শুক্রবার, ২০ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:৫০:৫৭

ভোটের হাওয়া যশোর-৫: আ'লীগে মুখোমুখি দুই ভাই বিএনপির অস্বস্তি ২০ দল

ভোটের হাওয়া যশোর-৫: আ'লীগে মুখোমুখি দুই ভাই বিএনপির অস্বস্তি ২০ দল

ঢাকা: অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট হয়ে উঠেছে মনিরামপুর আওয়ামী লীগে। নেতাকর্মীরা দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে। সম্প্রতি কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর পর কোন্দল খানিকটা কমলেও থামছে না কাদা ছোড়াছুড়ি। মনোনয়নপ্রত্যাশী এক ডজন নেতার মধ্যে বিশেষত দুই সহোদরের মুখোমুখি অবস্থান ভাবাচ্ছে পর্যবেক্ষকদের।

অন্যদিকে বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকা দীর্ঘ না হলেও তাদের মূল অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলাম। ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের স্বার্থে অতীতে যশোর-১ এবং যশোর-২ আসনের মতো যশোর-৫ আসনও শরিকদের ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। আগামী নির্বাচনেও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মওলানা মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস। তিনি এ আসন থেকে একাধিকবার সাংসদ হয়েছেন। ২০ দলীয় জোটের স্বার্থে আগামী নির্বাচনেও তাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করছেন তিনি। আবার জামায়াতে ইসলামীও জোরেশোরে আসনটি দাবি করছে। দলটির শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগও শুরু করেছেন।

জাতীয় পার্টির দু'জন নেতা এ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অবশ্য তাদের নিয়ে ভীতি নেই আওয়ামী লীগে। দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা 'ভাগ্যের শিকা' নিজের অনুকূলে নিতে মাঠ পর্যায়ে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। যোগাযোগ রাখছেন দলের হাইকমান্ডের সঙ্গেও। আর 'মামলার পাহাড়' মাথায় নিয়েও বসে নেই বিএনপিসহ তাদের জোট শরিকরা। তারাও সমানতালে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মনিরামপুরের ১৭টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত যশোর-৫ আসনে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৩ হাজার ৯৯৩ জন। ১৯৭৯, ১৯৮৬. ১৯৮৮ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হতে পারেননি। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী ও তিনবারের এমপি খান টিপু সুলতানকে হারিয়ে এখানে বিজয়ী হন বিদ্রোহী প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য্য। পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতে বিভিন্ন সময় অভ্যন্তরীণ কোন্দল এ আসনে নৌকার হেরে যাওয়ার অন্যতম কারণ। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় স্বপন ভট্টাচার্য্যকে দল থেকে বহিস্কার করা হলেও সম্প্রতি তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খান টিপু সুলতান মারা যাওয়ায় আগামী নির্বাচনে নিজেকে নৌকা প্রতীকের প্রধান দাবিদার মনে করছেন বর্তমান এমপি স্বপন ভট্টাচার্য্য। তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগও করছেন।

স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, তিনি কখনও দলের বাইরের কেউ নন। এমপি হিসেবেও তিনি সব সময় দল ও এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে হাইকমান্ডের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।

তবে বর্তমান এমপির জন্য বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াতে পারেন তারই সহোদর অ্যাডভোকেট পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য গত দুই নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না চাইলেও আগামী নির্বাচনে শক্ত দাবিদার হবেন। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হওয়ায় তাকে ঘিরে এই নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য বলেন, তিনি দলের মনোনয়ন চাইবেন। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে প্রার্থী হবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, তিনিসহ অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তার মানে এই নয় যে, মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। আওয়ামী লীগ বড় দল। একাধিক নেতা মনোনয়ন চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন, নেতাকর্মীরা তার পক্ষেই থাকবেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৬ সালে তাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের কারণে সেই নির্বাচন বানচালের পর মনোনয়ন পান খান টিপু সুলতান। তার মৃত্যুর পর এ আসনে তিনিই মনোনয়নের প্রধান দাবিদার। তার ভাষায়, বর্তমান এমপি স্বপন ভট্টাচার্য্য আওয়ামী লীগকে ক্ষয়িষ্ণু করার জন্য বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে যেভাবে আশকারা দিয়েছেন, তাতে আওয়ামী লীগের ৯০ ভাগ নেতাকর্মী তার পক্ষে নেই।

মনিরামপুর উপজেলার চেয়ারম্যান ও দলের সহসভাপতি আমজাদ হোসেন লাভলু আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইবেন। তার কথা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললে তিনি নির্বাচন করবেন। আর দলের মনোনয়ন না পেলেও নৌকা প্রতীকের পক্ষে থাকবেন।

জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরছেন। এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে মনোনয়ন দিলে প্রার্থী হবেন।

এদিকে খান টিপু সুলতানের অনুসারীরা তার স্ত্রী অধ্যাপক ডা. জেসমিন আরা বেগমকে প্রার্থী করানোর জন্য সভা-সমাবেশসহ গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তাদের বিশ্বাস, খান টিপু সুলতানের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে অধ্যাপক ডা. জেসমিন আরা বেগমই দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন। অধ্যাপক ডা. জেসমিন আরা বেগমও এই আশা নিয়ে সবাইকে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

এক সময়কার তুখোড় ছাত্রনেতা আবদুল মজিদ বলেন, জনপ্রতিনিধি না হয়েও তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে মনিরামপুরের ৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছেন। ১৫২টি মাধ্যমিক ও ১৩২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন করেছেন। তিনি সব সময়ই মানুষের জন্য কাজ করেছেন। কখনও দুর্নীতি ও গ্রুপিং করেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যশোরকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি প্রার্থী হতে চাইছেন।

কামরুল হাসান বারী জানান, মনিরামপুরে দলের নির্যাতিত ও অবহেলিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় দলকে এক কাতারে দাঁড় করাতে এ আসনে তার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি দাবি করেন।

এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ইউনুচ আকবর ও মেজর (অব.) মোস্তফা বনি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের প্রত্যাশায় নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন দলের মধ্যে প্রায় একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে স্বল্প ভোটে পরাজিত এই নেতা আগামী নির্বাচনেও ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

যশোর নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু বলেন, তার বাবা আফসার আহমেদ সিদ্দিকী এই আসনে একাধিকবারের এমপি। বাবার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দলের মনোনয়ন চাইলে তা অযৌক্তিক হবে না বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মুছা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি) যোগ দিলেও পরে দলে ফিরেছেন। তবে ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও জয় পাননি। তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

ছাত্রদলের সাবেক নেতা ইফতেখার সেলিম অগ্নিও আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?