শনিবার, ০৮ আগস্ট ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০, ১২:৫৪:৩১

‘অনিশ্চয়তায়’ও ঢাকার উপ-নির্বাচনে ‘সরব’ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

‘অনিশ্চয়তায়’ও ঢাকার উপ-নির্বাচনে ‘সরব’ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনে অংশ নেয়া; না, নেয়া নিয়ে বিএনপিতে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ । করোনাকালে নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে মতবিরোধ রয়েছে। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ধানের শীর্ষের টিকেট চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। দলীয় ‘সবুজ সংকেত’ পেলে করোনাভাইরাস মহামারিতেও মাঠে নামতে প্রস্তত আছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেউ কেউ।

 আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ও হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা-১৮ ও ঢাকা-৫ শূন্য আসন শূন্য হয়। এর মধ্যে মধ্য আগস্ট বা আগস্টের শেষ সপ্তাহে ঢাকা-৫ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে সোমবার জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর। এরও পরে আলোচনা হবে ঢাকা-১৮ আসনের বিষয়ে জানান তিনি।

বগুড়া-১ আর যশোর-৬ আসনে নির্বাচন বর্জন করলেও ঢাকার আসন দুটিতে ছাড় দিতে নারাজ বিএনপি। আসন দুটির একটি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার অপরটি চট্টগ্রামসহ দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার। সুতরাং এই আসন দুটিতে জয়লাভের জন্য পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে চায় দলটি।

গত শনিবার বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ঢাকার এই দুটি আসনে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কারোনাকালে নির্বাচনে অংশ নেয়া নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মতামত উঠে এসেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানা গেছে।

এরমধ্যে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের মত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। কেউ কেউ ‘ঘরোয়া’ বৈঠকও করছেন। দলের ‘সবুজ সংকেত’ পেলে মাঠে নামতেও প্রস্তুত তারা মনোনয়ন প্রত্যাশীরা পরিবর্তন ডটকমকে এমনটাই জানালেন।

জানা গেছে, ঢাকা-৫ আসন থেকে সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন নির্বাচন করতে চান। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও দল চাইলে তিনি এবার এ আসনে তিনি নির্বাচন করবেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি নবী উল্লাহ নবী এ আসনে দলীয় প্রার্থী ছিলেন। এবারও তিনি দলের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর কাজী আবুল বাশারও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে এ আসনে গত নির্বাচনে দলের চিঠি পাওয়া অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নিবেন না বলে জানিয়েছেন।

সালাউদ্দিন বলেন, দল চাইলে আমি নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছি। ঢাকা-৫ আসনে জনগণের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। ১৯৯১ এবং ২০০৮ সালে আমি এই এলাকা থেকে নির্বাচন করেছি।

অপরদিকে ঢাকা-১৮ আসনে একাদশ নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জেএসডির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।

এ আসনে গত নির্বাচনে বিএনপি থেকে চিঠি পান তরুণ ব্যবসায়ী বাহাউদ্দীন সাদী ও যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর।

মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রশিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কফিল উদ্দিনও মনোনোয়ন প্রত্যাশী।

কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, উত্তরার আদি বাসিন্দা হিসেবে আমি মনোনয়ন পাওয়ার আশা করি। আমি টঙ্গী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের জিএস ও ভিপি ছিলাম। উত্তরা থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও অভিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক ছিলাম। বর্তমানে আমি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক। ১০০টির বেশি মামলা রয়েছে। আশা করি দল অবশ্যই আমাকে বিবেচনা করবে।

দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনায় তিনি মাঠে আছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নিয়ে দল করি। দল আমার উপর আস্থা রাখলে জনগণ আমাকে বিবেচনা করবেন। আমি একজন সফল ব্যবসায়ী। এফবিসিসিআই, বিজিএমইএর সদস্য। নতুন সংগঠন অটো ব্রিক অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বেশ কয়েক সংগঠনে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

ঢাকা- ১৮ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুণ ব্যবসায়ী বাহাউদ্দীন সাদী বলেন, দল যদি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আমি প্রস্তুত আছি।

মাঠে নামার প্রসঙ্গে সাদী বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই দুর্যোগ ও সংকটকালীন মুহূর্তে নির্বাচনে যাওয়ার থেকেও জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখে আমরা আপাতত প্রচার বন্ধ রেখেছি। নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে দলীয় নির্দেশনা পেলে যে কোন সময় পূর্ণশক্তিতে প্রচার-প্রচারণা চালাবার মতো সাধ্য এবং সামর্থ্যে দুটোই আমার আছে।

বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের নগর উত্তর সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন আগে থেকেই সক্রিয়। তার এ সক্রিয়তা নির্দিষ্ট একটি বলয়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও কখনও সিনিয়র পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারেননি।

অপরদিকে ঢাকা-৫ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী নবী উল্লা নবী বলেন, বর্তমানে করোনা মহামারির মধ্যে হুট করে নির্বাচন দেওয়াটা আমি সঠিক মনে করি না। প্রার্থী এবং ভোটার সবারই জীবনের ঝুঁকি আছে। ঢাকা-৫ আসনটি অত্যন্ত ঘন বসতিপূর্ণ। এখানে এই মহামারির মধ্যে নির্বাচন দিলে আরও সংক্রমণের আশঙ্কা আছে।

তিনি বলেন, যদি নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে আর বিএনপির হাইকমান্ড থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমি প্রস্তুত আছি।

এই আসনের অপর সম্ভাব্য প্রার্থী কাজী আবুল বাশার বলেন, অভিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনে দীর্ঘ ১৮ বছর কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেছি। ঢাকায় যখন ৫০টি ওয়ার্ড ছিল তখন আমি ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলাম। দীর্ঘদিন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছি। ৪০ বছর বিএনপির রাজনীতি করি। দল যদি আমাকে ঢাকা-৫ আসনে মনোনয়ন দেয়, আমি নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছি। আর দল আমাকে না দিয়ে অন্য কাউকে দিলে তার সঙ্গেও আমি মাঠে থাকবো। ধানের শীষের রাজনীতি করি। হাই কমান্ড যাকে ধানের শীষ দেবে তিনিই আমাদের প্রার্থী।

এই বিভাগের আরও খবর

  ১২১ উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রগতি ছাড়াই বছর পার

  ভারতকে চাপে রাখতে চীন-পাকিস্তানমুখী হচ্ছে বাংলাদেশ : দ্য হিন্দু

  বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য মিয়ানমারকে সামরিক সাহায্য দিচ্ছে ভারত

  ‘অনিশ্চয়তায়’ও ঢাকার উপ-নির্বাচনে ‘সরব’ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

  বাংলাদেশে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রি এক জমজমাট ব্যবসা: নিউইয়র্ক টাইমস

  জাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটির গুঞ্জন, আলোচনায় যারা

  করোনা পরীক্ষায় অনিয়ম: বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতার আশংকা বাংলাদেশের সামনে

  করোনায় কতজন নেতাকর্মী আক্রান্ত ও মারা গেছেন, জানে না কোনও দল

  বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে জামায়াত ছাড়ার পরামর্শ স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যের

  সেনজেন ভিসা সুবিধার বাইরে থাকছে বাংলাদেশ

  সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড়

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?