রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৩ জানুয়ারী, ২০২০, ০৩:০৭:০২

বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে বিএনপি

বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে বিএনপি

ঢাকা: আসন্ন ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। মেয়র প্রার্থী নিয়ে তেমন সমালোচনা হয়নি। কিন্তু কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থী চূড়ান্তের ক্ষেত্রে হিন্দু কোটাও মানা হয়নি। এখন একই ওয়ার্ডে বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সাক্ষাৎকারের সময় বিএনপি যে অঙ্গীকারনামা নিয়েছিল সেটিও মানছেন না বিদ্রোহীরা। তাই বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ড চরম বিপাকে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির সদস্যরা প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট এলাকার খোজ খবর নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী দিয়েছি। যারা সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে থাকবেন। তাদের বিষয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ২৫টি নারী (সংরক্ষিত) ওয়ার্ড এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১৮টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের বেশির ভাগেই বিএনপির একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য কাজ করছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩০ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন নাসির উদ্দিন। অথচ এই ওয়ার্ডে বিএনপির আরো অন্তত পাঁচজন প্রার্থী হতে চান। তারাও মনোনয়ন ফরম কিনেছেন এবং নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন। তারা হলেন মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি আবুল হাসেম, আদাবর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপ্তি, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হাসান জীবন, আদাবর থানা যুবদল সভাপতি কামাল।

জানা গেছে, সবুজবাগ থানার অধীনে ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন চারজন। তাদের মধ্যে দলের সমর্থন পেয়েছেন সবুজবাগ থানা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম হোসেন। কিন্তু দলের সমর্থন না পেলেও এই ওয়ার্ডে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য মো. মোরসালিন।
চকবাজার থানা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমেদ সেলিম। চকবাজার থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিএনপির মনোনয়নপত্র যে তিনজন সংগ্রহ করেছেন তিনি তাঁদের একজন। এখানে থানা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক শাহিদা মোরশেদ দলের সমর্থন পেয়েছেন। ধানমণ্ডি থানার অধীনে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তিনজন। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনোনয়ন পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে থাকছেন থানা বিএনপির নেত্রী রাজিয়া সুলতানা।

মতিঝিল থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে তিনজন ফরম নিয়েছেন, দলের সমর্থন পেয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশীদ। কিন্তু থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচন করবেন ঘোষণা দিয়েছেন।

জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ৩২ ওয়ার্ডে নাছির উদ্দিন, সাকিফ সারোয়ার ও জাহিদ হোসেন, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ মান্নান হোসেন শাহীন ও মাসুম কবির, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে হাজি ইউসুফ ও মাসুম খান রাজেশ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জামাল হোসেন বাপ্পী, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন,৩১ নম্বর ওয়ার্ডের হাসিনা মোরশেদ কাকলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ হাবিবুর রহমান হাবিব, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাম রব্বানী, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সোলাইমান দেওয়ান, ২ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাম মোস্তফা মাস্টার ও রাহাদুল ইসলাম ভূইয়া রিপন, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে হাসিনা মোরশেদ কাকলী, ফরিদ উদ্দিন। ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে মোস্তফা কামাল হৃদয়, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে হাজি জহিরুল ইসলাম জহির, হারুনুর রশিদ খোকা (এই ওয়ার্ডে এখনো সমর্থন দেওয়া হয়নি), ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে আনোয়ার হোসেন জমিদার ও আমজাদ হোসেন, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে হেলাল তালুকদার, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে শফিকুল আলম পাটোয়ারী, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে আলী হোসেন ও মেজবাহ উদ্দিন টুটুল, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে (এখনো সমর্থন দেওয়া হয়নি) আতাউর রহমান আতা, আজহারুল ইসলাম সেলিম ও বাবুল শেখ, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে কামরুল ইসলাম, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে আলী হোসেন, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে (এখনো সমর্থন দেয়নি) এনায়েতুল হাফিজ, লিটন মাহমুদ বাবু ও আব্দুল কাদের, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাহাদুল ইসলাম রিপন সহ বেশ কয়েকজন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৩২ ওয়ার্ডে নাছির উদ্দিন বিদ্রোহী প্রার্থী বলেন, দল মনোনয়ন না দিলেও আমি নির্বাচন করব। দক্ষিণের ধানমণ্ডি থানার অধীনে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে  বিদ্রোহী সিরাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে আছি। দল মনোনয়ন না দিলেও নির্বাচন করব।

এদিকে, নারী (সংরক্ষিত) কাউন্সিলর পদে হিন্দু কোটা মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন একমাত্র হিন্দু প্রার্থী ছিলেন মিতা দত্ত। তিনি ৩৫, ৩৬, ৩৭ ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী ছিলেন। সাক্ষাৎকার বোর্ডের ৮ জনের মধ্যে ৬ জনই তার পক্ষে সমর্থন দেন। কিন্তু দু’জনের বিরোধীতার কারণে মিতা দত্তকে বাদ দেয়া হয়। পুরান ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় তাকে মনোননয় না দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির দায়িত্ব প্রাপ্ত তিনটি কমিটি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য কাউন্সিলর (সাধারণ) পদে দলীয় মনোনয়ন ফরম নেওয়া ২২০ জন এবং নারী (সংরক্ষিত) কাউন্সিলর পদে ফরম নেওয়া ৬০ জনসহ মোট ২৮০ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। উত্তরে কাউন্সিলর (সাধারণ) পদের দলীয় ফরম নেওয়া ১৬২ জন এবং সংরক্ষিত মনোনয়ন ফরম নেওয়া ৩৪ জনসহ মোট ১৯৬ জনের সাক্ষাৎকার নেয়।

 

আজকের প্রশ্ন

ঢাকার সিটি নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হলে জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আপনিও কি তাই মনে করেন?