রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৪ নভেম্বর, ২০১৮, ০১:১৭:৩৩

দুই বড় দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী শত আইনজীবী

দুই বড় দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী শত আইনজীবী

ঢাকা; আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ মনোনয়ন দৌড়ে শতাধিক আইনজীবীও রয়েছেন। তাদের মধ্যে অর্ধশত নতুন মুখ এবং অধিকাংশই আবার তরুণ।

এসব আইনজীবী সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও নিজ নিজ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য। নিজ নিজ এলাকায় তারা জনসংযোগের পাশাপাশি নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেউ কেউ দুঃসময়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তারা জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন। বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের সময় দল ও নেত্রীর পক্ষে আপসহীন ভূমিকা রেখে নিজ এলাকায় রাজনৈতিকভাবে শক্ত ঘাঁটি গাড়তে তারা সক্ষম হয়েছেন।

এবার নৌকা ও ধানের শীষের মনোনয়ন লড়াইয়ে তাদের কেউ কেউ চমক দেখাতে পারেন। নবীনদের রাজনীতিতে সুযোগ করে দিতে দলীয় হাইকমান্ডও আগ্রহী। আইনজীবী ও সাবেক ছাত্রনেতা এমন অনেকে মনোনয়ন পেতে পারেন।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা : মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে আছেন লৌহজংয়ের সন্তান ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের রাজনীতি করে। এলাকার উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করতে চাই।

কয়েক বছর ধরে এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে আসছি। মানুষ আমাকে ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও দল চাইলে আগামী নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন। এ আসনে রয়েছেন বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি।

ঢাকা-১৭ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার। গুলশান-বনানী এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বাসেত মজুমদার সবার কাছে গরিবের আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।

পিরোজপুর-১ আসনে নির্বাচন করতে চান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম। সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক রেজাউল করিমের সঙ্গে এলাকার মানুষের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

যুগান্তরকে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি করেছি। বাংলাদেশে দুইবার সামরিক শাসনামলে কারাবরণ করেছি। এক-এগারো সরকারের সময় শেখ হাসিনার পক্ষে, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেলহত্যা মামলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছি। আওয়ামী লীগের সব আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। এবার মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগ নেতা একেএমএ আবদুল আউয়াল।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে লড়তে চান সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। এলাকায় গণসংযোগসহ সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত রয়েছেন। ঈশ্বরগঞ্জকে একটি আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে গড়তে চান তিনি। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবেন এবং জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার ও নাগরপুর) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম আশরাফ। তরুণ ব্যারিস্টার আশরাফ যুক্তরাজ্য শাখা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য। এলাকায় তিনি গণসংযোগ করছেন। এ আসনের বর্তমান এমপি খন্দকার আবদুল বাতেন।

ফেনী-৩ (দাগনভূঁইয়া-সোনাগাজী) আসনে নির্বাচন করতে চান অ্যাডভোকেট এম শাহজাহান সাজু। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সাজু বেড়ে উঠেছেন আওয়ামী পরিবারে। নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক হিসেবে। লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর-সদরের একাংশ) আসনে নির্বাচন করতে চান সাবেক ছাত্রনেতা সালাউদ্দিন রিগ্যান। সুপ্রিমকোর্টের তরুণ আইনজীবী রিগ্যান এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে পাবনা-২ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী রবিউল আলম বুদু, কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদি) আসনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল, ঢাকা-৭ (লালবাগ-কোতোয়ালি) আসনে অ্যাডভোকেট কাজী নজিবুলাহ হিরু, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাটুলিয়া) আসনে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) ব্যারিস্টার মোকসেদুল ইসলাম, বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে ব্যারিস্টার শেখ ওবায়দুর রহমান, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে অ্যাডভোকেট এসএম ফজলুল হক মনোনয়ন চান।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা : বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। বিএনপি কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ড ও ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনে মনোনয়ন চান সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, এ আসনের তিনটি উপজেলা খুবই অবহেলিত। উন্নয়নের ছোঁয়া এখানে লাগেনি। এর আগেও বিএনপি থেকে নির্বাচন করেছি। এবার দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব এবং জয়লাভ করব।

নরসিংদী-৩ (শিবপুর) থেকে মনোনয়ন চান বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া। এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সানাউল্লাহ দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী।

জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে নির্বাচন করতে চান ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক বাদল গণসংযোগ করছেন। মাদারগঞ্জ থানা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার বাদল জানান, তৃণমূল থেকে মতামত নেয়া হলে তিনিই মনোনয়ন পাবেন।

নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোসতাক আহমেদ রুহীর কাছে তিনি পরাজিত হন। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি আগামী নির্বাচনেও অংশ নিতে চান।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফারুক হোসেন। এলাকায় গণসংযোগসহ সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত রয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনীতির পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষকে তিনি আইনগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনি পেশায় নিয়োজিত।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে নির্বাচন করতে চান ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার রাগীবের বাবা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুর রউফ চৌধুরী। এ আসনে তার বাবা তিনবার এমপি নির্বাচিত হন। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তরুণ আইনজীবী রাগীব সেবামূলক কাজ করছেন।

এছাড়া বিএনপি থেকে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলতপুর-শিবালয়) অ্যাডভোকেট খন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) ব্যারিস্টার মীর হেলালউদ্দিন, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ভূঁইয়া, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে মির্জা আল মাহমুদ মনোনয়ন পেতে আগ্রহী।

এদিকে আইন পেশার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে এমপি হয়েছেন এমন আইনজীবীর সংখ্যাও কম নয়। তাদের কেউ কেউ মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন বা করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া (গাইবান্ধা-৫), আইনমন্ত্রী আনিসুল হক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪), খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম (ঢাকা-২), সাহারা খাতুন (ঢাকা-১৮), আবদুল মতিন খসরু (কুমিল্লা-৫), নুরুল ইসলাম সুজন (পঞ্চগড়-২), মাহবুব আলী (হবিগঞ্জ-৪), ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস (ঢাকা-১০), মো. শামসুল হক টুকু (পাবনা-১) ও রহমত আলী (গাজীপুর-৩)। আগামী নির্বাচনে এসব আইনজীবী মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, জিয়াউর রহমান খান, নিতাই রায় চৌধুরী, সুপ্রিমকোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, শাহ মোহাম্মদ খসরুজ্জামান, মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, আহমেদ আজম খান, তৈমূর আলম খন্দকার প্রমুখ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?