রবিবার, ২৯ নভেম্বর ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০, ১২:২১:১২

রাজনীতিটা ‘রাজনীতিবিদের হাতে’ না থাকা ভয়াবহ

রাজনীতিটা ‘রাজনীতিবিদের হাতে’ না থাকা ভয়াবহ

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। এর আগে টানা তিন মেয়াদে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২১তম জাতীয় সম্মেলনে দলের যু্গ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বাহাউদ্দিন নাছিম। ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকায় শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলায় মারাত্নকভাবে আহত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচত হয়ে জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্ব করেন নাছিম।  ছিলেন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিও।

সম্প্রতি দেশের জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম টাইমস অফ বাংলা এর মুখোমুখি হন এই রাজনীতিক। তার সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসে সমসাময়িক রাজনীতির নানা তথ্য-উপাত্ত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রাহাত হুসাইন।

টাইমস অফ বাংলা : ব্যবসায়ী ও সাবেক আমলারা রাজনীতিতে ঝুকছে; তারা অনেক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে চায়, এ বিষয়টি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

বাহাউদ্দীন নাছিম : ব্যবসায়ীরা কিংবা সরকারি-বেসরকারি রিটায়ার্ড আমলারা রাজনীতি করে, রাজনীতি করতে চায়। রাজনীতি করার ক্ষেত্রে কারো কোনো বাধা নেই। রাজনীতি করবে অসুবিধা নেই। প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।

রাজনীতির নেতৃত্ব কিংবা রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার দৌড়াত্ম্যটা যদি এদের হাতে চলে যায়, তবে সেটা কতখানি বাস্তবসম্মত হবে, সেটা কতখানি সঠিক হবে; রাজনীতির জন্য, রাজনীতিবিদদের জন্য দেশ এবং দেশের জনগণের জন্য। ব্যবসায়ীরা সৎভাবে ব্যবসা করবে দোষের কিছু নয়। দেশ পরিচালনায় সরকারি কর্মকর্তা যাদের আমরা আমলা বলি, তারা সেখানে ভূমিকা রাখবে। তারা তাদের কাজ করবে, সেখানে তারা অবদান রাখবে, এটা দেশের মানুষও চায়। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমিও চাই। আমরা এখন দেখি, ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা হয়। তারা আবার রাজনীতি করে রাজনীতির নেতা হওয়ার জন্য বেশ দৌড়ঝাঁপ করছে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করুক, অসুবিধা নেই। সৎভাবে ব্যবসা করুক, মানুষের কল্যাণে কাজ করুক। সেখান থেকেও তারা দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

কিন্তু রাজনীতির জায়গায় এসে একজন ব্যবসায়ী ব্যবসা করছে; অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছে। এখন দেশ সেবার নামে রাজনীতিতে প্রবেশ করে, রাজনীতিকে যদি কলুষিত করে সেটা দেশের জন্য অকল্যাণকর। দেশের মানুষের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে। একজন আমলা সারা জীবন রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছে। চাকরি জীবন শেষে এসে উনিও রাজনীতিবিদ হয়ে গেলেন; রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে, সেক্ষেত্রে আমরা দেখতে পেয়েছি, ব্যবসায়ী যারা করে দেশের হর্তাকর্তা বিধাতা হয় তখন কিন্তু তারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। আমলাদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনা অনেক ঘটেছে। আমরা চাই না দুর্নীতি সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা রাজনীতিকে কলুষিত করুক। দেশের মানুষও এটা চায় না।

টাইমস অফ বাংলা  : রাজনীতিটা কাদের হাতে থাকা উচিত বলে মনে করেন?

বাহাউদ্দিন নাছিম : রাজনীতি রাজনীতিবিদরা করবে; সারাবিশ্বে ঐতিহ্যগতভাবে এটা দেখা যায়। এটাই হওয়া উচিত। রাজনীতিবিদরাই দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণের কথা ভাবেন। মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করেন। দেশের মঙ্গলের জন্য তারা ভূমিকা রাখেন। রাজনীতিবিদরাই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যদি রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ হন, জনগণ ভোটের অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের ব্যর্থতার জবাব দেন। রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করবে। তারা দেশের মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবে। রাজনীতিটা যদি রাজনীতিবিদের হাতে না থাকে তাহলে সেটা দেশের জন্য ভয়াবহ হয়।

টাইমস অফ বাংলা : সরকারের শুদ্ধি অভিযানের আওতায় শুধুমাত্র রাজনীতিবিদদেরকে আনা হয়েছে। দুর্নীতির যে চক্র সেই চক্রের সব থেকে সুবিধাভোগী কিছু অসাধু সরকারী আমলা ও কর্মকর্তারা। এদের দিকে কেন এই শুদ্ধি অভিযানটা এখনো যাচ্ছে না?

বাহাউদ্দিন নাছিম : দলের মধ্য থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। অনেকেই বলে ধরা পড়ার পরেই ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাদের ধরেছে কে, সেই সরকারটা কার? সেই সেরকার প্রধান কে? আমাদের নেত্রী যেটা করেছেন অতীতের কোন সরকার কি সেটা করেছে? সেটা কিন্তু কেউ বলে না। এটা সরকারের কৃতিত্ব, আওয়ামী লীগের কৃতিত্ব। অতীতে বিএনপি-জামাত যখন ক্ষমতায় ছিলো, তখন এই অপরাধীরাই অপকর্ম করেছে, তাদেরকে তখন ধরা হয়নি। আওয়ামী লীগের সরকার অপরাধীদের বিচারের আওতকায় নিয়ে এসেছে। দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। যারাই দুর্নীতিতে জড়াবে তাদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে। শুদ্ধি অভিযান নিজের ঘর থেকে শুরু করেছেন, এটাই নেত্রীর মহানুভবতা। এটা সর্বস্তরে চলবে। অপরাধী সরকারে হোক, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী হোক, আমলা হোক তাতে রেহাই পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

টাইমস অফ বাংলা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে সুশাসনকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেই জায়গায় এক বছর পার করে দ্বিতীয় বছরে সরকার। দেশ কি প্রতিশ্রুত সুশাসনের দিকে এগুচ্ছে?

