রবিবার, ০১ আগস্ট ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৪ জুলাই, ২০২১, ১০:৩১:৫৫

এক জেলাতেই কোটি টাকা কমিটি বানিজ্য ছাত্রদলের তিন নেতার!

এক জেলাতেই কোটি টাকা কমিটি বানিজ্য ছাত্রদলের তিন নেতার!

আজিম মাহমুদ

ঢাকা: বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন হচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।নিয়মিত রাজনীতির মাঠে সক্রিয় না দেখা গেলেও  বিভাগীয় জেলা উপজেলা এবং মহানগর পর্যায়ে চলছে কমিটি বাণিজ্য। সাংগঠনিক পদ দিতে নেয়া হচ্ছে টাকা। ভবিষ্যতে ভালো কোনো সুযোগ-সুবিধার আশায় উঠতি নেতারাও পদ নেয়ার এ প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ছেন।
একই পদে একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে যে বেশি টাকা দিচ্ছে তাকেই পদ দেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি গাজীপুর জেলার মহানগর এবং উপজেলা সমূহের ছাত্রদলের কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। এসব কমিটিতে টাকা দিয়েও পদ না পাওয়ারা অভিযোগ নিয়ে ঘুরছেন নেতাদের কাছে। ভাইরাল হয়েছে টাকা লেনদেনের স্ক্রিনশর্ট।

সূত্রমতে,বিএনপি হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে ত্যাগী ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে ছাত্রদল পুনর্গঠনের জন্য পৃথক টিম গঠন করে দেয়া হয়েছে। আর এসব টিমের বিরুদ্ধেই উঠেছে অভিযোগ। নগদ টাকা, মদ-ফেনসিডিল ও উপঢৌকনের বিনিময়ে পদ বিক্রির একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড, হোয়াটসএ্যাপে টাকা নিয়ে দরকষাকষি এবং বিভন্ন নিউজ পোর্টাল এবং ফেসবুকে ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ সংক্রান্ত স্ক্রিনশর্টসহ বিভিন্ন প্রামাণ্য তথ্য প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের নেতৃত্বে আনতে দেশের সকল বিভাগের মতো ঢাকা বিভাগেও ছাত্রদলের টিম গঠন করে দেন। সংগঠনের স্থানীয় নেতারা জানান,ছাত্রদলের ঢাকা (খ) টিমের ২ জনের বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট।এরা দুজন হলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ইকবাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।

এরা ২ জনই মূলত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের ক্যাসিয়ার হিসেবে পরিচিত।ছাত্রদলের টিম গঠন করার পর থেকে বিভিন্ন জেলা উপজেলা এবং মহানগর পর্যায়ে পদ বানিজ্য করে তারা তিনজন যৌথভাবে ভাবে কোটি টাকার উপর পদ বানিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় নেতারা আরও জানান গাজীপুর জেলার বিভিন্ন নেতাকর্মীর কাছে থেকে নিয়োমিত বিভিন্ন অজুহাতে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিয়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে এখন বিকাশ জুয়েল হিসেবে পরিচিত। শুধু মাত্র গাজীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা,থানা কমিটি গঠন করেই তারা প্রায় অর্ধকোটি টাকা পদ বানিজ্য করেছেন বলে জানা গেছে। গাজীপুরের বিভিন্ন কমিটি গঠনে তাদের তিনজনের যৌথ পদ বানিজ্যের কিছু তথ্য প্রমানাদি এ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

গাজীপুর জেলায় যেসব অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখ্য হলঃ

