মঙ্গলবার, ১৮ জুন ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ০২ জানুয়ারী, ২০১৯, ১১:১৯:০১

২০১৮ সালে রাজনৈতিক অঙ্গনে যাদের হারিয়েছি

২০১৮ সালে রাজনৈতিক অঙ্গনে যাদের হারিয়েছি

বিদায় নিলো ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ, ১৮’তে আমরা রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেককেই হারিয়েছি। দেশের রাজনীতির বিভিন্নক্ষেত্রে তাদের অবদান চিরস্মরণীয়। বিদায়ী বছরে চিরদিনের জন্য পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে সেসব বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তুলে ধরা হলো ব্রেকিংনিউজের পাঠকদের জন্য।

সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম
বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য, খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম মারা যান ৪ নভেম্বর। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিলে ৭২ বছর।

১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোরে জন্ম নেওয়া তরিকুল ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। স্বাধীনতার পর মওলানা ভাসানীর দলে যোগ দেওয়ার পর ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের ডাকে তিনি বিএনপিতে যান।

যশোর থেকে চার বার নির্বাচনে জিতে সংসদে যাওয়া তরিকুল চারদলীয় জোট সরকারের তথ্যমন্ত্রী এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে তিনি প্রথমে সমাজকল্যাণ এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি মৃত্যু পর্যন্ত।

সাবেক মন্ত্রী ফজলে রাব্বী চৌধুরী
গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী সাদুল্যাপুর) আসনের ৬ বারের এমপি একাদশ জাতীয় সংসদের ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় পার্টি (জাফর) এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী ২০ ডিসেম্বর মারা যান।

ড. টিআইএম রাব্বী চৌধুরী ১৯৩৪ সালে ১লা অক্টোবর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার তালুকজামিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে পর্যায়ক্রমে ৬ (ছয়) বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র সাংসদ যিনি কেবলমাত্র বিরতিহীনভাবে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ি) আসন হতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এই আসন থেকে ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৮৪ সালে তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপাতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। পরবর্তী সময় তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রী, ত্রাণ ও পূনর্বাসন মন্ত্রী ও সংস্থাপন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. ফজলে রাব্বী ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ এর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টি ছেড়ে কাজী জাফরের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর মারা যাওয়ার পর থেকে ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তত্ত্বাবধায় সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ধীরাজ কুমার নাথ
বছরের শুরুতে ৫ জানুয়ারি মারা যান সাবেক সচিব ও তত্ত্বাবধায় সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ধীরাজ কুমার নাথ। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব থাকা অবস্থায় ২০০৩ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যান ধীরাজ কুমার নাথ। ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হন তিনি।

১৯৪৫ সালের ৯ জানুয়ারি নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করা ধীরাজ ১৯৬৯ সালে পুর্ব পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগে সেকশন অফিসার হিসেবে নিয়োজিত হন ধীরাজ। গাজীপুরের প্রথম মহকুমা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই সরকারি কর্মকর্তা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপসচিব (সমন্বয়) এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদেও দায়িত্ব পালন করেন।

ধীরাজ কুমার নাথ সম্পাদিত ১২টি বই রয়েছে, যার মধ্যে ভ্রমণকাহিনি, প্রবন্ধ সংগ্রহ, উপন্যাস রয়েছে।

সাবেক মন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম
সাবেক তথ্যমন্ত্রী বিএনপি নেতা এম শামসুল ইসলাম ২৬ এপ্রিল ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মার যান।

শ্বাসকষ্টসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য এম শামসুল ইসলাম আশির দশকে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার ছিলেন। মুন্সিগঞ্জ-৩ আসন থেকে তিনি তিনবার সংসদ সদস্য হন।

১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারে বাণিজ্য, টেলি যোগাযোগ ও পরে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এম শামসুল ইসলাম। ২০০১ সালে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে তাকে প্রথমে ভূমি ও পরে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সাবেক সদস্যের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদরের তিনসুড়িতে।

