বুধবার, ২১ নভেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৭:৫২:২০

চার শর্তে নির্বাচনে যাবে বিএনপি

চার শর্তে নির্বাচনে যাবে বিএনপি

ঢাকা: চার দাবি পূরণ হলে খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেই নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে বিএনপি। এই চার শর্ত হচ্ছে- নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সহায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া এবং নির্বাচনের সময় বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন। বিএনপি এবং যুক্তফ্রন্টের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন নয়’- বিএনপি নেতাদের এ বক্তব্য তাদের একটি নির্বাচনী কৌশল। কেননা তারা কোনো বিবেচনাতেই বলতে পারেন না খালেদা জিয়াকে ছাড়াই তারা নির্বাচনে যাবেন। একইসঙ্গে তারা আরো বলেন, খালেদার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

বর্তমানে সরকারের যে অবস্থান তাতে আন্দোলন এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা বিএনপির পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ‘মালয়েশিয়া মডেল’ অনুযায়ী এখন বিএনপি ২০ দলীয় জোট অক্ষুন্ন রেখে অপরাপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার বিষয়টিও মাথায় রেখেছে।

জামায়াতকে জোটের বাইরে রেখে জোটের পরিধি বাড়াবে না বিএনপি। অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত থাকলে ওই জোটে যাবে না যুক্তফ্রন্ট। আবার জোটের শর্ত হিসেবে বিএনপির কাছে ১৫০ আসন চেয়েছেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান, বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এ প্রেক্ষিতে জোট গঠনের জন্য যে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এ থেকে উত্তরণের জন্য উভয় পক্ষই ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক্ষেত্রে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে জোট করবে না যুক্তফ্রন্ট। তারা ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরিক বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করবে। এই সমঝোতা হবে তিন স্তরের, অর্থাৎ সরকারবিরোধী আন্দোলনের, আসন সমঝোতার এবং সরকার পরিচালনার। ফলে বিএনপির সঙ্গে যেহেতু যুক্তফ্রন্ট জোট করছে না সেহেতু বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে তারা এখন খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না। তারা এখন সংসদে আসন ভাগাভাগির মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা তাদের রাজনৈতিক দর্শন বলে দাবি করছেন।

বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বিষয়ে যুক্তফ্রন্টের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান মান্নার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রশ্নে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য আছে। বিএনপির নির্বাচনকালীন শর্তের সঙ্গে আমরা সবাই একমত। ঐক্যের ভিত্তি হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান। আমরা নির্বাচন দাবি করছি নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য।

বিএনপি নেতারা সুস্পষ্টভাবে বলছেন খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা নয়, অর্থাৎ বিএনপির একটি বড় অংশের কাছে প্রধান দাবি খালেদা জিয়ার মুক্তি। এ ব্যাপারে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিভিন্ন সেমিনার ও সভা-সমাবেশে বিএনপি নেতারা আবেগে এসব কথা বলছেন। এটা জেনুইন। খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে কেন তারা নির্বাচনে যাবেন! কিন্তু তারপরে এমন হতে পারে যে, আমাদের দাবি পুরোপুরি পূরণ না হলে সার্বিক অবস্থা বিবেচনার মাধ্যমে আমরা নির্বাচনে গেলাম। এটা তখনকার কৌশল বা রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনার বিষয়। এখন কেউ এটা বলবে না যে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলেও আমরা নির্বাচন করব। তিনি বলেন, দাবি চাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চটাই চাইতে হয়, পরে দরকষাকষি হতে পারে। আমি মনে করি সেন্টিমেন্ট এবং ইমোশন তাদের ঠিক আছে। তারা যদি বলত খালেদা জিয়াকে নিয়েই আমরা নির্বাচনে যাব তাহলে আরো পজিটিভ হতো।

ক্ষমতার ভারসাম্য এবং দেড়শ’ আসন বিষয়ে মান্না বলেন, দেড়শ’ আসনকে একটি সংখ্যা দিয়ে বোঝার বিষয় নয়। মূল বিষয়টি হলো আমরা যদি একসঙ্গে আন্দোলন করি, তারপর যদি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যারা ক্ষমতায় যায় তারা যেন নতুন করে স্বৈরাচারী আচরণ না করেন। এক্ষেত্রে একটি ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা দরকার যাতে সরকার স্বৈরাচারী আচরণ না করতে পারে।

এদিকে ড. কামাল হোসেন-বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পরিধি অক্টোবরের মধ্যেই বাড়তে পারে বলে গণফোরাম সূত্রে জানা গেছে। আর এই প্রক্রিয়ায় বিএনপির যুক্ত হতে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যদিও বদরুদ্দোজা চৌধুরী জামায়াত প্রশ্নে আপত্তি জানিয়েছিলেন। মির্জা খফরুল বলেন, ‘কোনো শর্ত দেয়নি, বি চৌধুরী সাহেব আমাদের কিছুই বলেননি। আমারা তো পত্র-পত্রিকা দেখে রাজনীতি করব না। আমি তো বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে রাজনীতি করব। এ ধরনের কোনো কথা উনি আমাদের বলেননি।’

যুক্তফ্রন্টের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘জামায়াতকে তারা ছেড়ে যদি আসত তাহলে আমরা মনে করি সবচেয়ে ভালো হতো এবং এতে তাদের কোনো ক্ষতি হতো না বরং লাভই হতো। কিন্তু এটা নিয়ে চাপাচাপি করে ঐক্যকে বিপদগ্রস্ত করব না।’

বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সমস্যা একটা আছে জামায়াত, জামায়াতের কি হবে! দ্বিতীয় সমস্যা হলো আসলে নির্বাচিত হওয়ার পরে ছোট দলগুলোর মূল্যায়ন হবে কিনা সেটা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘জামায়াতের রাজনীতি যারা করবে তারা করবে। আমরা তো জাতীয় ঐক্যের মধ্যে তাদের নিয়ে চিন্তা করি না। বিএনপি যদি আসে ভালো।’

এই ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে শুরুতে থাকলেও এখন সতর্কভাবে এগুচ্ছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা অর্থবহ জাতীয় ঐক্য করার চেষ্টা করছি। সেটা বিএনপির জন্য না আওয়ামী লীগের জন্য না। সেটা জাতীয় ঐক্যের জন্যই জাতীয় ঐক্য। জামায়াতকে তো নেয়ার প্রশ্নই আসে না। বিএনপিকে অনেক কথার জবাব দিতে হবে। সরকারের তো ব্যাপারই নেই, কারণ আন্দোলন হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে।’

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?