মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৮ জানুয়ারী, ২০১৭, ১০:৪৯:১৭

সাংগঠনিক ব্যস্ত বছর পাড় করতে চায় আ.লীগ

সাংগঠনিক ব্যস্ত বছর পাড় করতে চায় আ.লীগ

ঢাকা: ২০১৯ সালে দলীয় সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে কাজ শুরু করেছে দলটি। জাতীয় নির্বাচনের আগে দলকে সুসংগঠিত করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপর হাই-কমান্ডের নির্দেশ রয়েছে। হাই-কমান্ডের নির্দেশের পর কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলকে সংঘবদ্ধ করতে সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করছে।  

জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো ‘ভুল’ করতে চায় না আওয়ামী লীগ। নিজেদের ‘সত্যিকারের জনপ্রিয়তা’ জানান দিতে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের বিকল্প ভাবছে না আওয়ামী লীগ। সেই কথা মাথায় রেখেই প্রস্তুত হচ্ছে দলটি। সেজন্য জেলায় জেলায় নেতার সঙ্গে কর্মীর এবং এমপির সঙ্গে নেতার দূরত্ব কমাতে এরই মধ্যে ১০০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সাংগঠনিকভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন আসন নিশ্চিত এবং কোনগুলো অনিশ্চিত তা নিয়ে কাজ করবে দলের নীতিনির্ধারকরা। এজন্য দলীয় সাংসদের আমলনামা তৈরি করবে দলটি। যেসব আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পাওয়া যাবে সেগুলো নিয়ে নতুনভাবে হিসাব-নিকাশ করবে দলটি। জাতীয় নির্বাচনের আগে সাংসদরা নিজেদের ‘ভুল’ সংশোধন না করলে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে ২০১৭ সালকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। এ জন্য দলের ইমেজ ‘ক্লিন’ করতে এবং জনপ্রিয়তা বাড়াতে সারা বছর পাড় করবে আওয়ামী লীগ। এ জন্য নতুন বছর কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত সংগঠনের অভ্যন্তরে দলাদলি দূর করাসহ সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করার মতো বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গ দলের বিতর্কিত সাংসদ এবং নেতা-কর্মীদের ছাড় দিতে রাজি নয় দলটি।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক সভায় বলেন, ‘নতুন বছরে আগামী ১০০ দিনের কর্মসূচি হবে দল গোছানোর কর্মসূচি। আগামী ১০০ দিনের মধ্যে দল পুনর্গঠন করা হবে। দলের প্রতি অনুগত পরিচ্ছন্ন ও দলের জন্য ত্যাগী নেতাদের দলে আনা হবে। আওয়ামী লীগ অনেক বড় একটি দল, বড় একটি পরিবার। বড় একটি পরিবারে ছোট খাটো সমস্যা থাকবেই। এই সমস্যাগুলো নিরসন করে আমরা অমাদের নেত্রীকে একটা সুসংগঠিত আওয়ামী লীগ উপহার দেব।’

দলের অপর একটি সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দলের হিসেব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারকেরা ভাবতে শুরু করেছে সংঘবদ্ধ আওয়ামী লীগ আর ক্লিন ইমেজের প্রার্থীই বিজয়ী হওয়ার প্রধান শর্ত। জাতীয় নির্বাচনে এ দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করবে নব-গঠিত কেন্দ্রীয় নেতারা। এজন্য বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা প্রধান ভূমিকা পালন করবেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, সারাদেশে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। চলতি মাস থেকেই কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা-থানা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সফর করবেন। দলীয় দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকলে তা মিটিয়ে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করাই হবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘আমরা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এজন্য দলের মধ্যে ঐক্যের বিকল্প নাই। আওয়ামী লীগের উন্নয়ন-অর্জন যাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের দ্বারা ম্লান না হয়ে যায় সেজন্য তৃণমূলকে সুসংগঠিত করা হবে।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। দলীয় নেতা-কর্মীদের আরও বেশি সুসংগঠিত করতে এ বছর  বেশি মনোযোগ থাকবে আওয়ামী লীগের। এছাড়া তৃণমূলকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে এ বছর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী। আমাদের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চাই। এজন্য সারাদেশে দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন-অজর্নের বিষয়টি জনগণের মধ্যে প্রসারিত করা হবে।’

 

 

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?