বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১, ১২:৫৫:৪০

অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টারস মেন : উদ্বেগের কথা জানাল আল জাজিরা

অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টারস মেন : উদ্বেগের কথা জানাল আল জাজিরা

ঢাকা: কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় সম্প্রতি প্রচারিত ‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ নামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। বাংলাদেশ সরকার আল জাজিরার প্রতিবেদনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছে। হাইকোর্ট দেশের টেলিকম কর্তৃপক্ষকে আল জাজিরার প্রতিবেদন ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিতে আদেশ দিয়েছেন। তুমুল আলোচিত-সমালোচিত প্রতিবেদনটি ঘিরে এখন নানা প্রশ্ন। এমন সময় আল জাজিরার অনুষ্ঠান প্রযোজক উইলিয়াম থোর্ন প্রতিবেদনটি নিয়ে কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার সঙ্গে।

বিবিসি বাংলাকে উইলিয়াম থোর্ন বলেছেন, প্রতিবেদনটি প্রচারের পর বাংলাদেশে যে ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং যেভাবে তাদের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সাক্ষাতকারে আত্মপক্ষসমর্থন করে তিনি বলেন, তাদের ওই প্রতিবেদনটি পেশাদার সাংবাদিকতার একটি অনন্য উদাহরণ।

থোর্ন বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ বা কোনো দলকে টার্গেট করে কাজটি করিনি। বরং ব্যাপক সময় নিয়ে, প্রাপ্ত তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে এবং অকাট্য প্রামাণ্য দলিলের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল।’

বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ও তার ভাইদের নিয়ে করা প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর নাম এলো কেন, প্রতিবেদনটি প্রচারের পর বাংলাদেশে করা মামলা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন কি-না কিংবা আল জাজিরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে কি-না এমন সব প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে কেন প্রধানমন্ত্রীর নাম
প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে যে, সেনাপ্রধানের দুই ভাই ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া পাসপোর্ট তৈরি করে তা নিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন। আবার তার পলাতক ভাইয়েরা তার বাসায় অনুষ্ঠানে এসেছেন যেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও উপস্থিত ছিলেন। সেনাপ্রধান নিজেও বিদেশে ভাইদের বাসায় গেছেন।

কিন্তু এসব তথ্যের ভিত্তিতে করা প্রতিবেদনে এবং এর শিরোনামের সাথে প্রধানমন্ত্রীর নাম যুক্ত করা হলো কেন? এ প্রশ্নের জবাবে উইলিয়াম থোর্ন বলেন, ‘যখন আমরা অনুসন্ধান করছিলাম তখন এই ব্যাপারটা আরও বেশি করে স্পষ্ট হয় যে, এসব কিছুর মধ্যে একটা যোগসূত্র আছে। জেনারেল আজিজ তার রেকর্ড করা ফোনকলেও নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে তার তিন ভাই জোসেফ, হারিস এবং আনিস এরা সবাই ৯০-এর দশকে আওয়ামী লীগকে নিরাপত্তা দিয়েছে এবং সরাসরি শেখ হাসিনার সাথে কাজ করেছে। সেই সময়টাতে ঢাকা যখন শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য রাজনীতিকদের জন্য বিপজ্জনক ছিল, তখন তাদের নিরাপত্তা দেয়ার ব্যাপারে এই তিনজন ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ। এর পক্ষে যথেষ্ট ফটোগ্রাফিক তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষীদের বক্তব্য আমাদের হাতে আছে।’

তিনি বলেন, ‘জেনারেল আহমেদের তিন ভাই যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের সরাসরি যোগসূত্র ছিল প্রধানমন্ত্রীর সাথে, সেটা জেনারেল আজিজ নিজেই বলেছেন। শেখ হাসিনাই জেনারেল আজিজকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। সেজন্য আমার কাছে শিরোনামটি যথাযথই মনে হয়েছে।’
 
যে কারণে আল জাজিরা উদ্বিগ্ন
‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটির প্রযোজক জানিয়েছেন, যাদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়াটা তাদের উদ্বিগ্ন করছে।

আল জাজিরার অনুষ্ঠান প্রযোজক উইলিয়াম থোর্ন বলেন, ‘এক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে যারা কন্ট্রিবিউট করেছে তাদের বিরুদ্ধে। যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা অবশ্যই গুরুতর। এখানে যেটি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা সত্যকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে এটা (আইনগত পদক্ষেপ) একটি মারাত্মক চেষ্টা।’

