সোমবার, ২৪ এপ্রিল ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৮ জানুয়ারী, ২০১৭, ১১:০১:০৮

কর্মসূচি ডেকে মাঠে নেই বিএনপি

কর্মসূচি ডেকে মাঠে নেই বিএনপি

ঢাকা: দলের জাতীয় কাউন্সিল সফল হয়েছে দাবি করার পরও রাজনৈতিক দল হিসেবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই বিএনপির। সাংগঠনিক তৎপরতা ও কাঠামো অত্যন্ত নাজুক ও স্থবির। সবকিছুই যেন দায় সাড়া। সংবাদ সম্মেলন ছাড়া হচ্ছে না সুষ্ঠুভাবে দলের কোনো কার্যক্রম। রাজনৈতিক অবস্থান শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। দেশের রাজনীতিতে বিরোধী দল হিসেবে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সোচ্চার হতে যেমন ব্যর্থ, তেমনি ব্যর্থতার তকমা থেকে কোনো অজুহাতেই সহজেই বেরও হতে পাচ্ছে না দলটি। যার সবচেয়ে বড় খেসারত দিচ্ছে অনুমতি ছাড়া কোনো সভা-সমাবেশ করতে না পারার মাধ্যমে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য চিত্র উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলেও লোক দেখানো ছাড়া কোনো কার্যক্রম নেই। সবাই এখন ফেসবুক আর সেলফি নির্ভর। তাই ঢাকায় কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হলে, জেলা পর্যায়ে কর্মসূচি’র নির্দেশ দেয়া হয়। তবে জেলা-উপজেলার কমিটিতে মূল্যায়িত হন না ত্যাগীরা। তৃণমূলের রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের পকেটের লোকজনকেই নেয়া হয় বলেই দলটিকে সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের বিপরীতে পাল্টা কৌশল নির্ধারণে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিতে হচ্ছে বলেও জানান নেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ঢাকাই নয়, দেশের অন্যান্য মহানগর বিএনপির কার্যক্রমের চিত্রও একই। সাংগঠনিক অবস্থা খুবই নাজুক। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগ অনুযায়ী যাদেরকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে পদ দেয়া হয়েছে, তাদের অধিকাংশ নেতাই ঢাকামুখী। দায়িত্বশীল বিভাগে যায় না বললেই চলে। বরং সংশ্লিষ্ট নেতারা ঢাকায় বসে নিজেদের আধিপাত্য ধরে রাখতে তৃণমূলে দ্বন্দ্ব-কোন্দলকে নতুন করে জিইয়ে রাখছেন।

এদিকে গত ১ জানুয়ারিতে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ভয় নেই, রাজপথ ছাড়ি নাই এই ধরনের স্লোগান আর দেবেন না। এই স্লোগান ভুল, আমি মানি না।’

তিনি বলেন, ‘রাজপথে থাকার কথা কিন্তু রাজপথ ছিল না। এমনকি কেন্দ্রীয় নেতাদেরও রাজপথে খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে আজ রবিবার সারাদেশের জেলা, মহানগরে বিক্ষোভ এবং রাজধানীর প্রতিটি থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। কিন্তু রাজধানীর শাহআলী, কামরাঙ্গীরচর, এবং জেলার মধ্যে গাজীপুর ও পটুয়াখালী ব্যতীত দেশের অন্য কোনো স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে কি না জানাতে পারেনি দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রবিবার ৮ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কর্মসূচি চলছে এরপর আমরা যেগুলো তথ্য পাবো তা আগামীকাল সোমবার জানাবো।’

এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘যেখানে মিছিলের আওয়াজ শুনা মাত্রই গুলি করা হয়, বাসায় বাসায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে সেখানে ঢাকা মহানগর বিএনপিকে ব্যর্থ বলার সুযোগ নেই। নগর বিএনপি শত কিছুর পরও যথাযথভাবে তাদের রাজণৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করে যাচ্ছে।’

জানা গেছে, গত দুই বছরে ৭৫টির মধ্যে কেন মাত্র ২২টি জেলা কমিটি হবে, তাও পূর্ণাঙ্গ কমিটি নয়, অধিকাংশই আংশিক; যেখানে কেন্দ্র থেকে পকেট কমিটি গঠন বন্ধ করার কথা সেখানে নতুন করে পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগও উঠে আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর বিএনপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘বিএনপি চাইলে অনুমতি উপেক্ষা করে সভা-সমাবেশ করতে পারে। কিন্তু এতে সহিংসতা বাড়বে। এ মুহূর্ত সরকারের কোনো ষড়যন্ত্রের পথে চায় না দল। তাছাড়া আমরা চাই রাজনৈতিক সমঝোতা ‘

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সঞ্জীব চৌধুরীর মতে, বিএনপিকে লক্ষ্যহীন বলাটাও ঠিক হবে না। বাইরে থেকে বিএনপিকে যতটুকু এলোমেলো মনে হয়, ভিতরে আসলে ততটা নয়। একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। তবে এও ঠিক, সাংগঠনিক কাজে কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে।’

এই বিভাগের আরও খবর

  ওয়ালটন মোবাইল ক্রেতাদের গলার কাঁটা

  অদৃশ্য সুতায় বন্দি ছাত্রদলের ভবিষ্যৎ!

  বিএনপির ‘ভিশন ২০৩০’ চূড়ান্ত: লক্ষ্য নির্বাচন

  দল গোছাতে মাঠে নামছেন বিএনপি পন্থি ৩’শ বুদ্ধিজীবী

  হয় ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব, নয়তো চীনের অধীনতা: ভারতীয় গণমাধ্যমের পরামর্শ

  গোপনে সাংগঠনিক শক্তি সঞ্চয়ের কাজ করছে জামায়াত

  আন্দোলনের নতুন ছক বিএনপির, তারেকের পরিকল্পনায় দলে তরুণ নেতৃত্ব

  দলের ভেতরে-বাইরে হতাশার বিষবাষ্প

  শরিকদের ৩০টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ আ.লীগ

  মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি: ‘মন্দের ভালো’র আত্মতৃপ্তিতে নেতাকর্মীরা

  কানাডার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে খালেদা জিয়ার দুই ঘন্টা বৈঠক নিয়ে কৌতুহল

 

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?