সাবেক মন্ত্রী মাইদুল ইসলাম মুকুল
কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি) ও সাবেক মন্ত্রী একেএম মাইদুল ইসলাম মুকুল ১০ মে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ফুসফুসে জটিলতার কারণে ১৭ এপ্রিল সাবেক এ মন্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসকরা তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেন।

১৯৪৩ সালের ২৯ মে একেএম মাইদুল ইসলাম মুকুল জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আবুল কাসেম ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার। শিক্ষাজীবনের শুরুতে মাইদুল ইসলাম পাকিস্তানের বিখ্যাত সারগোদা স্কুলে লেখাপড়া করতেন।

শিক্ষাজীবন শেষে তার পারিবারিক ব্যবসা ‘কাসেম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজে’ যোগ দেন। তিনি জাতীয় পার্টির হয়ে সর্বশেষ ২০০৮ ও ২০১৪ সালে এমপি নির্বাচিত হন। এ ছাড়া তিনি দুই বার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান
জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী, সচিব, রাষ্ট্রদূত এবং বরিশাল সদর আসনের সাবেক সাংসদ এম মতিউর রহমান গত ৯ জানুয়ারি ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মতিউর রহমান বরিশাল বিভাগের কাউখালী উপজেলা’র জয়কুল গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৩৮ সালে তিনি মেট্রিক পাশ করেন। এরপর তিনি বিএম কলেজ থেকে ১৯৪০ সালে এইচ এস সি ও ১৯৪২ সালে ডিগ্রী পাশ করেন এবং ১৯৪৬ সালে লোকপ্রশাসন বিষয়ে এম.এ পাশ করেন। ১৯৪৯ সালে তিনি পাকিস্তান একাউন্ট সার্ভিসে যোগদান করেন। এরপূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেন।

১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের শিল্প সচিব নিযুক্ত হন। অবসরে যাওয়ার পর তিনি কোরিয়া ও জাপানের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত ছিলেন। এরপর তিনি রাজনীতিতে যোগদান করে ১৯৮৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় পার্টি সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে তিনি পুনরায় আবারো বরিশাল সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম
সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম ১১ নভেম্বর ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

মাওলানা নুরুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র মহাসচিব মরহুম ব্যারিষ্টার আব্দুস সালাম তালুকদারকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

কমরেড মোহাম্মদ নবী
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তানি স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের যোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কমরেড মোহাম্মদ নবী মারা যান ১৪ জানুয়ারি।

মোহাম্মদ নবীর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।

কমরেড মোহাম্মদ নবী ছাত্র অবস্থায় কমিউনিস্ট আন্দোলনে যুক্ত হন। ব্রিটিশবিরোধী লড়াই, মুক্তিযুদ্ধসহ এদেশের শোষণ মুক্তির সংগ্রামে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগামী। আজীবন বিপ্লবী মো. নবী কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে পার্টির কেন্দ্রীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু
রংপুরের সাবেক মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু মারা যান ২৫ ফেব্রুয়ারি। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে ২৬ দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যুর কাছে তিনি হার মানেন।

রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ঝন্টুর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু।

২০১৭ সালে ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে লড়লেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি।

রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং রংপুর পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা ঝন্টু রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসন থেকে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সাবেক এমপি সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম মারা যান ২৭ মে। রাজধানীর ধানমণ্ডির সেন্ট্রাল হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওয়াহিদুল আলমের বয়স হয়েছিল ৭৩।

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে যুক্ত সৈয়দ ওয়াদিদুল আলম হাটহাজারী উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯১ সাল থেকে তিন বার তিনি বিএনপির টিকেটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে পান জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব।

২০০৮-০৯ মেয়াদে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করা ওয়াহিদুল আলম দলের গত কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

