শনিবার, ২৫ মে ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ০৯ মে, ২০১৯, ১১:৫৩:৩০

পথ খুঁজছে বিএনপি

পথ খুঁজছে বিএনপি

খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৬ আসন কি শেষতক বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে? কী অঙ্ক মেলানো হচ্ছে এ আসন নিয়ে? বিএনপি কি আদৌ এ আসনের পুনর্নির্বাচনে অংশ নেবে? নিলেও কে লড়বেন বিএনপির হয়ে- এমন নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ বগুড়ার এ আসনটির সঙ্গে বিএনপির আবেগ যেমন জড়িত তেমনি জড়িত মান-সম্মানের বিষয়টিও। নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবর্তে এ আসন থেকে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে অংশ নেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে শপথ না নেওয়ায় গত ৩০ এপ্রিল শূন্য হয়ে যায় তার আসনটি। আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ আসনের পুনর্নির্বাচন। কিন্তু এ নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট করেনি বিএনপি।

কারচুপি ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল বর্জন এবং পুনর্নির্বাচন দাবি করা বিএনপি শেষ মুহূর্তে সংসদে গিয়ে রাজনীতির সমীকরণই পাল্টে দিয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চার এমপি। এর আগে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদে যান একজন। কিন্তু ‘কৌশলগত কারণে’ সংসদে শপথ নেননি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। যদিও কী সেই কৌশল তা স্পষ্ট করা হয়নি দলের তরফ থেকে। শেষ মুহূর্তে কেবলই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে ফখরুল বাদে দলের নির্বাচিত এমপিরা সংসদে শপথ নিয়েছেন বলে জানানো হয় বিএনপি থেকে।

একাদশ নির্বাচনের ফল বর্জনের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় দাবি করে উপজেলা নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি বগুড়া-৬ আসনের পুনর্নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা জানার জন্য মূলত মুখিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল। কারও কারও মতে বিএনপি যেহেতু সংসদে গেছে সেহেতু তারা এ নির্বাচনেও অংশ নেবে। আর কোনো যুক্তিতে এ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বাস্তবতা নেই বিএনপির। কেউ কেউ মনে করছেন, জিয়া পরিবারের কাউকে সংসদে নিতেই ফখরুল এ আসন ছেড়ে দিয়েছেন এবং শেষ মুহূর্তে তেমন কারোরই নাম ঘোষণা করা হতে পারে দল থেকে। এ ক্ষেত্রে দুই পুত্রবধূর কোনো একজনের নাম উঠে আসতে পারে।

তবে এই আসনের পুনর্নির্বাচনে অংশ নেওয়া না-নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণকে বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শেষ মুহূর্তে সংসদে যোগদান বিএনপির বড় ধরনের নৈতিক পরাজয়। শুধু বিএনপিই নয়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুটি জোটকেও রীতিমতো প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে বিএনপি।

এমনকি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ নিয়ে নানা মত নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দলের অভ্যন্তরে সে প্রতিক্রিয়া সামাল দিতেই বেসামাল হয়ে পড়ছে বিএনপি। এ অবস্থায় বগুড়ার পুনর্নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা দলটির জন্য কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী মনে করেন, ‘যে অবস্থায় বিএনপি এখন পড়েছে তাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন তাদের জন্য কঠিন ব্যাপার হবে। কারণ বিএনপি বলেছে, নির্বাচনই হয়নি এবং সেটা দেখিয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিল না। অথচ আবার ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে- এটা তো স্ববিরোধী।’ এ নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপির ইমেজের সাংঘাতিকভাবে ক্ষতি হবে বলে মনে করেন তিনি।

‘কৌশলগত কারণে’ মির্জা ফখরুলকে সংসদে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নয়, তা ফখরুলই স্পষ্ট করেছেন ২৯ এপ্রিল। স্থায়ী কমিটির ওপরে তারেক রহমানই দলের শীর্ষ কমান্ড। তিনিই এখন দেশের বাইরে থেকে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। বগুড়া-৬ আসনের ব্যাপারে তিনি কী সিদ্ধান্ত দেন সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে দলের নেতাকর্মীরা।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?