সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৯, ০৯:২০:৪২

প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী-এমপির নিয়ন্ত্রণ : তৃণমূল আওয়ামী লীগে পকেট কমিটি

প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী-এমপির নিয়ন্ত্রণ : তৃণমূল আওয়ামী লীগে পকেট কমিটি

ঢাকা: সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূল আওয়ামী লীগে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠনে হাইকমান্ডের নির্দেশনা মানছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিকাংশ নেতা। তারা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা, এমপি-মন্ত্রীদের আস্থাভাজন ও বলয়ভিত্তিক নেতাদের কমিটিতে স্থান দিচ্ছেন।

এতে বাদ পড়ছেন দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাকর্মীরা। এসব কমিটির মাধ্যমে প্রভাবশালীদের হাত ভারি হচ্ছে। তৃণমূলে শেখ হাসিনার নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও শক্তি দুটোই কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সার্বিকভাবে দলের কোনো লাভ হচ্ছে না।

বেশিরভাগ এলাকায় নির্বাচন পাশ কাটিয়ে পকেট কমিটি ঘোষণা দেয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলছে। অনেক স্থানে নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়ছেন।

এ ধরনের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সোমবার কুষ্টিয়ার খোকসা-কুমারখালীতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। লালমনিরহাটে এ ইস্যুতে দু’পক্ষের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়েছে।

সিলেট সদর উপজেলায় দফায় দফায় বৈঠক করেও কমিটি করা সম্ভব হয়নি। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মোহাম্মদ আলীকে সভাপতি ও সফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

তারা আপন দুই ভাই। ভোট ছাড়াই দু’জনের নাম ঘোষণা করেন তাদের বড় ভাই জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও এমপি দবিরুল ইসলাম। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আপন তিন ভাই।

এর আগে ২০ নভেম্বর সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শহিদ উল্যাহ খান সোহেল ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ১৬ নভেম্বর কমিটি ঘোষণা নিয়ে ফরিদপুরের নগরকান্দা-সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষে সম্মেলন স্থগিত করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

নগরকান্দার কেদালিয়া স্কুলমাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশে তৃণমূল আওয়ামী লীগের সম্মেলনের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এসব তথ্য।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, দলে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ব্যাপক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ইতিমধ্যে তিনি চাঁদাবাজ, টেন্ডার ও দখলবাজ, ক্যাসিনো-জুয়া কারবারি, মাদক ব্যবসায়ী, দলে ও সরকারে বিভেদ সৃষ্টিকারীসহ নানা অপকর্মে জড়িতদের দলে জায়গা দেয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন।

আওয়ামী লীগের বিভাগীয় ৮ সাংগঠনিক টিমের নেতাদের এ নির্দেশনা মেনে তৃণমূল কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেয়া হয়। একই সঙ্গে তৃণমূলে সৎ, আদর্শবান, জনপ্রিয় ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠনের কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

কিন্তু নানা কারণে সেই নির্দেশ পালন করছেন না, কিছু কিছু ক্ষেত্রে করতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট নেতারা। অধিকাংশ স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশিত ভোটের মাধ্যমে কমিটি দেয়া হচ্ছে না।

উল্টো স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা, এমপি ও মন্ত্রীদের ইচ্ছামাফিক চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে ঘোষিত কমিটি। এতে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগ কর্মীরা হতাশ ও কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বহুদিনের পরীক্ষিত রাজপথের নেতাকর্মীরা।

দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, দল এবং সরকারকে আলাদা করার ঘোষণার কথা অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবার জেলা-উপজেলা কমিটিগুলোর শীর্ষ দুই পদ থেকে স্থানীয় এমপিদের দূরে রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এ ধরনের প্রচারণার পর থেকেই মূলত তৃণমূলে পকেট কমিটি দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য কমিটিতে থাকতে না পারলে তার বিরোধী পক্ষ পদে চলে আসতে পারে। এতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়ার আশঙ্কা আছে।

এ বিষয়টি মাথায় রেখে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তার আস্থাভাজনদের কমিটিতে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ কারণেই কর্মীদের দাবি সত্ত্বেও ভোটে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে কমিটি দেয়ার চেষ্টা করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

