রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১, ০৬:০৪:৩৮

কঙ্কালে জড়ানো শার্ট দেখে স্বামীকে শনাক্ত

কঙ্কালে জড়ানো শার্ট দেখে স্বামীকে শনাক্ত

ঢাকা : রাজধানীর মিরপুর রুপনগরের বাসিন্দা নরুল ইসলাম গাজী (৫০) হঠাৎ করে গত বছরের ১ নভেম্বর নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি পর স্বামীকে খুঁজে না পেয়ে একই মাসের ৪ তারিখে স্ত্রী রহিমা বেগম (৪০) মিরপুরের রুপনগর থানায় অপহরণের সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন।

জিডির পর পরই নরুল ইসলাম গাজীকে খুঁজতে পেতে অভিযান শুরু করে রূপনগর থানা পুলিশ। জিডির প্রায় সাড়ে তিন মাস পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে ১১ ফেব্রুয়ারি ৪ জনকে আসামি করে জিডিটি অপহরণ মামলায় রূপান্তর করে থানা পুলিশ।

আসামিরা হলেন- রয়েল, কালু শাকিলসহ অন্য একজন। এদের মধ্যে রয়েল ও কালুসহ আরেক জন গ্রেফতার আছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

অপহরণ মামলা এবং তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও তখনো নরুল ইসলাম গাজীর সন্ধান পায়নি পুলিশ। তবে ঘটনার মোড় ঘুরে জিডির হওয়ার প্রায় প্রায় চার মাস পর গত শনিবার রুপনগর বেড়িবাঁধের পাশে সাদ ফিলিং স্টেশনের পেছনে একটি কঙ্কাল উদ্ধারকে কেন্দ্র করে।

রুপনগর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কঙ্কালটি উদ্ধারের পর পরেই পুলিশের সন্দেহ হয় এইটি নিখোঁজ নরুল ইসলাম গাজীর হতে পারে। আর এই সন্দেহ থেকেই রহিমা বেগমকে কঙ্কালটি দেখালে কঙ্কালের পড়ে থাকা শার্টটি দেখে তিনি স্বামীর পরিচয় শনাক্ত করনে।

নরুল ইসলাম গাজী ও রহিমা বেগম মিরপুরের রুপনগর থানার বাসিন্দা। তারাদের একটি ছোট মুদির দোকান আছে। এই মুদির দোকান দিয়ে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন।

রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রুপনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ব্রেকিংনিউজকে বলেন, নরুল ইসলাম গাজী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬ টায় তার কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। তার স্ত্রী রহিমা বেগম স্বামীর পরিচয় শনাক্ত করেছেন। এ ঘটনায় তিন জন গ্রেফতার আছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রিমান্ড আবেদনের জন্য আদালতে পাঠানো হবে।

কঙ্কালটি কিভাবে উদ্ধার হল এবং নরুল ইসলাম গাজীকে কি হত্যা করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের এডিসি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের এক এডিসি আমাদের ফোন করে জানায় রুপনগর বেড়িবাঁধের সংলগ্ন সাদ ফিলিং স্টেশনের পাশে একটি কঙ্কাল পাওয়া গেছে। পরে রুপনগর থানা পুলিশের গিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করে।

নরুল ইসলাম গাজীকে হত্যা করা হয়েছে কি-না এটি বের করার আগে নিশ্চিত হতে হবে কঙ্কালটি তার কি না জানিয়ে পল্লবী জোনের এডিসি বলেন, যদিও রহিমা বেগম কঙ্কালে জাড়ানো থাকা কালচে রঙের শার্টি দেখে নিশ্চিত করেছেন এইটি তার স্বামীর কঙ্কাল। তবে শুধুমাত্র এই এক উপায়ে কোনোভাবেই নিশ্চিত করে বলা যাবে না এটি নরুল ইসলামের কঙ্কাল কি না।

গতকাল ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিনের টিম এসে নমুনা নিয়ে গেছে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যাবে কঙ্কাল কার।

হত্যা করা হয়েছে কি-না তা জানা যাবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর জানিয়ে আরিফুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর আমরা নিশ্চিত হতে পারব এটা হত্যাকাণ্ড কি-না। কারণ স্বাভাবিক মৃত্যুর পর মরদেহ পড়ে গিয়েও এমন হতে পারে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত হওয়া গেলে তখন তদন্ত করে বের করতে হবে অপহরণ মামলার আসামিরা এর সঙ্গে জড়িত কিনা। নাকি অন্য কেউ হত্যা করেছে। আর কঙ্কালটি নরুল ইসলাম গাজীর হলে এবং তাকে যদি হত্যা করা হয়ে থাকে তাহলে অপহরণ মামলাটি হত্যা মামলায় আমরা রূপান্তর করব।

এদিকে, রুপনগর থানা সূত্রে জানা গেছে, নরুল ইসলাম গাজী ও অপহরণ মামলার চার আসামি মাদক স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। পরে নরুল ইসলাম গাজী মাদক ব্যবসা ছেড়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে রূপনগর এলাকায় একটি মুদির দোকান চালিয়ে জীবন যাপন করতেন। আর এতেই ওই চার আদামির সঙ্গে বিরোধ হয়ে নরুল ইসলাম গাজীর। আর এই বিরোধের জের ধরে তাকে ওই চারজন হত্যা করে থাকতে পারে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?