মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯, ১০:৪৯:৩৩

সাকিব-লিটনে ২০০ পেরিয়ে বাংলাদেশ

সাকিব-লিটনে ২০০ পেরিয়ে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক : ২৯ ওভারে দলীয় দুইশ পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ। ২৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২০০ রান। সাকিব আল হাসান ৭১ বলে ৮৭ ও লিটন দাস ২২ বলে ১৮ রানে অপরাজিত আছেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ শুরু হলেও হোপের মারকাটারি ইনিংস ও হেটমায়ার ও হোল্ডারের ঝড়ো ব্যটিংয়ে তিনশ ছাড়িয়েছে উইন্ডিজ। ৮ উইকেটে ৩২১ রান করেছে তারা। নিজেদের ৫ম ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ৩২২ রানের টার্গেট।

৩২২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধীরে খেলছিলেন তামিম। তবে অপরপ্রান্তে সৌম্য ছিলেন আগ্রাসী। রাসেলের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই ৬ মারার পর পরের বলেই গেইলের ক্যাচ হয়ে ফিরলেন সৌম্য। ২৩ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৯ রান তুলেছেন সৌম্য।

তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৬ হাজার রান করার গৌরব অর্জন করলেন সাকিব আল হাসান। মাইলফলক থেকে ২৩ রান দূরে থেকে এই ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ওশানে টমাসের বলে ডাবল নিয়ে সাকিব স্পর্শ করেন মাইলফলক।

এরপর শেলডন কটরেলকে স্ট্রেট ড্রাইভ করে ক্রিজ থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসেছিলেন তামিম ইকবাল। ফলো থ্রুতে বলটা ধরেই দারুণ থ্রোয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন কটরেল, তামিম আর ক্রিজে পৌঁছাতে পারেননি। ৫৩ বলে ৬ চারে ৪৮ রান করে ফেরেন তামিম। তার বিদায়ে ভাঙে ৬৯ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি।

তামিমের পর ক্রিজে আসলেন আর গেলেন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। থমাসের লেগ সাইডের ডেলিভারি মুশফিকের গ্লাভস স্পর্শ করে হোপের তালুবন্দী হয়। এতে ১ রানেই ফিরলেন মুশফিক।

এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। ফিল্ডিংয়ে নেমে ইনিংসের শুরু থেকেই উইন্ডিজদের চেপে ধরে টাইগাররা। প্রথম ওভারে মাশরাফি মেডেন ওভার নেন। ম্যাচের চতুর্থ ওভারে ওপেনার ক্রিস গেইলকে ফিরিয়ে দেন সাইফউদ্দিন। উইকেটের পেছনে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে ১৩ বলে কোনো রানই করতে পারেননি গেইল। দলীয় ৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় উইন্ডিজরা। মেডেন উইকেট নেন সাইফ।

এরপর উইন্ডিজ দলের হাল ধরেন এভিন লুইস এবং শাই হোপ। ১১৬ রানের রানের জুটি গড়েন তারা। ইনিংসের ২৫তম ওভারে সাকিব ফিরিয়ে দেন ওপেনার এভিন লুইসকে। ব্যক্তিগত ৭০ রান করে সাব্বিরের তালুবন্দি হন তিনি। তার আগে ৬৭ বলে ৬টি চার আর দুটি ছক্কা হাঁকান এই ওপেনার।

ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নিকোলাস পুরান। তবে তাকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি স্পিনারকে ছক্কায় উড়াতে গিয়ে লং অনে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পুরান ৩০ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ২৫ রান করে ফেরার সময় ৩২ ওভার ২ বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৫৯ রান।

ঝড়ো ফিফটির পর সাজঘরে সিমরন হিটমার। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ২৫ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন হিতমার। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব চালান ক্যারিবীয় এই হিটম্যান। ফিফটি গড়ার পরের বলে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন হিতমার।

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি আন্দ্রে রাসেল। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন রাসেল। তার বিদায়ে ৪০ ওভারে ২৪৩ রানে ৫ উইকেট হারায় উইন্ডিজ।

