বুধবার, ২০ জানুয়ারী ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২১, ০২:১৯:২৯

টাকা দিয়ে সব কিনেছে দিহানের পরিবার, অভিযোগ ভিকটিমের মায়ের

টাকা দিয়ে সব কিনেছে দিহানের পরিবার, অভিযোগ ভিকটিমের মায়ের

ঢাকা : রাজধানীর কলাবাগানে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলছাত্রী আনুশকাহকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় গ্রেফতার তানভীর ইফতেখার দিহান আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এখনও রহস্যে আবৃত মাস্টারমাইন্ড স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে পুলিশ। মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগের ঘটনায় কলাবাগানের ওই বাসার গার্ড (দারোয়ান) দুলাল হোসেন আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুলাল আদালতে জানিয়েছেন, নিহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে একাই দেখা গেছে অভিযুক্ত ফারদিন দিহানকে। অচেতন হয়ে পড়া মেয়েটিকে দিহান কোলে করে বাসা থেকে নিচে নামিয়ে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। তারা বাসায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা ছিলেন। এ সময় বাসার ভেতরে বা দিহানের সঙ্গে অন্য কেউ ছিল না।

ঘটনার দিন দুপুর থেকে পলাতক এই গার্ড (দারোয়ান) চারদিন পর এসে এই সাক্ষ্য দেওয়ায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ভিকটিম কিশোরীর মা। একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আমরা মামলার প্রতি কোনও আস্থা রাখতে পারছি না। তাদের সবই কেনা হয়ে গেছে। সবই কিনে ফেলেছে আসামিপক্ষ। তাদের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা আছে। সাক্ষ্য, প্রতিবেদন যা দেখছেন তা সাজানো নাটক। সাজিয়ে-গুছিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে। নির্যাতনে মারা যাওয়া কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, টাকা দিয়েই সব কেনা যায়। সবখানে সবকিছু এভাবেই চলে। বিচার কখনও হয়নি, হবেও না। এটাই আমাদের মেনে নিতে হবে। মেনে নেওয়া শুরু করছি।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) ঘটনার পর থেকেই পলাতক দিহানের বাসার গার্ড (দারোয়ান) দুলাল হোসেন। গতকাল সোমবার (১১ জানুয়ারি) সকালে তিনি আবার ফিরে এলে এখন পর্যন্ত ঘটনার প্রথম সাক্ষী হিসেবে দুলালকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। সারা রাত প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর দুপুরে আদালতে গিয় সাক্ষ্য দেন দুলাল। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, মেয়েটিকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দিহান ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে, এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সাক্ষী হিসেবে দুলাল মিয়াকে হেফাজতে নিয়েছিলাম। সে ঘটনার দিন যা দেখেছেন তা আদালতের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সন্ধ্যায় ডিএমপি রমনা বিভাগের নিউ মার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা যেহেতু তাকে আটক করিনি, সাক্ষী হিসেবে আদালতে তুলেছিলাম, সাক্ষ্য দেওয়া শেষ, সে এখন মুক্ত।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, শুধু মরদেহ দেখে অনেক কিছু বোঝা সম্ভব নয়। এজন্য ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ প্রতিবেদন আমাদের দেখতে হবে। ভিসেরা ও ডিএনএ রিপোর্ট এলে আমরা প্রতিবেদন দিয়ে দেবো। ভিসেরা রিপোর্ট আসতে সাধারণত এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে, কোনও ক্ষেত্রে দুই মাসও লেগে যায়। আর ডিএনএ রিপোর্ট আসতে আরেকটু বেশি সময় লাগে।

ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে এই ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বলেন, ঘটনার সময় কতজন ছিলেন তা ডিএনএ প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে। আমরা সেটার জন্য অপেক্ষা করছি। আর তাছাড়া আমরা ব্লাড ও ভিসেরা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। তার ব্লাডে যদি কোনও টক্সিক সাবস্টেনসের উপস্থিতি পাওয়া যায় তবে বুঝতে হবে তাকে কিছু খাইয়ে অবচেতন করা হয়েছিল। অথবা তার ভিসেরাতে যদি চেতনানাশক কিছু পাওয়া যায় তবে বুঝতে হবে তাকে আগে ড্রাগ খাইয়ে অবচেতন করেছিল। সবকিছুর জন্য প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর অনেক কিছু পরিষ্কার হবে- ঘটনাস্থলে একজন নাকি একাধিক ব্যক্তি ছিল। মামলায় যদি প্রয়োজন হয় দিহানের তিন বন্ধুকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে বন্ধু দিহানের মোবাইল কল পেয়ে বাসা থেকে বের হন রাজধানীর ধানমন্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নুর আমিন। এরপর আনুশকাকে কলাবাগানের ডলফিন গলির নিজের বাসায় নিয়ে যান দিহান। ফাঁকা বাসায় শারিরীক সম্পর্কেরেএকপর্যায়ে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে দিহানসহ চার বন্ধু তাকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসকরা। এ ঘটনার মামলায় দিহান গ্রেফতার রয়েছেন। তিনি ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।

এ ঘটনায় আনুশকার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে আমার স্ত্রী ও আমি বের হয় হই। পরে আমার মেয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় তার মাকে ফোন দিয়ে বলে সে কোচিংয়ের পেপার্স আনতে বাইরে যাচ্ছে। দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে দিহান আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে আমার মেয়ে তার বাসায় গিয়েছিল। সেখানে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেছে। এ কথা শুনে আমার স্ত্রী দুপুর ১টা ৫২ মিনিটের দিকে হাসপাতালে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে জানতে পারেন আমাদের মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

  সিলেটে বিচারককে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা, এসআই ক্লোজড

  বৃহস্পতিবার ঢাকার যে সব এলাকায় গ্যাস থাকবে না

  বাংলাদেশে করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৬৫৬

  মৃত স্কুলছাত্রীর জীবিত ফেরা : প্রতিবেদনের শুনানি ৩ মার্চ

  চাকরিচ্যুত প্রবাসীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের কাজ চলছে: প্রধানমন্ত্রী

  খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় কলেজছাত্র নিহত

  জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মা-মেয়ে খুন

  জলপাইগুড়িতে পাথরবোঝাই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে নিহত ১৪

  শুক্রবার থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা

  রংপুরে হাঁড় কাঁপানো শীত, ৭ দিনে ২৩ জনের মৃত্যু

  শিক্ষিকার অশালীন ছবি ভাইরাল করার হুমকি, অধ্যক্ষকে মুখে চুনকালি

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?