শুক্রবার, ১৯ জুলাই ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০১৯, ১১:২৬:৫৬

ছাত্রদলের শীর্ষ পদে লড়তে চান যারা

ছাত্রদলের শীর্ষ পদে লড়তে চান যারা

ঢাকা: আগামী ১৫ জুলাই সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করতে চায় ছাত্রদল। বাকি পদগুলো কোন প্রক্রিয়ায় কবে মনোনীত হবে তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

তবে বয়সের সীমারেখা বেঁধে দেওয়ায় এবার দুই শীর্ষ পদের জন্য আলোচিত ও আগ্রহী অনেকে লড়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। ছাত্রদলের নেতৃত্ব বাছাইয়ে সংগঠনটির অভিভাবক বিএনপির নেতারা ২০০০ সালকে এসএসসির ভিত্তি বছর নির্ধারণ করেছেন। যারা ওই বছর কিংবা এর পরে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন তারাই কেবল লড়তে পারবেন ছাত্রদলের নেতৃত্বের জন্য। একই সঙ্গে তাদের অবিবাহিত হতে হবে। বিবাহিত হলে প্রার্থী হতে পারবেন না।

শীর্ষ দুই পদে নির্বাচনের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার মনোনয়ন বিক্রির কথা থাকলেও তা শুরু হয়নি। আজ  শুক্রবার বিক্রি হতে পারে বলে জানা গেছে।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে লড়তে চান এমন নেতারা নিজেদের মতো করে কাউন্সিলরদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানান দিচ্ছেন নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতার কথা। বিএনপি ও ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের সঙ্গেও অনেকে যোগাযোগ করছেন, যাতে যাচাই-বাছাইয়ে অযাচিত সমস্যার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

জানা গেছে, ছাত্রদলের প্রতিটি সাংগঠনিক জেলা থেকে পাঁচজন করে কাউন্সিলর নেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজগুলোর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা ভোটার হতে পেরেছেন। তাদের মোটসংখ্যা ৫৭৫। তারা সবাই ভোট দিতে পারবেন।

এদিকে ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ৭ দফা আচরণবিধি প্রণয়ন করেছে।

ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাদের অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে এমন শর্ত থাকলেও কাউন্সিলরদের  বেশির ভাগ বিবাহিত। এ নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। কারণ প্রার্থী হতে না পারলেও বিবাহিতরা ভোট দিতে পারবেন।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি সরাসরি দিয়েছিল মূল দল বিএনপি। গত ৩ জুন বিএনপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয়।

এরপর নতুন কমিটি গঠনে বয়সসীমার একটি শর্ত যুক্ত করে দেয় দলটি। তাতে বলা হয়, ২০০০ সালের আগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কেউ নেতা হতে পারবেন না। এই বয়সসীমা তুলে নিয়ে নিয়মিত কমিটির দাবিতে আন্দোলনে থাকা ১২ নেতাকে ইতিমধ্যে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

এসব ঘটনায় শেষ পর‌্যন্ত কাউন্সিল হবে কি না, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধরা ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছেন। তারা যেকোনো মূল্যে কাউন্সিল ঠেকাতে চান। যদিও সবাইকে নিয়ে পরিবেশ শান্ত করতে কাজ করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

দুই পদে আগ্রহী যারা

সভাপতি পদে আগ্রহীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আল মেহেদী তালুকদারের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। বিএনপির বেশ কিছু নেতা ও সাবেক ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা তাকে সভাপতি করার চেষ্টায় আছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি বিবাহিত বলে ছাত্রদলের নেতাদের অনেকের দাবি।

এ ছাড়া যারা প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মামুন খান, স্কুলবিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান, কাজী রওনক উল ইসলাম (শ্রাবণ)।

তাদের মধ্যে শ্রাবণ যুবদল সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর লোক বলে শোনা গেছে।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা গেছে তাদের মধ্যে একজন নারীকর্মীও আছেন। সরকারি বদরুন্নেসা কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া পাঠান পাপন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এবার তিনি লড়তে চান সাধারণ সম্পাদক পদে। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

ঢাকাটাইমসকে নাদিয়া বলেন, ‘আপাতত দল যে সিদ্ধান্তে আছে আমিও সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিন্তা করছি। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে চাই। তারপরও দল যদি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই মেনে নিব।’

এই পদে আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা শাহনেওয়াজ, শ্যামল, সাগর সর্দার ও এরশাদ খান।

জানা গেছে, সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনের ঘনিষ্ঠ শাহনেওয়াজ, আর শ্যামলকে প্রার্থী করতে চান সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান।

ঘোষণা অনুযায়ী ২৯ ও ৩০ জুন মনোনয়নপত্র জমা, ১ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই হবে। ৪ জুলাই প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ, ৫ ও ৬ জুলাই তালিকার ওপর আপত্তি নিষ্পত্তি, ৭ জুলাই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?