সোমবার, ২৭ মে ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ১২ মে, ২০১৯, ১০:২০:২৪

বিরোধী শিবিরে ভাঙন, স্বস্তিতে আওয়ামী লীগ

বিরোধী শিবিরে ভাঙন, স্বস্তিতে আওয়ামী লীগ

ঢাকা: সরকার বিরোধী রাজনৈতিক শিবির ভাঙনের দিকে কড়া নজর রাখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে জোটসঙ্গীরা বের হয়ে যাওয়া ও অন্যান্য দল বের হয়ে যাওয়া ও হুমকির ঘটনাগুলোর নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শিবিরে আসলে কী ঘটছে,বা কী ঘটতে পারে- সেসব বিষয়ে তীক্ষ্ণ নজর রাখার পাশাপাশি বিষয়গুলো জনগণের কাছে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার সিদ্ধান্তও নিয়ে রেখেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। একই সঙ্গে বিরোধী শিবিরের নেতারা অগোছালো থাকায় স্বস্তিতে তারা।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়,সরকার বিরোধী রাজনৈতিক জোটে ভাঙন ও টানাপোড়েনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সকল স্তরেই আলোচনায় সবর। এই ভাঙনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে অনেকটা স্বস্তি বিরাজ করছে। কারণ ভাঙনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি রাজনীতির মাঠে আরো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, সরকার বিরোধী জোটের সংঘাত ও অনৈক্য জনগণের কাছে তুলে ধরলে তাতে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগেরাই লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই সরকারি দলের নেতারা বিএনপি-জামায়াতের জোটের দুর্বলতা তুলে ধরবেন। ‘বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতি’ থেকে সরে না আসায় দলটি ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট আজকের অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে- এমন প্রচারণাও চালাবেন তারা।

গত ৯ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দুর্বৃত্ত নেতৃত্বের কারণেই বিএনপি ও বিশ দলীয় জোটে ভাঙন ধরেছে। ২০ দলীয় জোটে ভাঙনের শুরু দেখতে পেলাম। এখন ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে চলছে নানা ধরনের কথাবার্তা। ঐক্যফ্রন্টে এখন আর ঐক্য নেই, ধীরে ধীরে অনেকেই ঐক্য ছাড়তে শুরু করেছে।

বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচারের রাজনীতির কারণে তাদের জোটে ভাঙন শুরু হয়েছে বলে গত মঙ্গলবার মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার সময়ই আওয়ামী লীগ থেকে বলা হয়েছিল, ঐক্যফ্রন্টের গঠন প্রক্রিয়াতেই ভাঙনের সুর আছে। ফ্রন্ট ভাঙনের মুখে পড়বে এবং বিএনপিও ভাঙন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না। বিএনপি ও ফ্রন্টের অবস্থা শুরু থেকেই লেজেগোবরে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র চার মাস পরই ঐক্যফ্রন্টে ভাঙন ধরার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের কথাই সত্য হলো বলে মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতারা। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো ধরনের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করতে হয় কী না, সেদিকেও খেয়াল রাখছে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রবীণ আইনজ্ঞ ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গত বছরের ১৩ অক্টোবর বিএনপিসহ চারটি দল নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়।ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পরই ফ্রন্ট হয়ে উঠে গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে।তবে গঠিত হওয়ার মাত্র সাত মাস পেরুতেই বিএনপির কর্মকাণ্ডে অস্বস্তিতে ফ্রন্টের শরিকরা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ঐক্যফ্রন্টের দুই প্রার্থী ফ্রন্টের সিদ্ধান্ত না মেনে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ায় একজনকে বহিষ্কার ও অন্যজনকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয় গণফোরাম। এ নিয়েও ফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে দুরত্বের সৃষ্টি হয়। ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে আর এক মাসের মধ্যে তা ‘সুরাহা’ না হলে আগামী ৯ জুন ফ্রন্ট থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বেরিয়ে যাবে বলে জানান দলটির সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

গত শনিবার ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ঐক্যফ্রন্টের অনেক কার্যক্রমই স্পষ্ট নয়। শপথ না নেয়ার বিষয়ে ‘অবিচল’ থাকার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিএনপির নির্বাচিত পাঁচজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এতে সন্দেহ দানা বাঁধে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটে। জোট ছাড়েন আন্দালিব রহমান পার্থ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। বিএনপি তাদের না শোধরালে বিজেপির মতো জোটের অন্য শরিকরাও ২০ দল ছাড়ার ‘হুমকি’ দিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট ও বড় দলের অহমিকা ত্যাগ করাসহ নানা শর্ত দিচ্ছেন তারা। তাদের দাবি, বিএনপি বারবার ভুল করছে।এ ভুলের ভাগীদার হয়ে তারা আর খেসারত দিতে চাননা। অবশ্য বিজেপির ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়াকে ‘মান-অভিমান’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে জামায়াত ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট আর বিজেপিকে নিয়ে চারদলীয় জোট গড়ে তোলে বিএনপি। ২০১২ সালে সমমনা আরো রাজনৈতিক দল নিয়ে ১৮ দলীয় জোট গঠিত হয়। পরে আরো দুটি দল শরীক হলে তা ২০ দলীয় জোটে পরিণত হয়।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?