সোমবার, ১৭ জুন ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৭ এপ্রিল, ২০১৯, ১১:১১:৪৬

খালেদা জিয়ার প্যারোল: রাজনীতিকরা কে কী বলছেন?

খালেদা জিয়ার প্যারোল: রাজনীতিকরা কে কী বলছেন?

ঢাকা: সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি ইস্যুটি। এ নিয়ে রাজনীতিকদের মধ্যে রয়েছে মতপার্থক্য। এ-ও শোনা যাচ্ছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকার ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে। তবে তার মুক্তি নিয়ে দুপক্ষই শর্ত আরোপ করছে।

একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলা হচ্ছে, সরকার বলছে- প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশ চলে যেতে হবে। সেখানে তিনি শারীরিক চিকিৎসা করাতে পারবেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিষয়ে কোনও কথাবার্তা বলতে পারবেন না। সেইসঙ্গে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংসদেও যেতে হবে।

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সরকার তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাঁর বর্তমান শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত অবস্থা বিবেচনায় বেগম জিয়াকে জামিনে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। এবং মুক্তি পেয়ে তিনি যেখানে খুশি চিকিৎসা নিতে পারবেন। সুস্থ হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হতে পারবেন।

বিএনপি নেতারা দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবি করলেও প্যারোল চাওয়ার বিষয়ে কিছুই বলছেন না। প্যারোলে মুক্তি চাওয়ার আবেদন একান্তই বেগম জিয়ার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও দলটির শীর্ষস্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন।

এনিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ রাজনীতিকদের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও বক্তব্যগুলো তুলে ধরা হলো:

খালেদা প্যারোল ইস্যুতে রবিবার (৭ এপ্রিল) ধানমণ্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘উনার প্যারোল পাওয়ার মতো কোনও পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।সাধারণত দণ্ডপ্রাপ্ত কারও আত্মীয়স্বজন মারা গেলে তাকে শেষ দেখা, শেষকৃত্যের জন্য ও কিংবা অসুস্থ হলে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি আসে। তবে আমার জানা মতে, বেগম জিয়ার তেমন কোনও পরিস্থতি হয়নি।’

সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা প্যারোলের কথা বলিনি। আমরা জামিনে মুক্তির কথা বলেছি। সরকার দেশনেত্রীকে আটক করে রেখেছে, কারণ তারা ভয় পায়। দেশকে বাঁচাতে হলে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়, ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনি।’

খালেদার সুচিকিৎসার জন্য বিএনপি তাঁর মুক্তি দাবি করে আসছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দুদিন আগেও আমি বলেছিলাম খালেদার মুক্তির বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের ওপর নির্ভর করে। এটি রাজনৈতিক বিষয় নয়।’

হানিফের বক্তব্যের ঠিক বিপরীত কথাটাই জানিয়েছেন বেগম জিয়ার অন্যতম আইনজীবী খোন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে সরকার খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে। প্যারোলের বিষয়টি রাজনৈতিক বিষয়। এখানে তিনি (খালেদা) প্যারোলে যাবেন কি না এবং সরকার প্যারোল দিবেন কি না, এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমরা আইনজীবী হিসেবে বলতে পারি চিকিৎসার জন্য প্যারোল পাওয়া যায়।’

এ বিষয়ে দুদিন আগেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা তাঁর উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তির আবেদন করবেন কি-না সেটি একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার, এটি তার শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে চিকিৎসার যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সম্প্রতি ওবায়দুল কাদেরকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হয়েছে। বেগম জিয়াও বহুবার সৌদি আরব কিংবা লন্ডনে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন কি-না, সেই সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।’

বিএনপির যদি আবেদন করে তবে খালেদা জিয়ার প্যারোল পাওয়ার বিষয়টি সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একই কথা বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র হাছান মাহমুদ।

তবে আইনি পথে বেগম জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘আদালতে সরকারের প্রভাব থাকায় দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আইনজীবী হিসেবে আপনাদের বলবো, আইনি প্রক্রিয়ায় দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না। আপনারা যদি চান, একমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁকে মুক্ত করা সম্ভব।’

এদিকে রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএন‌পির উদ্যো‌গে “গণতন্ত্রের মা বেগম খা‌লেদা জিয়ার সু‌চি‌কিৎসা ও নিঃশর্ত মু‌ক্তির দা‌বি‌তে” আ‌য়ো‌জিত গণঅনশ‌নে দেয়া বক্তব্যে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেমন প্যারোলে লাহোরে যাননি তেমনি বেগম জিয়াও আজ প্যারোলে মুক্তি না নিলে সেটা হবে দ্বিতীয় নজিরবিহীন। প্যারোলে মুক্তি মানে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু, গণতন্ত্রের মৃত্যু।’

একবছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি রয়েছেন। তার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি খুবই উদ্বেগে রয়েছে। তবে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার জন্য সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী প্যারোলে মুক্তি চাইবেন কি-না তা নিশ্চিত নয়। দলটির হাইকমান্ড বেগম জিয়ার জামিনে মুক্তি প্রত্যাশা করছেন।

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির একটি মামলায় কারাবন্দি হন। ইতোমধ্যে তাঁর কারাভোগের একবছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?