বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১৮, ১১:৩২:৪০

দুর্নাম ঘোচাতে চায় বিএনপি, নতুন মিত্রের খোঁজে জামায়াত

দুর্নাম ঘোচাতে চায় বিএনপি, নতুন মিত্রের খোঁজে জামায়াত

ঢাকা: জোট বেঁধে চলার ১৯ বছর পর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব গোলমেলে ঠেকছে বিএনপি ও জামায়াতের কাছে। বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দুটি দলের নেতাদের কাছেই হিসাব মিলছে না। জোটের প্রধান শরিক দল বিএনপি মনে করছে, জামায়াতকে জোটে রেখে আর লাভ নেই। বরং সে নিজেই জোট ছেড়ে চলে যাক। তাতে একদিকে প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশ ভারতকে খুশি করা যাবে। অন্যদিকে ‘উদারপন্থী’ দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যপ্রক্রিয়াও সহজতর হবে। অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির সঙ্গে জোটে থেকে রাজনৈতিকভাবে আর কোনো লাভ দেখছে না জামায়াত। ফলে নির্বাচনে ভালো ফলের জন্য দলটি এখন নতুন মিত্রের সন্ধান করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের দাবি, আড়ালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াত। তবে বিষয়টি এখনো আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। জাপার শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁর কাছে জামায়াতের মধ্যম পর্যায়ের কিছু নেতা গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের ‘অথরিটি’ নিয়ে সংশয় থাকায় শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া জামায়াতকে নিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমতি লাগবে। লাগবে প্রভাবশালী একটি দেশের সবুজ সংকেতও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহম্মদ কাদের বলেন, ‘নির্বাচনের আগে জামায়াত কোন দিকে যাবে, তা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে দলটি স্বস্তিতে নেই, এটুকু বোঝা যায়। ফলে সুবিধাজনক একটি জোট বা দলের সঙ্গে তারা যাবে—এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার অবশ্য মনে করেন, দেশ এখন যারা নিয়ন্ত্রণ করে, ক্ষমতার এমন কেন্দ্র এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশনা পেলে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন সম্ভব। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির কোনো স্তরের সঙ্গে এসংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।’

জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।’ তাঁর মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এ ধরনের নানা গুঞ্জন তৈরি হয়। হতে পারে জামায়াত-জাতীয় পার্টি সম্পর্কে সে রকম কোনো গুঞ্জন।

বিএনপি ও জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দল দুটির মধ্যে দূরত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সর্বশেষ সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির কয়েক দফা অনুরোধ সত্ত্বেও জামায়াত তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার না করায় দলটির অবস্থান নিয়ে বিএনপিতে সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়েছে। দলটি মনে করছে, ওই ঘটনার নেপথ্যে কোনো তত্পরতা থাকতে পারে। প্রায় কাছাকাছি সময়ে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদের কারামুক্তির ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মনে করছে বিএনপি। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধায় বেশ কয়েক বছর মাঠে নামতে না পারলেও হঠাৎ করে গত ১৩ জুলাই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সারা দেশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনের ঘটনাকেও সন্দেহের চোখে দেখছে বিএনপি।

অন্যদিকে জামায়াত মনে করছে, নির্বাচন সামনে থাকায় কৌশলগত কারণেই বিএনপি এখন ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। দেশটির সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ঘন ঘন যোগাযোগের বিষয়টিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখছেন

