মঙ্গলবার, ২১ মে ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ১২ জানুয়ারী, ২০১৯, ১২:৪০:৫২

ধানের শীষের ১৮৩ আসনের ‘ভোট কারচুপির’ তথ্য জমা

ধানের শীষের ১৮৩ আসনের ‘ভোট কারচুপির’ তথ্য জমা

ঢাকা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ ও ‘ভোট কারচুপির’ তথ্য নিয়ে তৈরি প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিয়েছে ১৮৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী। এদিকে বেঁধে দেওয়া সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রতিবেদন জমা হয়নি ১১৭ আসনের ধানের শীষসহ সমর্থিত প্রার্থীদের। বলা হয়েছিল জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ৩০০ আসনের প্রার্থীদের প্রতিবেদন দিতে।

শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা ১৮৩ জন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে নির্বাচনের আগে ও পরে এবং ভোটের দিন যেসব নেতাকর্মী গ্রেফতার, সহিংসতায় আহত ও নিহত হয়েছেন তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ঢাকার বেশিরভাগ আসনের প্রার্থীরা এখনও প্রতিবেদন জমা দেননি বলে জানা গেছে দলটির সুত্র থেকে।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হামলা-মামলা-লুটপাটের তথ্য সংগ্রহে আলাদা ৩টি কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৮৩ প্রার্থী প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ডাকযোগে চিঠি পাঠানোর কারণে অনেক প্রার্থী দেরিতে চিঠি পেয়েছেন। এ কারণে সব প্রার্থী এখনও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। আশা করি, দু-এক দিনের মধ্যে সবাই জমা দেবেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সব প্রতিবেদন জমা হলে তার ওপর ভিত্তি করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এ ছাড়া যেসব ভিডিওচিত্র জমা পড়েছে তা একসঙ্গে করে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করা হবে। এরপর সংবাদ সম্মেলনে করে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরা হবে। ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের কাছেও তুলে ধরা হবে বিষয়গুলো। দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোকেও জানানো হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, সব আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীরা মামলা করবেন।

সারাদেশে যেসব আসনে আমাদের প্রার্থী জয় পেয়েছেন, সেখানকার পরিস্থিতি তুলে ধরেও মামলা করা হবে। নির্বাচন প্রহসনের কথা, কারচুপির কথা সবাই জানেন। আগামী ১৮ দিনের মধ্যে মামলা করা হবে।

উল্লেখ্য, ৩ জানুয়ারি রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ধানের শীষের প্রার্থীদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেয়া হয় প্রার্থীদের।

এদিকে অভিযোগগুলো ৮টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচনে ‘অনিয়মের’ তথ্য সাত দিনের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। ইতিমধ্যে বেঁধে দেয়া সময় শেষ হয়েছে।

বিএনপির দফতর সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৮৩ আসনের প্রার্থীরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ঢাকার ২০ আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এসব আসনের মধ্যে মাত্র তিনটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে।

প্রসঙ্গত, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ২৮১ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। বিএনপি ছাড়াও এর মধ্যে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের প্রার্থীও ছিলেন। ধানের শীষ নিয়ে ৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করেন। যদিও বিজয়ীরা শপথগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?