১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলার আবেদন করা হয় ঢাকার একটি আদালতে এবং আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি এ আবেদনের ওপর আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার আবেদনে অভিযুক্তরা হলেন- ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান, সুইডেন প্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল, হাঙ্গেরি প্রবাসী বাংলাদেশি জুলকারনাইন খান সামি এবং আল জাজিরার ডিরেক্টর জেনারেল ও প্রধান সম্পাদক মোস্তেফা স্যোয়াগ।

থোর্ন বলেন, ‘স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার ছাড়াও যাদের কাঁধে বিষয়টি চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তাদের পরিবারের বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। এটা একেবারেই কাম্য নয়। আমাদের মনে হচ্ছে এখানে পত্রবাহকের মুখ বন্ধ করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে যেসব তথ্য-প্রমাণ হাজির করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর জবাব খুঁজে বের করতে না পেরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে খর্ব করা হচ্ছে।’

আল জাজিরার প্রায় এক ঘণ্টার ওই প্রতিবেদনে মূলত বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং তার তিন ভাইয়ের কার্যক্রমের ব্যাপারে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের আপন তিন ভাই ২০০৪ সালে একটি হত্যাকাণ্ডের অপরাধে আদালতে দণ্ডিত হয়েছিলেন। ভাইদের মধ্যে আনিস আহমেদ এবং হারিস আহমেদ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তৃতীয় ভাই তোফায়েল আহমেদ জোসেফ, যিনি হত্যার অপরাধে কারাদণ্ডে দণ্ডিত ছিলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা নিয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হন।

মামলা থেকে অব্যাহতি ২০১৯ সালে
আন্তবাহিনী গণসংযোগ দপ্তর বা আইএসপিআর ১৫ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে জানায়, আনিস এবং হারিস আহমেদ দুজনই ‘যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ার’ মাধ্যমে মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। পরের দিন ঢাকার প্রথম আলো পত্রিকার এক রিপোর্টে বলা হয়, আনিস এবং হারিস আহমেদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।

১৬ ফেব্রুয়ারির পরের দিকে সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, তিনি যখন তার ভাইদের সঙ্গে দেখা করেন তার আগেই তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। ওদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা আল জাজিরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

‘প্রধানমন্ত্রী জানতেন কি-না তা জানি না’
‘শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যাদের নিয়োগ দিয়েছেন তাদের কারও কাজের দায়িত্ব তিনি নেবেন কেন এবং যিনি নিজেও বলছেন যে তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নাম আসবে কেন?’- এমন প্রশ্নের জবাবে উইলিয়াম থোর্ন বলেন, ‘আমি বলব এই তিন ভাইয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে শেখ হাসিনা নিজে কতটুকু অবহিত, তা আমরা জানি না। তার কোনো প্রমাণও আমাদের হাতে নেই।’

তবে তিনি বলেন, ‘‘জেনারেল আজিজ ‘আইনের চোখে পলাতক’ দুজনের সাথে ষড়যন্ত্র বা যোগাযোগ করছেন এবং তিনি হারিছ আহমেদ ও আনিস আহমেদের সাথে যোগাযোগ করেছেন।’’

আল জাজিরার অনুষ্ঠান প্রযোজক উইলিয়াম থোর্ন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হচ্ছে তিনি এমন একজনকে নিয়োগ করবেন যিনি ওই পদের জন্য উপযুক্ত। এখানে শেখ হাসিনার সরাসরি দায়িত্বের ব্যাপার রয়েছে। আমার মনে হয় আমরা যথেষ্ট স্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি যে, জেনারেল আজিজ ২০১৫-১৬ সালে দুজন ফেরারি আসামিকে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন বা করার ষড়যন্ত্র করেছেন। আমাদের হাতে প্রমাণ আছে ২০১৫-১৬ সালে জেনারেল আজিজ বুদাপেস্টে হারিছ আহমেদের সাথে দেখা করেছেন। আনিস আহমেদের সাথেও তার যোগাযোগ ছিল বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আর এসবই ঘটেছে ২০১৯ সালের মার্চ মাসের সাজা মওকুফের সেই বিখ্যাত ঘটনার বেশ আগে।’

