রবিবার, ২০ জুন ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১, ১০:১১:১২

‘মুক্তি’ চান মোস্তাফিজ

‘মুক্তি’ চান মোস্তাফিজ

ঢাকা: ঈদের আর মাত্র ৩ দিন বাকি। রমজানের শেষ এই মুহূর্তটা পরিবারের জন্য কেনাকাটা ও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার প্রস্তুতি চলে খুব। জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের জন্যও এসব ব্যতিক্রম নয়।

যদিও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনা মহামারিতে বিপন্ন গোটা বিশ্ব। করোনাভাইরাসের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকারও কড়াকড়ি স্বাস্থ্যবিধি আরোপ করেছে। আর ভিন্ন পরিস্থিতিতে পড়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। এমনকি ঈদের দিনটাতেও তাকে কাটাতে হবে একটি রুমে বন্দি হয়ে। চাইলেই দেখা করতে পারবেন না পরিবারের সঙ্গে।

শুধু ফিজই নয়, তার স্ত্রীরও একই অবস্থা। দু’জনের এবারের ঈদ কাটতে যাচ্ছে পরিবার-পরিজন থেকে অনেক দূরে থেকে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিল) স্থগিত হওয়ায় ভারত থেকে দেশে ফিরে এসেছেন দুই ক্রিকেট তারকা মোস্তাফিজুর রহামন ও সাকিব আল হাসান । কিন্তু সরকারের নিয়ম অনুসারে ভারত থেকে আসা ব্যক্তিদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক। যে কারণে ৬ই মে থেকে মোস্তাফিজ স্বস্ত্রীক কোয়ারেন্টিনে আছেন হোটেল সোনারগাঁয়ে।

তবে ঈদের পরই ২৩শে মে থেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। ২১ তারিখের আগে ফিজের মাঠে নামার সুযোগ নেই। কিন্তু এভাবে ঘরবন্দি থাকলে ফিটনেস ধরে রাখাও কঠিন হবে। তাই সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে সুযোগ থাকলে মুক্তির অনুরোধ জানিয়েছেন মোস্তাফিজ। সোমবার মুঠোফোনে মোস্তাফিজ জানান, ‘ভারতে প্রায় পাঁচদিনের মতো হোটেলে বন্দি ছিলাম। এখানে এসেও বন্দি। ১০ দিন হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে ফিটনেস ধরে রাখা বেশ কঠিন হবে। এরইমধ্যে আমরা করোনা টেস্ট করিয়েছি দুটি। ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। যদি সরকার আমাদের কোয়ারেন্টিন কমানোর কথা বিবেচনা করে তাহলে অনেক ভালো হতো আমাদের জন্য।’

ভারতে আইপিএল খেলতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন স্ত্রীকেও। তিনি খেলেছেন রাজস্থান রয়্যালস দলের হয়ে। টাইগারদের আরেক তারকা সাকিব আল হাসান খেলেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে। কিন্তু ভয়াল করোনা ভাইরাসের থাবায় ৪ঠা মে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএলের এবারের আসর স্থগিত করতে বাধ্য হয়। দেশটিতে করোনা পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে দিনে প্রায় ৩ লাখের  বেশি আক্রান্ত হচ্ছে । আর মৃত্যু সংখ্যা প্রতিদিনই স্পর্শ করছে ৪ হাজার! এমন পরিস্থিতিতে মোস্তাফিজদের দেশে ফেরাই শঙ্কায় ছিল। অবশেষে বিশেষ বিমানে গত ৬ই মে ঢাকায় আসেন তারা। আর ১৪ দিনের প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে হোটেলে বন্দি হয়ে সময় কাটাচ্ছেন সাকিব ও মোস্তাফিজ। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা সিরিজে প্রস্তুতি ছাড়া অংশ নেয়া কতটা চ্যালেঞ্জের। স্বল্পভাষী মোস্তাফিজ ছোট্ট একটা শব্দে জানিয়ে দিলেন, ‘অনেক কঠিন’।

হোটেল রুমে দেশের এই তরুণ পেসারের কাটছে বিষন্ন সময়। কিভাবে কাটছে তার দিন? মোস্তাফিজ বলেন, ‘কি করবো নামাজ কালাম পড়ি, টিভি দেখি আর হাল্কা ব্যায়াম করি।’ যদি শেষ পর্যন্ত হোটেলেই ঈদ করতে হয় তাহলে কেমন অনুভূতি হবে  মোস্তাফিজের? আবারো ছোট কয়েকটি শব্দে জানিয়ে দিলেন, ‘অনেক খারাপ হবে। মন তো খারাপ হবেই।’ দেশে ফেরার পরপরই সাকিব ও মোস্তাফিজের কোয়ারেন্টিন শিথিল করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু সেটি প্রত্যাখান করে স্বাস্থ্য বিভাগ। সাকিব-মোস্তাফিজ দু’দফা করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছেন। শনিবার বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী জানান সাকিব-মোস্তাফিজের কোয়ারেন্টিন শিথিলে আবারো আবেদন করেছে বিসিবি।

আজকের প্রশ্ন

পুরো ঢাকায় ‘অঘোষিত কারফিউ’ চলছে। সরকার জনগণকে জিম্মি করে জনগণকে বাদ দিয়ে বিদেশি অতিথিদের নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ব্যস্ত। ফখরুলের এক মন্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?