সাবেক এমপি তাজুল ইসলাম চৌধুরী
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৩ আগস্ট মারা যান। ৭৩ বছর বয়সী এই সাংসদ ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজুল ১৯৭৯ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। এরপর সংসদে গেছেন আরও ছয় বার। এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভাতেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানও ছিলেন তাজুল ইসলাম চৌধুরী।

সাবেক এমপি মোজাম্মেল হক
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি-কামারখন্দ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন ১৭ অক্টোবর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বিচারপতি মোজাম্মেল হক ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-কামারখন্দ) আসনে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সাবেক এমপি শাহ মো. আজিজুর রহমান
সিলেটে এক সময়ের কিংবদন্তী ছাত্রনেতা, বালাগঞ্জের কৃতি সন্তান, সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আজিজুর রহমান গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

মুক্তিযোদ্ধা শাহ আজিজ (১৯৯৬-২০০১) বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি মহকুমার ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নির্লোভ-নিরহঙ্কার শাহ আজিজ বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন।

সাবেক এমপি রহিম উদ্দিন ভরসা
রংপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) এবং রংপুরের স্থানীয় দৈনিক যুগের আলোর প্রতিষ্ঠাতা রহিম উদ্দিন ভরসা ২৭ জুলাই মারা যান।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার বাসা থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে রাত সোয়া ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

সাবেক মন্ত্রী কল্পরঞ্জন চাকমা
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী এবং খাগড়াছড়ি আসন থেকে দুইবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমা ২৫ জুলাই রাজধানীর মগবাজারস্থ ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। কল্পরঞ্জন চাকমা বার্ধক্যজনিত কারণে এবং ডান পায়ে চোট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

কল্পরঞ্জন চাকমা ২৯৮নং সংসদীয় খাগড়াছড়ি আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তির পর ১৯৯৮ সালের ৬ মে স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন সংশোধন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন সংসদে পাস হয়। ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই এক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয় এবং খাগড়াছড়ির তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমাকে প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সাবেক এমপি এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা
খুলনা-৪ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা গত ২৬ জুলাই সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এমপি সুজা ১৯৫৩ সালের ২ মার্চ বাগেরহাটের ফকিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। খুলনা-৪ আসন থেকে তিনি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৯৬-থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তিনবার খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া একবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সাবেক এমপি সাদির উদ্দিন
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহচর, নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, সাবেক এম এন এ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, পূর্বধলা আসনের সাবেক এমপি, জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য, জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট সাদির উদ্দিন খান (৮৭) নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে, ৪ মেয়েসহ বহু আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে যান

সাবেক এমপি আমান উল্লাহ খান
বগুড়ার শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতা, বঙ্গবন্ধুর সহচর মু‌ক্তিযু‌দ্ধের অন্যতম সংগঠক আমান উল্লাহ খান গত ১৫ মার্চ  বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শ‌জি‌মেক) হাসপাতা‌লে মারা গে‌ছেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি ১৯৭৩ সালে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

তিনি ১৯৪১ সালে শেরপুর উপজেলার জয়লা জুয়ান গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দেশ স্বাধীনের আগে ‘আজকের বগুড়া’ নামে একটি  ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

আওয়ামীলীগ এর কিংবদন্তি এ বর্ষিয়ান নেতা বগুড়া থেকে দেশের প্রথম আঞ্চলিক দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। এছাড়া দৈনিক ইত্তেফাকের বগুড়ার সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন।

সাবেক এমপি শরীফ খসরুজ্জামান
নড়াইল মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুজিব বাহিনীর প্রধান ও নড়াইল-২ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ খসরুজ্জামান গত ১৯ জুলাই ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ণ ডায়াগনষ্ঠিক সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মৃত্যুকালে মরহুমের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।

শরীফ খসরুজ্জামান ছোট বেলা থেকেই ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে ফের আ’লীগের মনোনয়ন পেয়ে ২য় দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে(বিএনপি) তে যোগদান করেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ছিলেন।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?