গাজীপুর জেলার পূবাইল উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ী আজমীরকে আহ্বায়ক দেয়ার কথা বলে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল নগদ ৩ লক্ষ টাকা নেয় এবং তার আরও দুই সহযোগী ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাক রিয়াদ ইকবাল ২ লক্ষ টাকা এবং সহ-সাধারণ সম্পাক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ নেয় ৩ লক্ষ টাকা।গাজীপুরের টঙ্গি পূর্ব/পশ্চিম থানা
মামুন এবং আকাশকে দুই উপজেলায় সদস্য সচিব বানানোর কথা বলে সাইফ মাহমুদ জুয়েল ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেয়। কাসিমপুর থানাঃ কাওসার নামক এক ছাত্রদল নেতাকে কাসিমপুর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বানানোর জন্য তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা সিরাজ নিয়ে জুয়েলকে দেয়।পরে অবশ্য তাকে সদস্য সচিব করা হয়।

গাজীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী খানের লোক রাজনকে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব বানানোর জন্য জুয়েল/সিরাজ/রিয়াদ মিলে নেয় ৫০ হাজার টাকা।

গাজীপুর মহানগরে জাহাঙ্গীর নামক এক ছাত্রদল নেতাকে পদ দেয়ার কথা বলে ১ লক্ষ টাকা নেয় জুয়েল, রিয়াদ,সিরাজ তিনজন মিলে।এবং মহানগরে সহ-সভাপতি হওয়ার জন্য মোহাম্মাদ আলী নামক ছাত্রদল নেতা রিয়াদ এবং সিরাজকে ৪০ হাজার টাকা দেয় সেই সাথে মারুফ নামক আরও একজন একই পদের জন্য দুজনকে ৫০ হাজার টাকা দেয়।এছাড়া গাজীপুরের কোনা বাড়িতে হৃদয়কে আহ্বায়ক বানানোর কথা বলে জুয়েল গং নেয় আরও ৪০ হাজার টাকা।

গাজীপুর মহানগর মেট্রো থানায় ইমরান হোসেন আরিফকে আহ্বায়ক বানানোর জন্য তার কাছ থেকে জুয়েল গং নেয় ৩ লক্ষ টাকা। সেই সাথে জাহিদুল,শাওন, মশিউর যুগ্ম-যুগ্ম-আহ্বায়ক হওয়ার জন্য  তাদেরকে আরও দেয় ৫০ হাজার।এবং একই থানায় শুক্কুর আলী নামক ছাত্রদল নেতা সদস্য সচিব হওয়ার জন্য ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলকে দেয় আরও ৩ লক্ষ টাকা।এছাড়া গাজীপুর জেলার সাইদুল আলম বাবুল নামের এক বিএনপি নেতা নিজের লোককে ভালো জায়গায় পদ দেয়ার জন্য রিয়াদকে দেয় আরও ৩ লক্ষ টাকা।

কালিয়া কৈর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাইজ উদ্দীন নিজের লোক শাহিন আলম সরকারকে আহ্বায়ক বানানোর জন্য জুয়েল,রিয়াদ,সিরাজকে ১ লক্ষ টাকা দেয়।এবং ইমন বাবুকে সদস্য সচিব বানানোর কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে সিরাজএবং রিয়াদ নেয়  ৪০ হাজার টাকা।এছাড়া জিয়াউল করিম রিফাত মোড়লকে শ্রীপুর পৌরের আহ্বায়ক দেয়ার কথা বলে জুয়েল নেয় ২ লক্ষ টাকা এবং রিয়াদ এবং সিরাজ নেয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার। এবিষয় জানতে জুয়েলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কে এই জুয়েল?

বরিশাল জেলার উজিরপুর ধামুরা ডিগ্রী কলেজ থেকে HSC পাশ করা জুয়েল নিজেকে ঢাকা কলেজ থেকে HSC পাশ করেছে বলে পরিচয় দেন।জুয়েলের ৩ ভাই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

