শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০১৭, ০৭:২১:৪৪

পাহাড় ধসের আতংকে রাঙ্গামাটি পর্যটক শূন্য

পাহাড় ধসের আতংকে রাঙ্গামাটি পর্যটক শূন্য

মিল্টন বাহাদুর, রাঙ্গামাটিঃ-পাহাড় ধসের পর থেকে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে পর্যটন শহর রাঙ্গামাটি। ১৩ জুনের স্মরণকালের পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোন পর্যটক রাঙ্গামাটি যাচ্ছেন না। ১৪ দিন ধরে শহরের পর্যটক না আসায় পর্যটন সংশ্লিস্ট ব্যবসা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে।
পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে পাহাড়ী জনপদের আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্ট হাউজগুলোতে আশানুরূপ বুকিং হয়নি এবার। অথচ অন্যান্য বছরগুলোতে ঈদের পনের থেকে বিশদিন আগেই সবগুলো হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্টহাউজ এবং গেস্টহাউজ সবগুলো বুকিং হয়ে যায়। কিন্তু এবার ঈদে তেমনটি ঘটেনি। চারদিকে সব ফাঁকা।
রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ির শালবনে ১০০ মিটার রাস্তা ধসে নিশ্চিন্ন হয়ে যায়। রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়ায় বন্ধ হয়ে যায় পর্যটককের আগমন। পাহাড় ধসের ৯ দিনের মাথায় সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগ সাপছড়ি ধসে পড়া রাস্থার সেই স্থানে একটি বিকল্প সংযোগ সড়ক নির্মান করে গত ২১ জুন হালকা যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়। কিন্তু তার পরও রাঙ্গামাটি শহরে তেমন পর্যটক নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ঘূর্ণিঝড় মোরা ও শহরের পাহাড় ধসের কারণে রাঙ্গামাটি শহর একেবারে পর্যটক শূন্য।
এদিকে পর্যটন কর্পোরেশন, আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউজ, রেস্টুরেন্ট এবং ট্যুরিস্ট পরিবহনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঝকঝকে চকচকে করে রাখা হয়েছিল প্রতিবছরের মতো। কিন্তু পর্যটকদের আগমন না হওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে। কারণ বিগত পাঁচ-দশ বছরে পাহাড়ের অন্যতম অর্থনৈতিক আয়ের খাতে পরিণত হয়েছে পর্যটনশিল্প। পর্যটকের সঙ্গে আবাসিক হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, হস্তশিল্প, তাঁতশিল্প ছাড়াও এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরাও জড়িয়ে পড়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর আরেকবার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
রাঙ্গামাটি হিল পার্ক হোটেল ম্যানেজার স্বপন শীল বলেন, রাঙ্গামাটি শহরে ছোট বড় মিলে মোট ৫৭টি হোটেল রয়েছে। ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের বরণেও প্রস্তুত ছিলাম আমরা। কিন্তু পাহাড় ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হোটেলগুলোর সব রুম ফাঁকা। অথচ বিগত বছরগুলোতে ঈদের পনের থেকে বিশদিন আগেই সবগুলো রুম বুকিং হয়ে যায়।
রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনায় পর্যটক প্রায় শুন্য হয়ে গেছে। আর সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থাও পুরোপুরি চালু হয়নি এখনো। অন্যান্য বছরগুলোতে আমাদের ঈদ আসার আগেই রুম বুকিং হয়ে যায়। কিন্তু এবার তেমন বুকিং হয়নি। তাই রাঙ্গামাটি পর্যটনের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবেনা এবার। তবে সড়ক যোগাযোগ পুরিপুরি চালু হলে পর্যটন শিল্পে আবারো প্রাণ ফিরে পাবে।

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?