সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ০৪:৩৮:৩০

এক মাসের মধ্যে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

এক মাসের মধ্যে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা : আগামী এক মাসের মধ্যে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, দেশে পেঁয়াজের বর্তমান মজুদ রয়েছে ৫ লাখ টন। আর চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে ৪ লাখ টন। তাই পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পাশাপাশি দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে টিসিবির সঙ্গে ই-কমার্সকে যুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার।

আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকারের পেঁয়াজ রফতানি না করার সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়েছে দেশের এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। বছরে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি রয়েছে চার লাখ টন। তবে এ মুহূর্তে পেঁয়াজের কোথাও কোনও সংকট নাই। সাধারণ ক্রেতাদের পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

টিপু মুনশি জানান, শিগগিরই ভারতের বিকল্প অন্য কোনও দেশ যেমন- মিয়ানমার, মিশর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই এ মুহূর্তে পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। আগামী এক মাসের মধ্যে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হবে বলেও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের এক মাস কষ্ট সহ্য করতে হবে। বর্ডারে আটকে থাকা পেঁয়াজ দুই এক দিনের মধ্যে প্রবেশ করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য জেল জরিমানা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার থেকে ১২/১৩শ টন পেঁয়াজ লোড হয়েছে। যা কিছু দিনের মধ্যে আসবে। এক মাস আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে। এক মাসের মধ্যে সাপ্লাই চেইন ফুল করে দেব।

গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। তবে এদিন বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হয়েছে ১২ মেট্রিকটন। পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করায় বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোলে আটকা পড়েছে পেঁয়াজভর্তি ১৫০টি ট্রাক। একই অবস্থা অন্য স্থলবন্দরেও। ভারতের শুল্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার কিছু নীতিগত পরিবর্তন হওয়ার কারণে পেঁয়াজের রপ্তানি বন্ধ করা হয়েছে।

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানির বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই দেশের বাজারে বেড়েই চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম। একদিনের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১শ টাকায়। কিছুদিন আগে দেশের বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৪০ টাকার মধ্যে ছিল। ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ফলে পেঁয়াজের বাজার দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে গত রোববার থেকে ৩০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

এদিকে পেঁয়াজের আমদানি বন্ধের খবরে নড়েচড়ে বসেছে বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থানের পেঁয়াজের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলে সে সময় দেশের বাজারে হু হু করে দাম বাড়ে। রেকর্ড ৩শ টাকা পর্যন্ত ওঠে পেঁয়াজের কেজি। এই পরিস্থিতি চলমান ছিল কয়েক মাস। তখন ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে ন্যূনতম প্রতিটনের মূল্য ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয়। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রপ্তানিই নিষিদ্ধ করে। নভেম্বরে ৩শ টাকায় ওঠে পেঁয়াজের কেজি। তখন মিয়ানমার, চীন, মিসর ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে সরকার। প্লেনেও দেশে আসে পেঁয়াজ। তবে সে উদ্যোগে স্বাভাবিক দামে আসেনি পেঁয়াজ। বরং পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হলে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে আসে।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?