মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০, ০৯:৫২:২০

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মেঘরাজ্য বান্দরবান

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মেঘরাজ্য বান্দরবান

চট্টগ্রাম: শীত এবং বর্ষা মৌসুমে বান্দরবান যেন এক অপরূপ সৌন্দর্য ধারণ করে। শীতে কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে বেড়ানোর জন্য অনেকে ছুটে আসেন দূর পাহাড়ে। শুধু শীত এবং বর্ষা নয় সারা বছরই বৈচিত্র্যময় পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। প্রকৃতি নিজেকে এ জেলায় মেলে ধরেছে আপন সাঁজে। দৃষ্টিনন্দন নীলগিরি আর নীলাচলের পাহাড়ি শহর বান্দরবান যেন অপরূপ এক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। দুই দিকে উঁচু পাহাড় আর হরেক রকমের গাছগাছালি। পাহাড়ের নিচে আঁকাবাঁকা সড়ক। সড়কের কোথাও ঢালু, কোথাও উঁচু। যেন দেশের ভেতরে অন্যরকম দেশ। নয়নাভিরাম এ শহর দেখতে যাওয়া মানুষ আপন মহিমায় মুগ্ধ না হয়ে যেন পারেন না। সৃষ্টির এ যেন অন্যরকম প্রয়াস।

এখানকার সৌন্দর্যের খ্যাতি ছড়িয়েছে ইতিমধ্যে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও। প্রতিবছরের মতো এবারো শীতকে সামনে রেখে বান্দরবানে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। বিদেশি পর্যটকদের ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে নীলাচল, মেঘলা, শৈল প্রপাত ঝর্ণাসহ দর্শণীয় স্থানগুলোতে।
 
কী নেই এ জেলায়?

নীলাচল পাহাড়ের চূড়া থেকে সূর্যাস্ত দেখা, নীলগিরি থেকে পাহাড়ের সমুদ্র দেখা, পাহাড়ের চূড়ায় প্রাকৃতিক বগালেক, পাহাড়ের চূড়া থেকে ঝড়েপড়া রিজুক ঝর্ণা, জাদিপাই ঝর্ণা, চিংড়ি ঝর্ণা, শৈল প্রপাত ঝর্ণা, বাদুরগুহা, আলীর সুরঙ্গপথ, মেঘলায় লেকের ওপরে আকর্ষণীয় দুটি ঝুলন্ত সেতু, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ স্থান নামে পরিচিত স্বর্ণমন্দির, রামজাদী মন্দির, রেমাক্রী বড়পাথর, দেবতা পাহাড়, নাফাকুম জলপ্রপাত, ছোট্ট পরিসরে গড়ে তোলা চা বাগান, দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ সাকাহাফং, তাজিংডং বিজয়, কেওক্রাডং চূড়া এবং ভিন্ন ভাষার ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি বান্দরবানের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে আরো বহুগুণে।

হাতছানি দিয়ে ডাকছে পর্যটকদের নীলাচল পর্যটন স্পট

বান্দরবান জেলা শহর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় নীলাচল অবস্থিত। স্পটটি স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। গাড়ি এবং পায়ে হেঁটেও সহজে নীলাচলে যাওয়া যায়। তবে শুধু নীলাচলে যাওয়ার জন্য আলাদা কোনো সার্ভিসের ব্যবস্থা নেই। ভাড়াগাড়ি রিজার্ভ করে কিংবা নিজস্ব গাড়িতে করে এই স্পটে যেতে হয়।

রাতের বেলা এখান থেকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে মনে হয় একেকটি গ্রহ-নক্ষত্র। ভূমি থেকে আকাশের তারাকে যে রূপে দেখা যায় কর্ণফুলীতে অবস্থানরত জাহাজগুলোও রাতের বেলা নীলাচল থেকে তেমনি মনে হয়। দিন আর রাতের এই বৈশিষ্ট্যের জন্য নীলাচল পর্যটকদের কাছে আরো বেশি প্রিয় হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যায় নীলাচল থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য অনায়াসে দেখা যায়। তবে নীলাচল পর্যটন স্পটে দিনের চেয়েও রাতের চাঁদের আলোয় সময় কাটানো যায় অতি রোমাঞ্চের মধ্য দিয়ে।

নীলগিরি পর্যটকদের কাছে স্বপ্নীল একটি নাম

আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন কার না জাগে, মেঘে গা ভাসানোর ইচ্ছে কার না করে। সব স্বপ্ন ও ইচ্ছে কখনো পূরণ হয় না কথাটি সত্যি। তবে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও মেঘে গাঁ ভাসানো সম্ভব বান্দরবানে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত নীলগিরি পর্যটন স্পটে হাত বাড়ালেই মেঘ ছোঁয়া যায়। অনেকটা মেঘের দেশে ভেসে বেড়ানোর মতো। বান্দরবানে অসংখ্য পর্যটনস্পটের মধ্যে অন্যতম এটি। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কের ৪৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় নীলগিরি পৌঁছাতে। বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুক পাহাড় থেকে থানচি উপজেলা সড়কে আরো ২৬ কিলোমিটার।

