বুধবার, ২৪ এপ্রিল ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯, ০৭:২৮:৫৮

চীনের ঋণের ফাঁদে এবার কেনিয়া, হারাচ্ছে সমুদ্রবন্দর

চীনের ঋণের ফাঁদে এবার কেনিয়া, হারাচ্ছে সমুদ্রবন্দর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের ঋণের ফাঁদে পড়েছে কেনিয়া সরকার। সময়মতো যদি চীনের ঋণ পরিশোধ করা না হয় তাহলে দেশটির প্রধান সমুদ্রবন্দর মমবাসা পোর্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ বছরের মধ্যে কেনিয়াকে সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

এ বছর জুনে চীনের দেওয়া পাঁচ বছরের ‘গ্রেস টাইম’ শেষ হয়ে যাবে। ফলে জুলাই থেকে কেনিয়াকে প্রতি বছর আগের তুলনায় তিন গুণ বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

চীনের আর্থিক সহায়তায় ২০১১ সালে নাইরোবি-মমবাসা রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হয়। এটি স্বাধীনতার পর কেনিয়ায় সবচেয়ে বৃহৎ ও ব্যয়বহুল অবকাঠামো নির্মাণ।

দেশটির রাজধানী নাইরোবি থেকে মমবাসা সরাসরি রেল যোগাযোগের জন্য স্ট্যান্ডার্ড গেজ রেলওয়ে (এসজিআর) নির্মাণে কেনিয়া সরকার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সিম ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়।

কেনিয়ার অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম TUKO.co.ke সংবাদমাধ্যম জানায়, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সিম ব্যাংক মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশ ঋণ দিতে রাজি হলে ২০১৪ সালের ১১ মার্চ দুই দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়।

এসজিআর নামে ওই ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের সময় কেনিয়া নিজেদের সম্পদ রক্ষার সার্বভৌম ক্ষমতা ত্যাগ করেছিল ফলে ওই চুক্তির শর্তাবলী চীনা আইন অনুযায়ী পরিচালিত। এতে কেনিয়া সরকারের নিজেদের সম্পদ রক্ষার কোনো অধিকার নেই।

ফাঁস হওয়া একটি চুক্তিপত্রে দেখা যায়, চীনের এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ২০০ কোটি ইউরো যদি কেনিয়ার ন্যাশনাল রেলওয়ে কর্পোরেশন সময়মতো পরিশোধ করতে না পারে তবে চীন সরকার দেশটির মমবাসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে। কেনিয়ার সবচেয়ে বড় এবং লাভজনক বন্দর এটি।

এর আগে গভীর সমুদ্র বন্দর হাম্বানতোতা বন্দর নির্মাণে চীনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে শ্রীলঙ্কা। চুক্তি অনুসারে বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নে শ্রীলঙ্কা ১১০ কোটি মার্কিন ডলার পাবে। হাম্বানতোতা বন্দরটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত। চীনের ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড উদ্যোগে বন্দরটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই বন্দরটি চীন ও ইউরোপের বন্দর ও সড়ককে সংযুক্ত করবে।

চুক্তি অনুসারে, চীনের একটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বন্দরটি ৯৯ বছরের জন্য লিজ পাবে। একই সঙ্গে কাছের একটি শিল্পাঞ্চলে ১৫ হাজার একরের মালিকানাও পাবে চীনা কোম্পানিটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, চীনের পক্ষ থেকে শ্রীলঙ্কাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, বন্দরটি শুধু বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হবে।

বন্দরটি চীন ও ইউরোপে বাণিজ্যে প্রধান সমুদ্র পথে পরিণত হবে। চীনের সামরিক বাহিনী বন্দরটি ব্যবহার করবে এই আশঙ্কায় কয়েক মাস পিছিয়ে যাওয়ার পর শনিবার চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলো। শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে পাওয়া অর্থ দিয়ে বিদেশি ঋণশোধ করা সম্ভব হবে।

চুক্তি বাস্তবায়ন করতে কয়েক হাজার গ্রামবাসীকে উচ্ছেদ করতে হবে। তবে শ্রীলঙ্কার সরকার জানিয়েছে, উচ্ছেদ হওয়া গ্রামবাসীদের নতুন ভূমি দেওয়া হবে। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ অবসান হওয়ার পর থেকে কয়েকশ কোটি ডলার অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করেছে চীন।

এ ছাড়া ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে জিম্বাবুয়ের কেনেথ কউণ্ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেয় চীন। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় চীন এমন এটি নিয়ে নেয়।

২০১৭ সালে হাম্বানটোটা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এই ঘটনা চীন সরকারের বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তারে অবকাঠামো উন্নয়নের নামে ঋণ ও সাহায্যকে হাতিয়ার বানানোর একটি উদাহরণ মাত্র। চীন ঋণ আদায়ে কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে এটা সে কথাও বলছে।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?