শনিবার, ২৮ মার্চ ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০, ০৮:৫৪:২১

সাত ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলররা জয়ী হলেও হেরেছে ধানের শীষ

সাত ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলররা জয়ী হলেও হেরেছে ধানের শীষ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে সাতটিতে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তবে এসব ওয়ার্ডে দলটির মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন জয় পাননি। এই সাত ওয়ার্ডের মধ্যে একটি ওয়ার্ডের ৯ কেন্দ্রের একটিতেও জয় পাননি তিনি। বাকি ৬ ওয়ার্ডের ১০৫ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টিতে জিতেছে ধানের শীষ। ৪৬টিতে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। দুটিতে সমান ভোট পেয়েছে নৌকা ও ধানের শীষ। ডিএসসিসি নির্বাচনের ঘোষিত ফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলো তো ঘোষণা দিয়ে পাহারা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, তা-ই হয়েছে।

সেখানে তারা নিজেরা ভোটার নিয়ে এসেছেন কিনা জানি না। শুনেছি ভোটকেন্দ্রের মধ্যেও দলীয় লোক অবস্থান করেছেন। ভোটের এই ফল স্বাভাবিক বলা যাবে না। এখন ফল ঘোষণার সময় কোনো কারসাজি হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

দক্ষিণ সিটির ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিল নির্বাচিত হন বিএনপি সমর্থিত সামশুল হুদা কাজল। এই ওয়ার্ডের ১৪ কেন্দ্রের ১০টিতে দলটির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন জয়ী হন। বাকি চারটিতে জয় পান ব্যারিস্টার তাপস। ১১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিল হয়েছেন বিএনপির মির্জা আসলাম আসিফ। এই ওয়ার্ডের ১৮ কেন্দ্রের ১৩টিতে ধানের শীষ জয়ী হয়। বাকি ৫টিতে নৌকা জয়লাভ করে।

৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন বিএনপি সমর্থিত মো. মামুন। এই ওয়ার্ডের ১৩ কেন্দ্রের ৫টিতে জয় পায় ধানের শীষ। বাকি ৮ কেন্দ্রের মধ্যে নৌকা জয়ী হয় ৭ কেন্দ্রে, ফল সমান হয় একটি কেন্দ্রে।

৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন বিএনপি সমর্থিত বাদল সরদার। এই ওয়ার্ডে ১৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১২টিতে জয়ী হয়েছে ধানের শীষ। বাকি ৬ কেন্দ্রে নৌকা জয়ী হয়। তবে এই ওয়ার্ডে ধানের শীষের প্রাপ্ত ভোট পাঁচ হাজার ১৪৬। নৌকা পেয়েছে ছয় হাজার ১৫৭ ভোট।

৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত মীর হোসেন মিরু। এই ওয়ার্ডের ১৯ কেন্দ্রের ৯টিতে জয় পেয়েছে ধানের শীষ। বাকি ১০ কেন্দ্রের ৯টিতে জয়ী হয় নৌকা, ১ কেন্দ্রে ফল সমান হয়।

৬১ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত জুম্মন মিয়া কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এই ওয়ার্ডের ২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ধানের শীষ জয়ী হয় ৮টিতে। বাকি ১৫ কেন্দ্রে জয়ী হয় নৌকা। ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হয়েছেন বিএনপির আকবর হোসেন। এই ওয়ার্ডে ৯টি কেন্দ্রের একটিতেও জয় পায়নি ধানের শীষ। সব কটিতেই জয়ী হয়েছে নৌকা।

এই সিটির এক হাজার ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭ শতাংশের কম ভোট পড়েছে ৯টি কেন্দ্রে, ৮ শতাংশের কম ১৫টিতে, ৯ শতাংশের কম ১৮টিতে, ১০ শতাংশের কম ২৫টিতে, ১১ শতাংশের কম ৩৪টিতে, ১২ শতাংশের কম ৪১টিতে, ১৩ শতাংশের কম ৫৯টিতে, ১৪ শতাংশের কম ৮০টিতে এবং ১৫ শতাংশের নিচে ভোট পড়েছে ১০৭টি কেন্দ্রে। ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে ৪৬ কেন্দ্রে। ১৪ কেন্দ্রে ৬০ শতাংশের বেশি এবং ৭৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে ৫ কেন্দ্রে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী ১৯টি কেন্দ্রে ১০ ভোটেরও কম পেয়েছেন। ১৪৬ কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনটি কেন্দ্রে নৌকা ও ধানের শীষের ভোট ছিল সমান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ভোটের হার মাত্র ২৯.০২ শতাংশ। এর আগে ২০১৫ সালের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪৯ শতাংশ। ৭৫টি ওয়ার্ডে এবার ভোটার ছিলেন ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৫৯ জন। মেয়র পদে প্রার্থী ছিলেন ৭ জন।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?