সোমবার, ২৩ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৮, ১১:৫৬:৫৪

১০ এমপির এলাকায় ডুবেছে নৌকা

১০ এমপির এলাকায় ডুবেছে নৌকা

ঢাকা: সদ্য অনুষ্ঠিত ৫৫ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ২৪টিতে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। অধিকাংশ এলাকায় দলীয় কোন্দলে নিজ দলের বিদ্রোহী অথবা বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরেছেন নৌকা মার্কার প্রার্থীরা। এমন পরাজয়ে নড়েচড়ে বসেছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি করে দিয়েছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনে দলের ১০ সংসদ সদস্যের এলাকায় পরাজিত হয়েছেন প্রার্থীরা। দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার লক্ষ্যে অভিযুক্ত এমপিদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের পরাজয়ে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত দলের সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ বিষয়ে কঠোর মনোভাব দেখান। তিনি বলেছেন, যাদের কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব এমপির কারণে নৌকা ডুবেছে, আগামী নির্বাচনে তারা দলের মনোনয়ন পাবেন না। সদ্য অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সুপ্রিমকোর্ট বার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানের লক্ষ্যে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর নেতৃত্বে চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। এ ছাড়া দলের ৮ সাংগঠনিক সম্পাদককেও নির্দেশ দিয়েছেন নিজ নিজ বিভাগের স্থানীয় নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট জমা দিতে। ইতোমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তদন্তের কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ গত রবিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে আবার এ বিষয়ে হুশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে গাজীপুর ও খুলনার নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যারা কাজ করেছেন, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলাপকালে গাজীপুরের নেতারা সর্বশেষ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভাওয়ালগড়, পিরুজালী ও মির্জাপুর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের নেপথ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপি অ্যাডভেকেট রহমত আলী ও তার ছেলেকে অভিযুক্ত করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির প্রধান কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, সুপ্রিমকোর্ট বার নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমাদের দলের প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ চিহ্নিতের কাজ শুরু হয়েছে। চলছে ধারাবাহিক বৈঠকও। তিনি বলেন, অনেক এলাকায় দেখা গেছে আমাদের দলের এমপিরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছেন। ফলে আমাদের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। যাদের কারণে দলীয় প্রার্থীরা হেরেছেন, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, সর্বশেষ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আপাতত কাজ করছি আমরা।

জানতে চাইলে কমিটির অপর সদস্য আওয়ামী লীগের অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান  বলেন, পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান চলছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতে পারব।

একই বিষয়ে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের যেসব নেতা এবং এমপি দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তাদের বিষয়ে রিপোর্ট চেয়েছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। কাজ চলছে। সময়মতো আমরা রিপোর্ট জমা দেব।

নির্বাচন কমিশন এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৩০টিতে, বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন ১১টিতে, দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে হেরেছেন ১০টিতে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরেছেন ৩টিতে; এর মধ্যে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে একটি ইউনিয়নে, ইউপিডিএফ ও জেএসএস প্রার্থীর কাছে ২টিতে। নির্বাচন স্থগিত রয়েছে একটি ইউনিয়নে।

আমাদের সময়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সর্বশেষ নির্বাচনে যেসব এমপিদের এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন, তারা হলেন ফরিদপুর সদরের এমপি এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গাজীপুর সদরের একাংশের এমপি অ্যাডভেকেট রহমত আলী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের এমপি মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী, খাগড়াছড়ির এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার এমপি মাহবুব তালুকদার, নরসিংদীর শিবচরের এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, টাঙ্গাইল ঘাটাইলের এমপি আমনুর রহমান খান রানা, সদর উপজেলার এমপি ছানোয়ার হোসেন, কালিহাতি উপজেলার এমপি হাছান ইমাম খান এবং চুয়াডাঙ্গা জীবননগরের এমপি আলী আজগর টগর। এ ছাড়া বগুড়ার কাহালু উপজেলার যে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন, সেখানকার সংসদ সদস্য ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একেএম রেজাউল করিম তানসেন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেসব এমপির এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন, সেসব এমপির সবাই যে অভিযুক্ত তা কিন্তু নয়। অনেক এলাকায় হয়তো দেখা যাবে এমপি নয়, দলের নেতাদের কারণে হেরেছে প্রার্থীরা। তাই দলীয় সভাপতির নির্দেশে পরাজয়ের কারণগুলো বিশ্লেষণ করে নেপথ্যে যারা জড়িত, তাদের নাম চিহ্নিত করবে আওয়ামী লীগের তদন্ত কমিটি এবং দলের সাংগঠনিক সম্পাদকরা।

দলটির নেতারা আরও জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা একচেটিয়া বিজয়ী হলেও দিন যত যাচ্ছে ততই পরাজয়ের পাল্লা ভারী হচ্ছে। তাদের মতে, টানা ৯ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। যে কারণে স্থানীয় সব নির্বাচনেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বাগে আনতে হিমশিম খাচ্ছে আওয়ামী লীগ। কিছু এলাকায় বিদ্রোহীদের বসাতে পারলেও অনেক এলাকায় স্থানীয় এমপি বা প্রভাবশালী নেতাদের কারণে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসাতে সফল হচ্ছে না। ফলে নির্বাচনে দলের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের হারিয়ে অন্যরা বিজয়ী হয়ে যাচ্ছে। আগামীতে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে শৃঙ্খলা জোরদার করার লক্ষ্যে বিদ্রোহীদের মদদদাতা এমপি ও নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে এমনটি নির্দেশনা দিয়েছেন।
উৎসঃ   আস

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?