ভাইদের পলাতক বলা হলো কেন
আল জাজিরার প্রতিবেদন প্রচারের পর আত্মপক্ষ সমর্থন করে জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, তিনি যখন তার ভাইদের সাথে দেখা করেছেন তার আগেই সরকার তার ভাইদের সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালও পরে তা নিশ্চিত করে বলেছেন যে, যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়াতেই তাদের সাজা মওকুফ করা হয়েছিল।

‘তাহলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে তাদের পলাতক বলা হলো কেন’- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রযোজক উইলিয়াম থোর্ন বলেন, ‘আপনি সময়গুলো দেখুন। আপনি দেখুন ২০১৪-২০১৫ সাল। আমাদের হাতে স্পষ্ট প্রমাণ ছিল জেনারেল আজিজ হারিছ আহমেদের জন্য সার্ভিং বিজিবি কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে ভুয়া পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করেছেন।’

‘পুলিশের ওয়েবসাইটেও তার (আজিজ আহমেদ) ভাই তখন মোস্ট ওয়ান্টেড। যেসময় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির কথা বলা হচ্ছে ঘটনা তারও চার বছর আগের। জেনারেল আজিজ তার ভাইদের ভুয়া পাসপোর্ট পেতে ও ইউরোপে যেতে সহায়তা করেছেন। এবং বিশ্বজুড়ে যে সম্পদ তারা করেছেন, সম্ভব হয়েছে- কারণ তাদের ভাই বাংলাদেশের সেনাপ্রধান।’

ইসরায়েল নিয়ে বিতর্ক
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোন নজরদারি করার প্রযুক্তি ইসরায়েল থেকে আমদানি করেছে। তবে এ অভিযোগ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেনাবাহিনী প্রত্যাখ্যান করেছে। সেনাবাহিনী থেকে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘের জন্য নজরদারি যন্ত্রপাতি কেনার বিষয়টি জেনারেল আজিজ আহমেদ সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব শুরুর আগেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

‘তাহলে প্রতিবেদনে এর সাথে আজিজ আহমেদের নাম জড়ানো হলো কেন?’- এমন প্রশ্নের জবাবে থোর্ন বলেন, ‘হয়তো ক্রয় প্রক্রিয়া আগে শুরু হয়েছে, কিন্তু প্রতিবেদনে আমরা শুধু বলেছি ২০১৮ সালে জেনারেল আজিজ দায়িত্ব নেয়ার পর চুক্তিপত্রে সই হয়েছে।’

‘প্রথম কথা হলো জাতিসংঘ মিশনের জন্য এমন বিতর্কিত স্পাইওয়্যার কখনই ব্যবহার করবে না। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদেরও তা ব্যবহার করতে দেবে না। শান্তিরক্ষা মিশনে এ ধরনের বিতর্কিত প্রযুক্তির ব্যবহার ‌স্ট্যান্ডার্ড ইস্যু না। এ নিয়ে জাতিসংঘ যেমন প্রশ্ন তুলেছে, আমরাও তুলেছি।’

আল জাজিরা কি আওয়ামী লীগ বিরোধী?
প্রতিবেদনটি প্রচারের পর থেকে বাংলাদেশের সরকারি দলের সমর্থকরা আল জাজিরার বিরুদ্ধে জামায়াত ঘনিষ্ঠতা ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে আসছে। এই অভিযোগ কতটা সত্যি জানতে চাইলে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’-এর প্রযোজক উইলিয়াম থোর্ন বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি এ প্রতিবেদনে অনিয়মগুলো তুলে ধরা হয়েছে। আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলকে নিয়ে এর কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু পেশাদার সাংবাদিকতা করেছি। তথ্য-উপাত্তকে অনুসরণ করেছি এবং এই প্রতিবেদন একটি ক্লাসিক উদাহরণ।’

‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ কি স্বাভাবিক অনুসন্ধানের ফসল
থোর্নের কাছে বিবিসি বাংলা জানতে চেয়েছিল, তারা যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে সেটি কি নিয়মিত অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, নাকি বিশেষ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাদের এ ধরনের আইডিয়া সরবরাহ করেছে? অর্থাৎ এটা কোনো পরিকল্পনার ফসল ছিল কি-না?

জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো পরিকল্পনা করে এটা করা হয়নি। মানুষের আগ্রহ আছে এমন বিষয়গুলো নিয়ে আমরা নিয়মিতভাবে গবেষণা করি। অনেক সময় ডকুমেন্ট, আইডিয়া ইত্যাদি লোকজন আমাদের দেয়। এই বিশেষ ক্ষেত্রে আমাদের কাছে কিছু প্রমাণাদি তুলে দেয়া হয়েছিল। সেগুলো যাচাই করে আমাদের কাছে প্রমাণগুলো খুব শক্তিশালী বলে মনে হয়েছিল। আমাদের মনে হয়েছিল এগুলো নিয়ে আরও গবেষণা দরকার। গোড়াতে আমরা বাংলাদেশকে টার্গেট করে অনুসন্ধান শুরু করিনি। সেটা আমাদের লক্ষ্যও ছিল না। কিন্তু যেসব তথ্য পেয়েছিলাম সেগুলোই আমাদের সেখানে নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘হারিছ আহমেদকে নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছিলো হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের সেনা প্রধানের ভাই, যিনি পালিয়ে ছিলেন এবং এভাবেই একটি আরেকটির সাথে উঠে এসেছে। এটা কোনো পরিকল্পিত তদন্ত ছিল না। তবে এটি ছিল একটি তথ্যপ্রমাণ-নির্ভর অনুসন্ধান।’

ডকুমেন্টারিটির বাজেট কত
প্রযোজক উইলিয়াম থোর্ন বিবিসি বাংলাকে জানান, কী পরিমাণ অর্থ তাদের ব্যয় হয়েছে তা নিয়ে তিনি কোনো কথা বলবেন না। তবে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে নির্ভুল ও প্রমাণভিত্তিক একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে যা করা দরকার সেটিই তারা ব্যয় করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে, যথেষ্ট অর্থ আমাদের ছিল। অনেক সময় ব্যয় করা, তথ্য চেক করা, প্রাপ্ত তথ্য দ্বিতীয়বার যাচাই করার জন্য বাজেট ছিল। তাই যা দরকার প্রতিবেদনের জন্য সেটাই আমরা ব্যয় করেছি। আমরা সাংবাদিকতা করেছি, যাতে অ্যাকুরেসি নিশ্চিত করা হয়। আমরা ভাগ্যবান যে এজন্য অনেক সময় আমরা হাতে পেয়েছি।’

তথ্যদাতা স্যামির প্রকৃত নাম কেন ব্যবহার করা হয়নি
‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ প্রতিবেদনটিতে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে ‘স্যামি’ নামে সম্বোধন করা হয়েছে। তার নাম পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। যদিও তিনি কথা বলেছেন সেখানে এবং নিজেকে গোপন করার চেষ্টা করেননি। বরং তথ্য দিতে পেরে নিজের স্বস্তির কথাও বলেছেন তিনি।

তাহলে ‘প্রতিবেদনে তার নাম পরিচয় দেয়া হলো না কেন’- এমন প্রশ্নের জবাবে অনুষ্ঠানটির প্রযোজক বলেন, ‘এটা তার অনুরোধেই করা হয়েছে। এটা ঠিক যে প্রতিবেদনে তাকে খুশিই মনে হয়েছে। কিন্তু তার নাম দেয়া হয়নি, যা কিছুটা পরস্পরবিরোধী মনে হতে পারে। কিন্তু এটা তার সিদ্ধান্ত এবং আমরা সেটাকেই শ্রদ্ধা করেছি।’

ঢাকা অফিসের কারও ওপর চাপ আছে?
আল জাজিরা প্রতিবেদনটি প্রচারের পর বাংলাদেশে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সরকার ও সেনা সদর দপ্তর থেকে। সে প্রেক্ষাপটেই জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, আল জাজিরায় ঢাকায় কর্মরত কর্মীদের ওপর বা অফিসের কারও ওপর কোনো ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে কি-না? বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে উইলিয়াম থোর্ন বলেন, ‘আমি এটা সরাসরি বলতে পারি না। কিন্তু আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে যে, বাংলাদেশ নিয়ে স্টোরি ফাইল করার পর ঢাকার নিউজ টিম ডিজিএফআইয়ের চাপ ও প্রশ্নের মুখে পড়েছিল।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?