মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২০, ১১:০৮:১২

চন্দন-আবুলের জয়, নীনা-ডোনার ভরাডুবি

চন্দন-আবুলের জয়, নীনা-ডোনার ভরাডুবি

প্রবাস ডেস্ক: চলতি মাসে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সিনেটসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলো হয়েছে। নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর হিসেবে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর গ্রামের সন্তান শেখ মোজাহিদুর রহমান চন্দন (শেখ রহমান)। পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার আবুল খান চতুর্থবার আমেরিকার স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ড. নীনা আহমেদ পেনসিলভানিয়ার অডিটর জেনারেল পদে পরাজিত হয়েছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিনি ডোনা ইমাম টেক্সাসের অস্টিন থেকে ইউএস কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন।

ডোনা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে ৫৬ শতাংশ (২০ হাজার ৮৮৪) ভোট পেয়ে টেক্সাসের কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-৩১ এর চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অস্টিনের উইলিয়ামসন কাউন্টি এবং সেনা ছাউনি অধ্যুষিত ফোর্ট হুড নিয়ে গঠিত উক্ত নির্বাচনী এলাকার ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষের ৫৯.১৯ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ। এশিয়ানের সংখ্যা মাত্র ৫.২ শতাংশ। হিসপ্যানিক হচ্ছে ২৩.৯৩ শতাংশ এবং কৃষ্ণাঙ্গের সংখ্যা ১১.২৪ শতাংশ। এই আসনে কখনোই ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হতে পারেনি। এবারই প্রথম বাঙালির রক্ত প্রবাহিত ডোনা রিপাবলিকানদের একটি ধাক্কা দিতে চেয়েছিলেন। ডোনা ইমাম প্রাথমিক পর্ব অতিক্রম করেছেন অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে। টেক্সাসে জন্মগ্রহণকারী ও ইলেক্ট্রিক্যাল এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী ডোনা নিজেই একটি ফার্ম দিয়েছেন। সেখানে কাজের পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

এবারের নির্বাচনে ষ্টেট সিনেটর পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ মোজাহিদুর রহমান চন্দন দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন। পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার আবুল খান চতুর্থবার আমেরিকার স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্যানুসারে-

কিশোরগঞ্জ : ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন শেখ রহমান। গেল ৯ জুন অনুষ্ঠিত দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে কেউ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। একইসঙ্গে সিনেট ডিস্ট্রিক্ট আসন-৫-এ কোনো রিপাবলিকান প্রার্থী ছিল না। এতে শেখ মোজাহিদুর রহমান চন্দন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। শেখ রহমান চন্দন ঢাকার কিশোরগঞ্জ উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের বড় ভাই। তিনি ১৯৬০ সালের ১৫ নভেম্বর সরারচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মোজাহিদুর রহমান চন্দনের স্ত্রী ও ১ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে আটলান্টা সিটির গোনেট কাউন্টিতে বসবাস করেন। তিনি ১৯৮১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন দ্বিতীয়বারের মতো আমেরিকার নির্বাচনে সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার খবরে মিষ্টিমুখ করে আনন্দ-উল্লাস করেছে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার কৃতী সন্তান মো. আবুল বাশার খান (৬০) যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে এবার চতুর্থবারের মতো নিউ হ্যাম্পশায়ারের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। আবুল খান রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হয়ে নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেন। বাংলাদেশি আবুল খান এ নিয়ে টানা চারবার রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হয়ে নির্বাচনে বিজয়ের গৌরব অর্জন করেন। ৫৮ বছর বয়সী আবুল খান টানা ৪০ বছর আমেরিকার নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিব্লকে সপরিবারে বসবাস করছেন। আমেরিকা প্রবাসী আবুল খান পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া শহরের সম্ভ্রান্ত খান বাড়ির প্রয়াত মাহাবুব উদ্দিন খান কাঞ্চন ও প্রয়াত শাহানারা বেগমের বড় ছেলে।

আবুল খান আমেরিকা যাওয়ার পর নিউইয়র্ক শহরে প্রথমে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেন। ২০০০ সালে তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার সিটির সিব্লক শহরে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্রয় করেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ছাড়া সেখানে একটি গ্যাস স্টেশনও ছিল। সহধর্মিণী মর্জিয়া হুদা খানের অনুপ্রেরণায় আবুল খান নিউ হ্যাম্পশায়ারে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

বাংলাদেশিদের বন্ধুরা জয়ী

নিউইয়র্ক ডেমোক্র্যাটিক স্টেট হিসেবে পরিচিত। এখানে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন জয়লাভ করেছেন। ২৭টি ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে ডেমোক্র্যাটিকরা জয়লাভ করেছেন বেশির ভাগ আসনে। কংগ্রেসম্যান হিসেবে কমিউনিটির অত্যন্ত প্রিয়মুখ, বন্ধু এবং আলোচিত মুখ গ্রেস মেং, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও, হাকিম সেকো জেফরিস ও গ্রেগরি মিক্সও জয়লাভ করেছেন।

এর মধ্যে নিউইয়র্ক হাউস ডিস্ট্রিক্ট-৬-এ কংগ্রেসম্যান পদে জয়ী গ্রেস মেং। তিনি বর্তমানে এই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনে গ্রেস ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এর আগেও তিনি এই আসনে জয়লাভ করেন। ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। গ্রেস বাংলাদেশি কমিউনিটি ও এশিয়ান কমিউনিটির মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী থমাস জমিচ। যিনি পেয়েছেন ৩৭ শতাংশ ভোট।

নিউইয়র্ক হাউস ডিস্ট্রিক্ট-১৪-তে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আলেকন্দ্রাজিয়া ওকাসিও কটেজ জয়লাভ করেছেন। তার নির্বাচনী এলাকা ব্রঙ্কস ও কাউন্স কাউন্টির একটি অংশ নিয়ে গঠিত। তিনি পেয়েছেন ৬৯ শতাংশ ভোট। আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও অত্যন্ত আলোচিত মুখ। তিনিও কমিউনিটির মানুষের অনেক কাছের মানুষ। তিনি কেবল নিউইয়র্কে নন, আলেকন্দ্রাজিয়া হোয়াইট হাউসেও ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন তার বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য ও কাজের মাধ্যমে। ওই আসনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ছিলেন জন কুমিং। তিনি পেয়েছেন ৩১ শতাংশ ভোট।

হাকিম সেকো জেফরিস ডিস্ট্রিক্ট-৮ থেকে কংগ্রেসম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশিসহ এশিয়ান কমিউনিটির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। হাকিম পেয়েছেন ৮২ শতাংশ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী পেয়েছেন ১৮ শতাংশ ভোট।

গ্রেগরি ওয়েলডন মিকস নিউইয়র্ক ডিস্ট্রিক্ট-৫-এ জয়লাভ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। কমিউনিটিতেও তিনি বিশেষ পরিচিত মুখ। তিনি পেয়েছেন শতভাগ ভোট। তার ভোটসংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৪। তিনি হলেন আমেরিকান রাজনীতিবিদ, যিনি ১৯৯৮ সাল থেকে নিউইয়র্কের ৫ম কংগ্রেসনাল জেলায় মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য। জেলাটি পূর্বের কংগ্রেসে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এদিকে ২০১৬ সালের নির্বাচনে নিউইয়র্ক স্টেট থেকে হিলারি ক্লিনটন ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট পদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। এছাড়া হাউসে ২৭টি ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে ২১টিতে ডেমোক্র্যাটিকরা জয়লাভ করেন। বাকি ছয়টিতে জয়লাভ করেন রিপাবলিকান দলের প্রার্থীরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?