রবিবার, ১৭ নভেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৯, ১১:৪০:৩৭

আসুন কম্বোডিয়া দেশটি সম্পর্কে জানি

আসুন কম্বোডিয়া দেশটি সম্পর্কে জানি

ঢাকা : আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী কম্বোডিয়া গেলেন। তাই আসুন কলম্বোডিয়া দেশটি সম্পর্কে জানি।

কম্বোডিয়ার আগের নাম হচ্ছে কম্পুচিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ কম্বোডিয়া। রাজধানী নমপেন। নমপেন তেমন বড় নগরী নয়। মাত্র ২৫-৩০ লাখ লোকের বাস। নমপেন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে যারা চাকরী করে তারা কেউই ইংরেজি বলতে পারে না।

নমপেন শহরে ছয়-সাতটি মসজিদ রয়েছে। ২০১০ সালে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি কম্বোডিয়া সফর করেন। কম্বোডিয়ান প্রধানমন্ত্রী 'হুন সেন' ২০১৪ সালে ঢাকায় একটি সরকারি সফর করেন। সত্তর ও আশির দশকে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় দ্রুত ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিয়ে আমাদের দেশের পত্রপত্রিকায় প্রতিদিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হতো।

১৯৫৩ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে ফ্রান্সের কাছ থেকে। রাস্তাঘাটগুলো সাদামাটা ধরনের। যানবাহনে আমাদের মতো বৈচিত্র্য নেই। রাস্তায় মোটর বাইকের ছড়াছড়ি। এটাই বেশ জনপ্রিয় বাহন।

রাস্তার পাশে আমাদের দেশের মতো ছোট ছোট দোকানপাট। যুবকরা আমাদের বেকারদের মতোই জটলা করে আর আড্ডা দেয়। বিকেল বেলা স্বাধীনতা স্কোয়ারে হাজারো মানুষের ঢল নামে। কম্বোডিয়ানরা বেশ শান্তশিষ্ট ও বন্ধুসুলভ। তাদের একটি বৈশিষ্ট্য সত্যি প্রশংসনীয় সেটি হলো তারা বেশি রাত জাগে না।শহরের লোকরাও রাত ৯-১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে যায় এবং বেশ সকালে জেগে ওঠে।

কম্বোডিয়ার অ্যাংকরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মধ্যযুগীয় মন্দির। সুবিশাল এই স্থাপনাটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ মন্দির। ১২শ শতাব্দীতে এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন রাজা ২য় সূর্যবর্মণ। প্রথমদিকে হিন্দু মন্দির হিসাবে ব্যবহৃত হলেও পরে এটি বৌদ্ধ মন্দিরে পরিণত হয়।

পর্যটনশিল্পে লদ্ধ আয়ের ২৮% মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহার করা হয়। বৌদ্ধ ধর্মের রীতি অনুযায়ীলম্বোডিয়ানরা ঘটা করে নববর্ষ পালন করে। ফুটবল তাদের অন্যতম প্রিয় খেলা। কম্বোডিয়ার বেশির ভাগ মানুষ বাস করে গ্রামে এবং অনেকটা আমাদের গ্রামীণ জীবনের মতো। নারীরা প্রধানত বাড়িতে কাজ করে আর পুরুষরা কঠোর শ্রমঘন কাজ করে।

কম্বোডিয়া দেশ হিসেবে কিন্তু সবুজ-শ্যামল। আদিগন্ত ধানক্ষেত। ভিয়েতনাম যুদ্ধের অংশ হিসেবে এ সময় আমেরিকাও কমিউনিস্ট নিধন করতে কম্বোডিয়ার ওপর বোমা বর্ষণ করে। গোটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা যত বোমা ফেলেছে শুধু কম্বোডিয়ায় ফেলেছে তার তিন গুণ। পুরো কম্বোডিয়া তখন এক মৃত্যুপুরী। প্রাচীনকাল থেকেই কম্বোডিয়াতে রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিল।

কম্বোডিয়ার প্রধান নদী 'মেকং।' আর আছে বড় একটি হ্রদ নাম টনলি স্যাপ অর্থাৎ সুস্বাদু পানির হ্রদ। দেশটির কৃষি ও মৎস্যসম্পদ এই দু’টি জলাধারের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল। প্রতি বর্গকিলোমিটারেও মাত্র ১২ জন।

প্রায় ৬০ শতাংশ লোক কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। প্রধান খাদ্য ভাত আর মাছ। জলবায়ু অনেকটা বাংলাদেশের মতো। বর্তমানে কম্বোডিয়ার জনসংখ্যা মাত্র এক কোটি ৪০ লাখ। দেশটির আয়তন এক লাখ ৮১ হাজার বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

আমস্টারডাম হচ্ছে সাইকেলের দেশ আর কম্বোডিয়া হচ্ছে মটরসাইকেলের দেশ। কম্বোডিয়া শহরের বাড়িগুলো বেশির ভাগই ৩/৪ তলা বিশিষ্ট। ঝকঝকে তকতকে বাড়িঘর। কম্বোডিয়া শান্তিপ্রিয় দেশ। এখানে ঝগড়া, মারামারি, হানাহানি নেই বললেই চলে। কম্বোডিয়ায় ইংরেজি পত্রিকা কম।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?