সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৮ জুলাই, ২০১৮, ০৯:০৯:৪৫

আইনি লড়াইয়েও পিছিয়ে খালেদা জিয়া

আইনি লড়াইয়েও পিছিয়ে খালেদা জিয়া

ঢাকা: আজ ৮ জুলাই পুরো পাঁচ মাস হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাভোগের। এই পাঁচ মাস ধরে কারামুক্তির জন্য যে আইনি লড়াই চালিয়েছেন তার আইনজীবীরা, তাতে এ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বিএনপির এই শীর্ষনেত্রীর আইনজীবীরা এ জন্য সরকারের নেতিবাচক প্রভাবকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারের হস্তক্ষেপে খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তাকে দূরে রাখতেই এই দুরভিসন্ধি। অন্যদিকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এ অভিযোগ খÐন করে বলছেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। এগুলো স্রেফ রাজনৈতিক বক্তব্য। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে পেট্রলবোমা হামলায় মানুষ মারা গেছে বলে। এটি কি মিথ্যা? উল্টো প্রশ্ন রাখেন তিনি।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার সময় তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো যে অবস্থায় ছিল, এখনো মূলত সেই অবস্থাতেই রয়েছে। তাই বিএনপি চেয়ারপারসনের কারামুক্তির বিষয়টি এখনো অনেকটা অনিশ্চয়তার মুখে। তবে তার সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল দ্রæত নিষ্পত্তির পথ অনেকটা পরিষ্কার হয়েছে।

 সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি নেত্রীর কারামুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন যেসব মামলা আছে, সেগুলো রাজনৈতিক মামলা। এসব মামলায় সরকার বেশি দিন তাকে কারাগারে রাখতে পারবে না। কিন্তু যেহেতু নিম্ন আদালতগুলো সরকারের নির্বাহী বিভাগের কব্জায় এবং সাবেক প্রধান বিচারপতির বক্তব্য অনুযায়ী নিম্ন আদালতগুলো সরকার গ্রাস করে ফেলেছে, সেহেতু আমরা নিম্ন আদালত থেকে কোনো বিচার আশা করি না। আমরা মনে করি, মামলাগুলো যখনই উচ্চ আদালতে আসবে, আমরা আইনি প্রতিকার পাব এবং সহসাই এটি হবে।

রাজনৈতিক মামলাতেই হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগ স্থগিত করেছে এমন তথ্য তুলে ধরলে জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা আবার উচ্চ আদালতের কাছে আবেদন করব।

বিএনপি নেত্রীর কারামুক্তি প্রসঙ্গে দলটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে করা মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রভাব ও হস্তক্ষেপের কারণে তাকে জেল থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা মনে করি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে দূরে রাখতেই সরকার এ ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মনে করেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, এগুলো রাজনৈতিক বক্তব্য। কোর্টে মামলা করবে আবার রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেÑ এটি হয় না। কুমিল্লায় পেট্রলবোমা হামলায় সাতজন মানুষ মারা গেছেÑ এটি কি মিথ্যা নাকি? খালেদা জিয়া কি অবরোধের ডাক দেননি? আসলে তারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে ৫ বছরের কারাদন্ড দন্ডিত হওয়ার পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি খালেদা জিয়া। তার কারামুক্তিতে এই মামলাসহ মোট ৭টি মামলায় জামিন নেওয়া প্রয়োজন ছিল। অন্য ৬টি মামলার মধ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পেট্রলবোমায় ৭ জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলা, একই থানায় কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলা, যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে একটি মানহানির মামলা, ভুয়া জন্মদিন পালন করে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম নষ্টের অভিযোগে একটি মামলা এবং স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট চার মাসের জামিন দেন। দুদক ও সরকারপক্ষের আবেদন খারিজ করে সেই জামিন গত ১৬ মে আপিল বিভাগও বহাল রাখেন। তবে সাজা থেকে খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে হাইকোর্টে করা আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এ মামলায় জামিন বহাল থাকলেও অন্যান্য মামলার কারণে তার কারামুক্তি আটকে যায়। এখন হাইকোর্টের দেওয়া ওই জামিনের মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ১২ জুলাই মেয়াদ শেষ হবে।

তাই জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য একটি আবেদন করা হয়েছে। যেটির ওপর আজ রবিবার হাইকোর্টে শুনানি হওয়ার কথা। এ ছাড়া আপিলের ওপরও আজ হাইকোর্টে শুনানি হওয়ার কথা। তবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের নির্দেশনাটি রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সেই আবেদনের ওপর আগামীকাল সোমবার আপিল বিভাগে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় অনেকেই মনে করেন, এ মামলাটিতে আইনি লড়াই করে সুবিধা করতে পারেননি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

এদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গাড়িতে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যার ঘটনায় হত্যার অভিযোগে করা একটি মামলায় ও কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা একটি মামলায় গত ২৮ মে হাইকোর্ট তার ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে এ দুটি মামলায় তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এর পর সরকারপক্ষ আবেদন জানালে গত ২৬ জুন আপিল বিভাগ বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় দেওয়া জামিন বহাল রাখেন। তবে এই আদেশের অনুলিপি হাতে পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এ মামলায় খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া গত ২ জুলাই আপিল বিভাগ হত্যার অভিযোগে করা মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন। একই সঙ্গে এ মামলায় জারি করা রুল চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দেন। তাই এ দুটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও খালেদার কারামুক্তির ক্ষেত্রে কাজে আসেনি। বাকি চারটি মামলায় খালেদার জামিন আবেদনের প্রক্রিয়া এখনো নিম্ন আদালতেই আটকে আছে।

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?