আপন মামা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ক্যাম্পাসের ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য ছিলো। ১/১১ সময় প্রকাশ্যে সংস্কার কারী গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিল।জুয়েল ওই সময় জিয়া হলের গেস্ট রুমে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি ভাংচুর করেছে।যা ক্যাম্পাসের সবাই যানে।২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে জুয়েল প্রায় ৬ মাস হলে থেকে ছাত্রলীগ করেছে।পরে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ছাত্রলীগ জুয়েলকে হল থেকে বের করে দেয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়,জুয়েল ২ টি অপহরণ মামলার আসামী।এর ভিতর ঢাবি, আই ই আর ছাত্রদলের সাঃ সম্পাদক কবিরকে অপহরণের কারনে র‍্যাবের হাতে ধরা খেয়ে প্রায় ৪ মাস জেল খেটেছে। মামলা এখন বিচারাধীন । ২০১১ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের জিহান গ্রুপের ভাড়াটে হয়ে মারামারি করতে জাবি ক্যাম্পাসে যায়।
সেখান থেকে আসার সময় হল থেকে প্রায় ১০০ ল্যাপটপ ও মোবাইল চুরি করেও ধরা পড়ে।২০১৫ সালের ৯৪ দিনের আন্দোলনের সময় জুয়েল আত্মগোপনে চলে যায়।যুবদলের সিঃ যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে নিয়মিত বিভিন্ন অযুহাতে টাকা নেন তিনি।ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পর বিভিন্ন উপজেলায় কমিটি বানিজ্য করে লাখ লাখ  টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
 

নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ,গাজীপুর, ভোলা,বরগুনা, চট্টগ্রাম  সহ বিভিন্ন জেলার উপজেলা কমিটির সময় ছাত্রদলের বিভিন্ন পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।একেবারেই দরিদ্র পরিবার থেকে বেরে ওঠা জুয়েল এই টাকা দিয়েই ঢাকায় আলিশান জীবন -যাপন করে।
এরই মধ্যে তিতুমীর কলেজের সহ সভাপতি আনিস নামের এক ছোট ভাইকে ব্যবসার জন্য ২৬ লাখ টাকা দিয়েছেন এই জুয়েল। জুয়েলের পিতা - মরহুম শাহজাহান হাওলাদার সদস্য,শোলক ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ। বড় ভাই- সেলিম হাওলাদার, সহ সভাপতি, শোলক ইউনিয়ন যুবলীগ। ৭০০০ পিচ ইয়াবাসহ র‍্যাবের হাতে ধরা খেয়ে ৬ মাস জেল খেটেছে।এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত।ছোট ভাইঃ সোহেল,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, শোলক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ। মামাঃ হালিম ডাক্তার, সভাপতি,শোলক ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ।মামিঃ নাসিমা বেগম, সভানেত্রী, উজিরপুর থানা মহিলালীগ।

এই বিভাগের আরও খবর

  ভুঁইফোড় সংগঠনে সয়লাব বিএনপিও

  আওয়ামীলীগে একই সঙ্গে দুই পদ আঁকড়ে আছেন যারা

  ভিকারুননিসায় দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ভর্তি বাণিজ্য,অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা

  এক জেলাতেই কোটি টাকা কমিটি বানিজ্য ছাত্রদলের তিন নেতার!

  ঢাকার দুইমহানগরে বিএনপির নেতৃত্বে আসছেন যারা

  জাফরুল্লাহ ইস্যুতে কাওসারের সাথে সহমত ছাত্রদলের

  পুঁজিবাজার তহবিলের ৪০% শেয়ার ক্রয়ে, ৫০% মার্জিন ঋণে

  ছাত্রদলের কাউন্সিলের গুঞ্জন, সম্ভাবনা যাদের

  কারা আসছেন মহানগর বিএনপির দুই কমিটিতে

  ইভ্যালিসহ ১০ ই-কমার্সে কেনাকাটায় ব্র্যাক ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা

  অর্থ সংকটে এক শিল্প প্রতিষ্ঠান: চাকরিহারিয়েছেন হাজারেরও বেশি কর্মী

আজকের প্রশ্ন

পুরো ঢাকায় ‘অঘোষিত কারফিউ’ চলছে। সরকার জনগণকে জিম্মি করে জনগণকে বাদ দিয়ে বিদেশি অতিথিদের নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ব্যস্ত। ফখরুলের এক মন্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?