দলটির নেতারা। জামায়াত নেতারা মনে করেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের অর্থ হলো, জামায়াতের সেখানে জায়গা নেই। ফলে ভারতবিরোধী হিসেবে পরিচিত দলটির নেতারা আস্তে আস্তে বিএনপির কাছ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন বলে কারো কারো ধারণা। ২০ দলীয় জোটে জামায়াত নেতাদের অংশগ্রহণ এখন নামকাওয়াস্তে। সভায় অংশ নিলেও তাঁদের ভূমিকা খুবই কম। বিএনপির অনুরোধেও আগের মতো সারা দিচ্ছেন না জামায়াতের উপস্থিত নেতারা। সাম্প্রতিককালে দুটি বৈঠকে জামায়াত নেতারা উপস্থিত থাকলেও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার সম্পর্কে কোনো মত দেননি। অথচ পরে বিবৃতিতে দলটি জানিয়েছে, সিলেটে তাদের দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করার সুযোগ নেই। বিএনপি ওই ঘটনাকে জামায়াতের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। তবে জোট ভাঙার দায়িত্ব নিতে না চাওয়ায় নেতারা এ বিষয়ে নেতিবাচক কথা বলছেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জামায়াত এখনো ২০ দলীয় জোটে আছে। তাঁরা বলেন, সরকার নানা প্রলোভন দিয়ে বিএনপির পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটকেও ভাঙতে চাইছে। তবে তাঁরা আশা করছেন, সরকার এতে সফল হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে দুই নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে মেরুকরণ ঘটে থাকে। বিএনপির বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এতে ২০ দলীয় জোট ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জামায়াতের যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল, তা দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকার কার্যক্রমেও যে আন্তরিকতা থাকা দরকার তাতে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ওদের আচার-আচরণ ভালো লাগছে না।’

বিকল্পধারা, গণফোরাম, জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও নাগরিক ঐক্যের মতো দলগুলোর যদি বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হয় তাহলেও জামায়াত ওই জোটে থাকতে পারছে না বলে মনে করে জামায়াত। কারণ বিএনপির সঙ্গে ওই দলগুলোর ঐক্য গড়ার প্রধান শর্তই হলো জামায়াত থাকতে পারবে না। সাম্প্রতিককালে উদারপন্থী দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির ঐক্যপ্রক্রিয়া অনেকাংশে দৃশ্যমান হওয়ার ফলেও দলটি নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

জামায়াতের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণেই তাদের ওপর নির্যাতন বেশি হয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা। অথচ তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ফাঁসি কার্যকরসহ বিপদের সময় বিএনপি নীরব থেকেছে বলে জামায়াতের মধ্যে অভিযোগ আছে। ফলে বিএনপির সঙ্গে না থাকলে রাজনৈতিকভাবে জামায়াতের জন্য কিছুটা স্বস্তির জায়গা তৈরি হবে বলে মনে করেন দলটির নেতারা।

অন্যদিকে বিএনপি মনে করছে, জামায়াতের সঙ্গে জোট বাঁধার কারণে একদিকে দেশের ভেতরের উদারপন্থী বলে পরিচিত দল ও সুধীসমাজের সমর্থন তারা হারিয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় ভারতসহ বহির্বিশ্বের কাছেও তারা চাপের মুখেও পড়েছে জামায়াতের কারণে। বিশেষ করে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে অপপ্রচারের সুযোগ পেয়েছে সরকার।

সূত্র মতে, ভোটের রাজনীতির ক্ষেত্রেও জামায়াতকে নিয়ে নতুন হিসাব কষছে বিএনপি। দলটির নেতাদের মতে, জোট ছেড়ে গেলেও জামায়াতের সব ভোট সরকার সমর্থক কোনো দল বা জাতীয় পার্টির পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ গত আট-দশ বছর জামায়াতের ওপর যে ‘স্টিম রোলার’ গেছে তাতে দলটির তৃণমূলের সব নেতাকর্মী হাইকমান্ডের নির্দেশে ভোট দেবে না। আবার কিছু ভোট অন্য দল বা জোটে গেলেও ধর্মভিত্তিক নতুন শক্তি হিসেবে আর্বিভূত হেফাজতের বড় অংশের ভোট বিএনপির বাক্সে যাবে বলেই মনে করে দলটি। জানা গেছে, হেফাজতের মধ্যম ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। সব মিলিয়ে জামায়াতকে ধরে রাখার ব্যাপারে আগ্রহ কমে গেছে বিএনপির। সূত্র: কালেরকন্ঠ।

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?