এতে অনেক এলাকার জনপ্রিয়, সৎ, নিষ্ঠাবান নেতা বাদ পড়ছেন। দায়িত্ব পাচ্ছেন এমপির আস্থাভাজনরা। জনপ্রিয় নেতাকে বাদ দিয়ে অন্যদের পদ দেয়ায় বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এমন শঙ্কায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে কমিটি ঘোষণা করছেন না।

তারা ওই এলাকা থেকে ফিরে জেলা, উপজেলা বা ঢাকায় এসে বিভিন্ন পদে নেতাদের নাম ঘোষণা করছেন। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যায়ে এ ধরনের চাপানো কমিটি বেশি হচ্ছে।

তৃণমূল আওয়ামী লীগের এ চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনে সংক্রমিত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিমের একাধিক নেতা বলেন, তৃণমূল কমিটি নিয়ে স্থানীয় বর্তমান ও সাবেক এমপিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট। তারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে চান না।

সাবেক এমপিরা চান- দলে পদ নিয়ে এমপিকে কোণঠাসা করে রাখতে। এমপি চান মূল স্রোতে পুরনোদের আনলে নিজস্ব কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী নেতাদের দ্বন্দ্বে ভোটের পরিবেশও বিনষ্ট হচ্ছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় নেতারাও দু’ভাগ হয়ে পড়ছেন। এতে দলকে কলুষমুক্ত করার ক্ষেত্রে দলের হাইকমান্ডের যে প্রত্যাশা, তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সোমবার টেলিফোনে বলেন, তৃণমূল সম্মেলনে প্রার্থীরা সমঝোতায় এলে দোষ কোথায়?

যেখানে সমঝোতা হচ্ছে না সেখানে তো ভোট হচ্ছে। আমাদের দলের নিয়মটা এমনই। অতীতে যেভাবে নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, এখনও সেভাবেই হচ্ছেন। আর প্রভাবশালীদের প্রভাবের কথা ঠিক না।

সিলেকশনের বিষয়ে তিনি বলেন, তৃণমূলের সব জায়গায় আমরা সিলেকশনের মাধ্যমে দলীয় কমিটি দিচ্ছি না। ঐকমত্য হলে সেখানে তাদের মতো করেই একজনের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আজ (সোমবার) বান্দরবানেও একইভাবে কমিটি গঠিত হয়েছে। সভাপতি পদে একাধিক প্রার্থী না থাকায় একক প্রার্থীকেই ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন চারজন।

তাদের সমঝোতা করতে বলা হয়েছে। তারা সমঝোতা করে একজনকে চূড়ান্ত করলে তার নাম ঘোষণা করা হয়। আর সব জায়গায় না চাইলে ভোট করতে হবে কেন?

যেখানে দরকার সেখানেই শুধু ভোট হবে। ফেনীতে সভাপতি পদে ভোট হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়েছেন। সিলেকশনে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

দলীয় নির্দেশনা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। যোগ্যরাই কমিটিতে আসছেন। এ নিয়ে অভিযোগের সুযোগ নেই।

তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ স্থানে কমিটি গঠন করতে গিয়ে উপজেলা, জেলা কিংবা কেন্দ্রীয় নেতারা আদর-আপ্যায়নে ডুবে থাকছেন। স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীর আশীর্বাদপুষ্ট নেতা এসবের আয়োজন করেন।

পরে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশিত নির্বাচন বন্ধ করে প্রভাবশালীদের সুপারিশে কমিটি দেয়া হচ্ছে। কিছু এলাকায় কমিটি ঘোষণা না করেই ফিরে আসেন নেতারা।

পরে উপজেলা, জেলা এমনকি ঢাকা থেকে প্রভাবশালী নেতাদের ইচ্ছামতো কমিটি ঘোষণা করা হয় যা তৃণমূলের মতামতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষ : সোমবার কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সিলেকশনে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি বাবুল আক্তার এবং সাধারণ সম্পাদক ও খোকসা পৌরসভা মেয়র তারিকুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান।