এরপর ঝড় তুলেন জেসন হোল্ডার। তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ডানহাতি পেসারের লো ফুলটস বল ছক্কায় উড়াতে চেয়েছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। লং অফে ক্যাচ নেন মাহমুদউল্লাহ। ১৫ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক।

দলীয় ২৯৭ রানের মাথায় বিদায় নেন শাই হোপ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে থাকতে বিদায় নেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা শাই হোপ ইনিংসের ৪৭তম ওভারে আউট হন। মোস্তাফিজের বলে লিটন দাসের তালুবন্দি হওয়ার আগে শাই হোপ ১২১ বলে চারটি চার আর একটি ছক্কায় করেন ৯৬ রান। ইনিংসের শেষ বলে সাইফ বোল্ড করেন ১৫ বলে ১৯ রান করা ড্যারেন ব্রাভোকে। ৬ রানে অপরাজিত থাকেন ওশানে থমাস।

মোস্তাফিজ ৯ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে পান তিনটি উইকেট। সাকিব ৮ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে পান দুটি উইকেট। মাশরাফি ৮ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। মিরাজ ৯ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। মোসাদ্দেক ৬ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে উইকেট পাননি। সাইফউদ্দিন ১০ ওভারে ৭২ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন।

ওয়ানডে ক্রিকেট হিসেব করলে বাংলাদেশের চেয়ে সফল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দু'দলের মুখোমুখি দেখায় জয়ের পাল্লাটা ভারি উইন্ডিজদের। ৩৭বারের দেখায় বাংলাদেশের জয় যেখানে ১৪টি ম্যাচে সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পেয়েছে ২১ ম্যাচে। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীত বিবেচনা করলেও গেইল-রাসেলদের চেয়ে বেশ এগিয়ে মাশরাফি-সাকিবরা।

শেষ ৯ বারের মুখোমুখি দেখায় বাংলাদেশের কাছে ৭ ম্যাচেই হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সবশেষ দেখায়, এই উইন্ডিজদেরই হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ানদের মূল শক্তির জায়গা ব্যাটিং। ওপেনিংয়ে গেইল, নিচের দিকে আন্দ্রে রাসেল মাঝে শিমরন হেটমায়ার, শাই হোপ। ব্যাটিং অর্ডারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ উইনারে ভরা, সবাই অ্যাটাকিং ব্যাসটম্যান। আক্রমণই উইন্ডিজ মূল ভরসা।

তবে, বোলিং অতটা শক্তিশালী নয় ক্যারিবিয় শিবিরে। হোল্ডার-রোচ-গ্যাব্রিয়েল-কোটরেল নামগুলো খুব একটা ভীতি জাগানিয়া নয়। বাউন্সারই তাদের শক্তির জায়গা, আর দুর্বলতা বাংলাদেশের। তাই এই অস্ত্র দিয়েই টাইগারদের ঘায়েল করতে চাইবে ক্যারিবিয়ানরা।

অন্যদিকে, টাইগার শিবিরে সব চেয়ে বড় সমস্যা সাকিব-মুশফিকের চোট। মিঠুনের অফ-ফর্মও বাড়াচ্ছে দুঃশ্চিন্তা। তামিম এখনও খেলেননি বড় ইনিংস। সেমিফাইনাল খেলতে চাইলে, ক্যারিবীয়দের হারাতে হলে ব্যাট হাতে অ্যাটাকিং ক্রিকেট খেলার বিকল্প নেই। তবে টনটনের কাউন্টি গ্রাউন্ডের ছোট মাঠে উইন্ডিজকে আটকানোয় স্পিনারদের জন্য কঠিন হলেও সাকিব, মিরাজসহ মোস্তাফিজ, মাশরাফিদের ওপরেই ভরসা রাখতে হবে বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ স্কোয়াড:

মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

উইন্ডিজ স্কোয়াড:

জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), শেল্ডন কোটরেল, ক্রিস গেইল, শাই হোপ (উইকেটরক্ষক), ওশানে টমাস, ড্যারেন ব্রাভো, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, শিমরন হেটমেয়ার, এভিন লুইস, নিকোলাস পুরান, আন্দ্রে রাসেল।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?