বাহাউদ্দিন নাছিম: সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের গুরুত্ব অপরেসীম। প্রশাসনকে গুরুত্ব না দিয়ে কোন কিছুই করার সুযোগ নেই। দেশ প্রশাসনিক দায়িত্বে যারা থাকবেন তারা চালাবেন, এটাই নিয়ম। সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নতুন কিছু করা যাবে না। সিস্টেমের কিছু পরিবর্তন হতে পারে। প্রশাসনকে গুরুত্ব না দিয়ে চলা যাবে না। তবে প্রশাসনের লোকজন যেন তাদের দায়িত্ব গুরুত্বের সাথে পালন করে সেটার দিকে নজর রাখা সরকারের দায়িত্ব। প্রশাসনের জায়গায় প্রশাসন থাকবে। সততার সাথে নিষ্ঠার সাথে, জনগণের সেবক হিসেবে সেবকের মত তারা দায়িত্ব পালন করে কিনা সেটা সরকারের। সেই দায়িত্বটা সরকার পালন করে কিনা সেটা দেখার বিষয়। আমি মনে করি এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সরকার কোনো অসুবিধায় পড়ছে কিনা আমার মনে হয় না।
     
টাইমস অফ বাংলা  : তৃণমূলে দ্বন্দ্বের কারণে অনুপ্রবেশকারীরা দলে ভেড়ার সুযোগ পাচ্ছে কিনা?

বাহাউদ্দিন নাছিম: তৃণমূলে আসলে কোন দ্বন্দ্ব নাই। আওয়ামী লীগ একটি জনপ্রিয় দল। তৃণমূলের শক্তিতেই দলটি পরিচালিত হয়। তৃণমূলে এতবেশি জনপ্রিয়তা বাংলাদেশে অতীতে কোন দল পায়নি। এটা পাকিস্তান আমলেও ছিলো না, এমন কি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও কেউ অর্জন করতে পারেনি। যখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় ছিলো, তখনও আওয়ামী লীগ তৃণমূলের শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবেই পরিচিত ছিলো। তখন দেশিবিদেশী সংবাদ মাধ্যম আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গণমাধ্যমে  উপস্থাপন করেছে। এটা কারো অজানা নয়।

সেই বিবেচনায় তৃণমূলে প্রতিযোগিতা রয়েছে। আমাদের দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এত সক্রিয়, সংখ্যায় এত অধিক, সেখানে নেতৃত্বের একটা প্রতিযোগিতা থাকবে। এই প্রতিযোগিতাটাই আমাদের চোখে পড়ে। সেটাকে দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখা হয় তাহলে সেখানে প্রতিযোগিতা আর থাকবে না।

টাইমস অফ বাংলা : ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বড় ধরণের কোন প্রতিরোধ গড়তে স্বক্ষম হয়নি আওয়ামী লীগ। কারণটা কি?

বাহাউদ্দিন নাছিম : এটা সত্য। প্রতিবাদ হয়েছে কিন্তু প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। এই ব্যর্থতা স্বীকার করতে হবে। তৎকালীন যারা নেতা ছিলেন, যাদের উপর দায়িত্ব বেশি ছিলো, যাদের উপর বিভিন্ন সরকারী দায়িত্ব ছিলো তারা কি দায় এড়াতে পারে? তবে এটা সত্য একটা অংশের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, ভীতি ছিলো। আরেকটা অংশ ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে জড়িত। সব কিছু মিলিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করা দরকার। কমিশন করে কারা এ ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত ছিলো তাদের মুখোশ উন্মোচন করা দরকার। এদের অনেকেই বেচে নেই এখন। কেউ কেউ বেচেও থাকতে পারে। তারপরও এদের বিষয়টা ক্লিয়ার হওয়া দরকার। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর গঠিত নতুন সরকারের যারা মন্ত্রী হয়েছেন তারা কি সবাই ভয়ে ওই দলে দলে গেছেন? যারা বলে ভয়ে ওই দলে গিয়েছিলো তাদের কথা দায় সারা। আজকে যখন পরিস্থিতি উল্টে গেছে, এখন এই সমস্ত কথা বলে অনেকে দায় সারার চেষ্টা করছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেকের কাছে শূনেছি, তারা বলেছে ভূল হয়ে গেছে, জীবনে একটা ভূল করেছি। মন্ত্রী হয়ে কেন শপথ নিলাম বুঝলাম না.. অনেকক কথাই বলেছেন। এটা কি বিশ্বাস করা যায়? এটা কি মেনে নেয়া যায়? এই বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার হওয়া দরকার। কারণ ষড়যন্ত্র বহুবার হয়েছে, আবার যে হবে না এটা কি বলা যায়? সুতরাং যড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ তুলে ধরতে পারলে কোনও ষড়যন্ত্রই বারবার ঘটানো সম্ভব হবে না।          

টাইমস অফ বাংলা : সময় দিয়ে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ।

বাহাউদ্দিন নাসিম : আপনাকে ও টাইমস অফ বাংলা পরিবারকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?