দাবি হলো, নির্বাচনের আগে সব মামলা তুলে নিতে হবে। সরকারের অবস্থান হলো, মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এর সঙ্গে নির্বাচনকে যুক্ত করাটা সঠিক হবে না।

তবে যাঁরা সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে তারা আশাবাদী। তাঁদের মধ্যে বেগম জিয়া যখন বিদেশ যেতে রাজি হয়েছেন, তখন বাকি বাধা গুলো সহজেই কেটে যাবে। জিয়া পরিবারের সূত্রও বলছে, শিগগিরই সমঝোতার ফলাফল দৃশ্যমান হবে।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?