পর্যটন স্পট নীলগিরিতে মেঘ আর রোদের মধ্যে চলে লুকোচুরি খেলা। কখন এসে মেঘ আপনাকে ভিজিয়ে দিয়ে যাবে বুঝার অবকাশ নেই। ঘন মেঘের চাদরে হারিয়ে যেতে নীলগিরি হচ্ছে উপযুক্ত স্থান। নীলগিরি পর্যটন স্পটে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থাও আছে। সেনা নিয়ন্ত্রিত নীলগিরিতে গড়ে তোলা কটেজগুলোও দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। আকাশনীলা, মেঘদূত এবং নীলাতানাসহ বিভিন্ন নামে সাজানো কটেজগুলোর ভাড়াও খুব বেশি নয়। শুধু থাকা নয়, খাওয়া-দাওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে নীলগিরিতে। মনে হয় থাইল্যান্ডের কোনো শহরে অবস্থান করছি। চারদিকে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। দুচোখ যেদিকে যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। এ যেন অন্যরকম অনুভূতি। মেঘ ছুঁয়ে দেখতে চান। তবে এখনি ছুটে আসুন বান্দরবানে। স্বপ্নীল নীলগিরি পর্যটন স্পট দেখে যেতে ভুলবেন না।

নাফাখুম:  বাংলদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জলপ্রপাতগুলোর মধ্যে নাফাখুম অন্যতম। থানচি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা রেমাক্রিতে পাহাড় ও বনের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা সাঙ্গু নদীতে অবস্থান নাফাখুমের। নাফাখুমের পাশেই আরেকটি জলপ্রপাত যেটি রেমাক্রি জলপ্রপাত নামে পরিচিত। একবার এখানে গেলে বারবার যেতে মন চাইবে।


বগা লেক: বগা লেক বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক হ্রদ। রুমা উপজেলা সদর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে বগা লেকের অবস্থান। প্রায় ১৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই লেক। লেকের স্বচ্ছ নীল পানি আপনার নজর কাড়বেই। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক লেকটি ঘুরে দেখেন বিশেষ করে শীতকালে। লেকের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব শিলাখণ্ড দেখে নিশ্চিতভাবেই চমকে উঠবেন। চাইলে লেকের আশপাশে ক্যাম্পফায়ার করতে পারেন।
 
শৈল প্রপাত: শৈল প্রপাত মিলনছড়ি এলাকায় অবস্থিত এবং বান্দরবান থেকে থানচিগামী সড়কের চার কিলোমিটারের মধ্যেই। বান্দরবানের উল্লেখযোগ্য জলপ্রপাতের মধ্যে এটি একটি। বর্ষাকালে এখনকার পানির প্রবাহ খুব বেশি থাকে। এখানে ভ্রমণকালে ছোট ছোট বাজারগুলোতে আদিবাসীদের তৈরি হস্তশিল্প, তাঁতের দ্রব্যাদি ও খাদ্যসামগ্রীর সংস্পর্শও পাবেন। বান্দরবান জেলা শহর থেকে পাহাড়ি জিপ রিজার্ভ করে থানচি উপজেলার শৈল প্রপাতে যেতে পারেন।

বুদ্ধ ধাতু জাতি মন্দির: বুদ্ধ ধাতু জাতি মন্দিরের আরেক নাম বান্দরবান স্বর্ণমন্দির। বান্দরবান থেকে দশ কিলোমিটার এবং বালাঘাটা থেকে চার কিলোমিটার দূরে পালপাড়ায় এ মন্দির অবস্থিত। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বুদ্ধ মূর্তি। শুধু বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীই নয়, দেশ-বিদেশের যেকোনো পর্যটকের জন্যই এটি এক আকর্ষণীয় স্থান। পাহাড় চূড়ায় মন্দিরের পাশেই রয়েছে একটি ছোট পুকুর যা ‘দেবতাদের পুকুর’ নামে পরিচিত। এই জায়গা থেকে বালাঘাটা এবং এর চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। প্রতি বছরই এখানে বিভিন্ন ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়।

চিম্বুক: চিম্বুক হলো বাংলাদেশের তৃতীয় উচ্চতম পর্বত। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চিম্বুক পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ২৫০০ ফুট। এই এলাকার রাস্তাঘাট আঁকাবাঁকা ও সর্পিল। জিপে চড়ে এসব রাস্তা পার হওয়া এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। যাওয়ার পথে বিভিন্ন আদিবাসী পল্লী অতিক্রম করবেন। চিম্বুক এলাকায় সরকারি মালিকানাধীন দুটি রেস্ট হাউজ আছে। থাকতে হলে আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রিজার্ভেশন নিতে হবে।

মেঘলা: আকর্ষণীয় অবসর বিনোদন কেন্দ্র হলো মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স। বান্দরবান পার্বত্য জেলা কাউন্সিলের খুব কাছেই এটি অবস্থিত। বান্দরবান শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে কেরাণীহাট সড়কে অবস্থিত মেঘলায় রয়েছে একটি মিনি সাফারি পার্ক, একটি চিড়িয়াখানা, ঝুলন্ত ব্রিজ, পাহাড়ের নিচে একটি কৃত্রিম লেক এবং নৌকা ভ্রমণের সুবিধা। পিকনিক করার জন্য চমