সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ১২ মে, ২০১৮, ১১:১৪:২৭

ছাড় না দিয়েই বিএনপিকে চায় আওয়ামী লীগ

ছাড় না দিয়েই বিএনপিকে চায় আওয়ামী লীগ

ঢাকা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করুক এমনটা চাইলেও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বা নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে কোনো ছাড় না দেয়ার সিদ্ধান্তে অনড় আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে রাজনীতি বা নির্বাচনী মাঠে দলীয়ভাবেও বিএনপিকে ‘বাড়তি সুবিধা’ দিতে নারাজ ক্ষমতাসীনরা। এসব বিষয়ে নিজেদের পূর্বের অবস্থানেই রয়েছে দলটি। আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, তারাও চান বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিক। কিন্তু ‘বাড়তি সুযোগ বা ছাড়’ দিয়ে তাদের নির্বাচনে আনতে কোনো ধরনের পদক্ষেপ তারা নেবেন না।

আওয়ামী লীগ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে তারা দুই ধরনের চিন্তা করছেন। একদিকে নির্বাচন সর্বজন স্বীকৃত করতে বিএনপির অংশগ্রহণ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আবার বিএনপি নিজেদের স্বার্থেই নির্বাচনে আসবে এমনটাও মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। ফলে বিএনপি নির্বাচনে আসুক সেটা চাইলেও তারা যেসব দাবি করে আসছে, সে ব্যাপারে আপাতত কোনো ছাড় দেয়ার চিন্তা নেই ক্ষমতাসীনদের।

এ বিষয়ে সম্প্রতি গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কোনো দল নির্বাচনে আসবে কি আসবে না সেটা তাদের ব্যাপার। নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্র। কেউ না এলে তো বলতে পারি না, ধরে জেলে নেব। কোন পার্টি নির্বাচন করবে আর কোন পার্টি নির্বাচন করবে না, সেটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। একজনের দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর আমরা তো আর চাপিয়ে দিতে পারি না যে, তোমাদের নির্বাচন করতেই হবে। না করলে তোমাদের ধরে নিয়ে যাব জেলে। জানা গেছে, সংবিধানে সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুই ধরনের বিধান রয়েছে। একটি হচ্ছে চলমান সংসদের মেয়াদ অবসানের ক্ষেত্রে এবং অন্যটি মেয়াদ পূর্তির আগেই সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে। সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে- ‘(ক) মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে, এবং (খ) মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।’ সংবিধানের এই বিধান মতে, বর্তমান দশম সংসদের মেয়াদপূর্ণ করলে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে যে কোনো দিন ভোট হতে হবে।

এদিকে সংবিধান থেকে বাতিল হয়ে যাওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনে তার অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। এই দাবিতে অনড় থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা অংশ নেয়নি। সে সময় নির্বাচন বন্ধ ও পরে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলনও করেছে দলটি। এরপর দলটি তাদের অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তোলে। যদিও সহায়ক সরকারের ধারণা বা রূপরেখা এখনো বিএনপি তুলে ধরতে পারেনি। কিন্তু তাদের সেই দাবিও শুরু থেকেই নাকচ করে আসছে আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে সংবিধানের বাইরে ‘একচুলও’ না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় দলটি। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বতোভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অক্টোবরেই হবে নির্বাচনকালীন সরকার। কারণ ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণার কয়েক দিন আগেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভার আকার ছোট করা হবে।

বিএনপিকে নির্বাচনে আসার সুযোগ দিতে আওয়ামী লীগ কতটা আন্তরি- এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী মানবকণ্ঠকে বলেন, আন্তরিকতা ও উদারতা নিয়েই দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ২০১৩ সালে শেখ হাসিনা নিজে খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেছিলেন। বেগম জিয়া তখন যে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, তা সহ্য করেও নেত্রী (শেখ হাসিনা) তার (খালেদা জিয়ার) কথা শুনেছেন। তাদের বলা হয়েছিল নির্বাচনে আসার জন্য। তখন যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হয়েছিল সেখানে বিএনপি যা চায় তাই দেয়ার কথাও বলা হয়েছিল। সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা আসেনি। এখন গণতন্ত্রে যেমন নির্বাচনের অংশগ্রহণ করার অধিকার আছে তেমনি নির্বাচনের অংশগ্রহণ না করারও অধিকার রয়েছে।

এদিকে দুর্নীতির মামলার রায়ে ৫ বছরের সাজা হয়েছে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার। বিদেশ থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই। এই মামলার সাজার রায়ের পরে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার মুক্তির দাবিতে বিএনপি আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। বিএনপি এখন তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক সরকারের দাবির সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিটিও যুক্ত করেছে। খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে যাবে বলেও জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা। তবে এ বিষয়েও এখনো পর্যন্ত অনড় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। খালেদা জিয়ার সাজাকে আদালতের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে দলটির নেতারা এ বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই যেতে হবে। আন্দোলন করে বেগম জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। যারা এমন দিবাস্বপ্ন দেখছেন, হুমকি দিচ্ছেন তাদের স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই- আইনি লড়াই ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার দ্বিতীয় কোনো পথ নেই। দুর্নীতিবাজ নেত্রীকে মুক্ত করার আন্দোলন বাংলাদেশের জনগণ বরদাশত করবে না।

একই বিষয়ে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন মানবকণ্ঠকে বলেন, বিএনপি নেত্রীর সাজা হয়েছে। তিনি এখন কারাগারে আছেন। এখানে আওয়ামী লীগের কি করার আাছে? আওয়ামী লীগ এখানে কোনো পক্ষও নয়, প্রতিপক্ষও নয়। এটা আইন-আদালতের বিষয়। দেশে আজ আইনের শাসন কায়েম হচ্ছে।

অন্যদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে এমনটা ধরে নিয়েই নিজেদের নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী রাজনীতির মাঠে বিএনপিকে ছাড় দেবে না তারা। ইতিমধ্যে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সভা-সমাবেশ ও প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে গঠন করা হয়েছে ‘জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’। চলছে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন, এজেন্ট বাছাই ও প্রশিক্ষণের কাজও। দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে চালানো হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ের জরিপ। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে নেয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের প্রথম দিকেই বিভাগ ও জেলা শহরগুলোতে করেছেন নির্বাচনী জনসভা। এসব জনসভায় তিনি ‘উন্নয়নের ধারাবাহিকতা’ অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে আবারো নৌকায় ভোট চাইছেন। আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য মানবকণ্ঠকে বলেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেই কিন্তু বিএনপি গাজীপুর (আদালতের রায় পরে স্থগিত হয়েছে) ও খুলনা সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করলেও বিএনপি নিজেদের স্বার্থেই আগামী সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেবে। বিএনপি দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল। তাদের সমর্থক বা ভোট সংখ্যাও কিন্তু অগ্রাহ্য করার মতো নয়। আমরা এ বিষয়টা মাথায় রেখেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?