এ সময় পাশেই বসে ছিলেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য এসএম কামাল। সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির আস্থাভাজন।

সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান ও কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন এবং খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তারা চিকিৎসা নেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, উপজেলা সম্মেলনে নেতাকর্মীদের একটাই দাবি ছিল- ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করা।

কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান তার নিজের মতো করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন।

বিষয়টি আমরা কেউ মেনে নিতে পারিনি। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে মুখ চেপে সহ্য করলেও অন্য নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সবার সমঝোতা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, একাধিক প্রার্থী থাকলেও সেখানে সমঝোতা হয়।

আমরা প্রথমে সমঝোতার চেষ্টা করি। কাজ না হলে ভোটের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু খোকসা উপজেলায় সমঝোতা হওয়ায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি।

আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে ইতিমধ্যে দলটির চারটি সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগে দ্বিতীয় অধিবেশনে আলোচনার মাধ্যমে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে নেতার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সিলেটে সম্মেলন : এদিকে সোমবার সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলেও কমিটি ঘোষণা হয়নি। কমিটি গঠনে কাউন্সিলরদের মতামত প্রাধান্য না দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন সংশ্লিষ্টরা।

দফায় দফায় বৈঠক করে তারা কমিটি গঠনে ঐকমত্যে আসতে পারেননি। এ নিয়ে হতাশ তৃণমূল কাউন্সিলররা। তাদের অভিযোগ- সম্মেলনে তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাদের পছন্দমতো নেতা নির্বাচন করতে পারেননি।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক।

তবে নেতাদের এমন প্রস্তাবে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মীরা সায় দেননি। তারা ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করার দাবি জানান।

এ নিয়ে হট্টগোল দেখা দিলে আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজসহ কয়েকজন নেতা সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। পরে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী সদরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে ওই দুই পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করার চেষ্টা চালান। তবে তারাও ব্যর্থ হয়ে সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন।

সভায় একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেন, জেলা আওয়ামী লীগের কেউ কেউ তাদের পছন্দে পকেট কমিটি গঠনের পাঁয়তারা করছেন।

বৈঠকে পকেট কমিটি না দিয়ে ভোটের মাধ্যমে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের দাবি জানান তারা।

লালমনিরহাটে সংঘর্ষ : এদিকে লালমনিরহাটে ইউনিয়ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে শটগানের গুলি, টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে। এতে পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৫০ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৩ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। সোমবার বিকালে উপজেলার শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতের পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

তিন ভাইয়ের কব্জায় ঠাকুরগাঁও ও বালিয়াডাঙ্গী আ’লীগ : ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মোহাম্মদ আলীকে সভাপতি ও সফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

সোমবারের এ সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আপন দুই ভাইয়ের নাম ঘোষণা করেন তাদের বড় ভাই জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও এমপি দবিরুল ইসলাম।

তিনি নিজেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে তার ছোট দুই ভাইয়ের নাম ঘোষণা করেন। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের এ শীর্ষ তিনটি পদে একই পরিবারের তিন সদস্য হওয়ায় এ নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

তবে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। ৪ ভাইয়ের মধ্যে এমপি দবিরুল ইসলাম সবার বড়। তৃতীয় ভাই ঠিকাদারির সঙ্গে যুক্ত।

সোমবার বেলা ৩টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন এমপি। উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দবিরুল ইসলাম।

সম্মেলন শেষে সপ্তমবারের এমপি দবিরুল ইসলাম তার মেজ ভাই মোহাম্মদ আলীকে সভাপতি ও ছোট ভাই সফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত ঘোষণা করেন। জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাদেক কুরাইশী এ সময় বলেন, বিষয়টি নিন্দনীয়।

তবে চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই। তিনি বলেন, এছাড়া সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন ছিলেন। তিনি জানেন কী করতে হবে।

এছাড়া বালয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি মোহাম্মদ আলীর বড় ছেলে আকরাম হোসেন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ছোট ছেলে আলী আসলাম জুয়েল বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা চেয়ারম্যান।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?