মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৮ নভেম্বর, ২০১৯, ১০:৩৯:১০

১৯৭২-২০১৯: কৃষক লীগের নেতৃত্বে ছিলেন যারা

১৯৭২-২০১৯: কৃষক লীগের নেতৃত্বে ছিলেন যারা

ঢাকা: ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ কৃষকলীগ। কৃষকদের অধিকার রক্ষার জন্য ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সংগঠনটি শুরু থেকেই কৃষকদের কল্যাণে কাজ করে আসছে। আশির দশকে কৃষক বাঁচাও দেশ বাঁচাও আন্দোলন গড়ে তোলে কৃষক লীগ। ৪৭ বছর অতিক্রম করেছে সংগঠনটি। তিন বছর পর পর সংগঠনটির সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় সম্মেলন বিলম্ব হয়েছে নানা কারণে। সময়ের প্রয়োজন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বের পট পরিবর্তন হয়েছে কৃষক লীগের। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটির দশটি সম্মেলন হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্নিপতি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে সঙ্গে তাকেও হত্যা করা হয়।

কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আব্দুর রাজ্জাক। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শরীয়তপুর -৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।  

এরপর ১৯৭২-৭৯ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার বাদল রশিদ। বাদল রশিদ একজন মুক্তিযোদ্ধা।  মুজিবনগর সরকারের ছিলেন পলিটিক্যাল লিঁয়াজো অফিসারেরও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

১৯৭২ থেকে ৭৪ সাল পর্যন্ত দলটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন আব্দুর রউফ। আব্দুর রউফ পাকিস্তান আমলে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে তিনি বোচাগঞ্জ উপজেলায় চেয়্যারম্যন নির্বাচিত হোন। ১৯৯৬ সালের পূর্ববর্তী সময়ে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।  পরবর্তীতে ডাক তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘদিন কৃষক লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন অ্যাডভোকেট রহমত আলী। তিনি সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এরপর ১৯৭৪ সাল থেকে ৭৯ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট রহমত আলী। তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে ৮০ সালে সংগঠনের অতিরিক্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭৯ থেকে ৮০ সাল পর্যন্ত কৃষক লীগের যুগ্ন-আহবায়ক দায়িত্ব পালন করেন। কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তৎকালীন হবিগঞ্জ মহকুমার গর্ভনর ও আওয়ামী লীগের কৃষক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেতা রাশেদ মোশারফও কৃষক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭০ এর নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী ক্ষমতায় এলে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। রাশেদ মোশারফ ১৯৮৮ সাল থেকে ৯৪ সাল পর্যন্ত কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯৪ সালে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন, দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৯ সালে কৃষক লীগের সম্মেলনে তিনি দ্বিতীয় বারও সভাপতি নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালন করেন ২০০৩ সাল পর্যন্ত।

বোরহান উদ্দিন আহমেদ গণ কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন। তার মেয়াদ কাল ছিলো ১৯৭৯ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত। ১৯৮০ সাল থেকে ৮৮ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মহিউদ্দিন আহমেদ। ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক গ্রহণ করেন মিজানুর রহমান মানু। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন হারুন অর রশিদ হাওলাদার।

২০০৩ সালে কৃষক লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন কৃষিবিদ ড. মির্জা জলিল। তিনি থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।

ওই সময়ে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন সদ্য বিদায়ী সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা। পরবর্তীতে ২০১২ সালে সম্মেলনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। ১২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা।

১০ম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে কৃষক লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন কৃষি সমীর চন্দ চন্দ্র। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি।  

 

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?