রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ০৯:৫৪:২০

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারপ্রতি পাবে ৭৫ হাজার টাকা

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারপ্রতি পাবে ৭৫ হাজার টাকা

ঢাকা: দেশে প্রতিবছর নদীভাঙনের কারণে উদ্বাস্তু হচ্ছে ৬৮ হাজার মানুষ। গৃহহীন এসব মানুষের ক্ষতির পরিমাণ ও পরিবারের সদস্য সংখ্যা ভেদে পরিবারপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।

নদীভাঙনকবলিত ২৪ জেলার মোট ৫৯টি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ‘নদীভাঙনকবলিত এলাকার জনসাধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পুনর্বাসন সহায়তা’ শীর্ষক প্রকল্পের ধারণাপত্র চূড়ান্ত করেছে অর্থ বিভাগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে প্রধান করে ১৪ সদস্যের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটি এরই মধ্যে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তথ্য চেয়ে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে চিঠি দিয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রধান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে।

আমরা জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে নদীভাঙনকবলিত এলাকার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছি। শিগগিরই আবারও বৈঠক করে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

প্রকল্পের ধারণাপত্র অনুযায়ী নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবার একবারের বেশি এই সহায়তা পাবে না। ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি এবং পরিবারের নির্ভরশীল সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে পুনর্বাসন সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

পরিবারের সদস্য ৪ জন হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার, ৫ জন হলে ৬০ হাজার এবং ৬ জন হলে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা দেয়া হবে। উপকারভোগী পরিবার বাছাই করতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে ৯ সদস্যের বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হবে।

সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব। কমিটির সদস্যরা হলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, বিআরডিবির মাঠ সহকারী, ইউএনও মনোনীত দুই শিক্ষক, এলাকার দুই গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা।

একইভাবে পৌরসভার কমিটি প্রধান হবেন পৌর মেয়র এবং উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সুবিধাভোগী পরিবার হিসেবে দরিদ্র পরিবার (মাসিক আয় অনধিক ১৫ হাজার টাকা), ভূমিহীন পরিবার (জমির পরিমাণ অনধিক দশমিক ০৫ শতাংশ), দুস্থ পরিবাররাই (পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নেই, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী নিগৃহীত, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, হিজড়া, বেদে প্রভৃতি ধরনের পরিবার) এ সহায়তার আওতায় আসবেন।

প্রকল্প বাস্তবায়নের এলাকা হিসেবে প্রাথমিকভাবে নদীভাঙনকবলিত ২৪ জেলার ৫৯টি উপজেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ডিসিদের পাঠানো তথ্য পাওয়ার পর এ উপজেলার সংখ্যা কমবেশি হতে পারে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত উপজেলাগুলো হল- জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ। কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম, গাইবান্ধার ফুলছড়ি, কুড়িগ্রামের চিলমারী, চর রাজিবপুর, রৌমারী ও ফুলবাড়ি। লালমনিরহাটের সদর, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী, রংপুরের গংগাচড়া ও কাউনিয়া, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা, ভোলার মনপুরা, লালমোহন, তজুমদ্দিন ও দৌলতখান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর ও শিবগঞ্জ এবং বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা।

পাশাপাশি পাবনার বেড়া ও সুজানগর, সিরাজগঞ্জের সদর, কাজীপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি, চৌহালি এবং রাজশাহীর সদর, বাঘা ও চারঘাট উপজেলা এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলার সদর, কমলনগর ও রামগতি, নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া, চাঁদপুরের সদর ও হাইমচর, রাজবাড়ীর সদর ও গোয়ালন্দ এবং শরীয়তপুরের নড়িয়া, জাজিরা, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও ঘোসাইরঘাট উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় রয়েছে মাদারীপুরের শিবচর, ফরিদপুরের সদর ও চরভদ্রাসন, টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর ও নাগরপুর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, হরিরামপুর ও দৌলতপুর, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি ও লৌহজং এবং ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলা।

বছরে গড়ে ১০ হাজার হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীতীরে বসবাসকারী অসংখ্য মানুষ সম্বলহীন হয়ে পড়ছে। স্বাধীনতার পর ভাঙনে প্রায় ১ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমি নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে।

অন্যদিকে নতুন ভূমি সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৮০ হাজার হেক্টর। দেশে প্রতিবছর নদীভাঙনে উদ্বাস্তু হচ্ছে প্রায় ৬৮ হাজার মানুষ। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নদীভাঙনে বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য এই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?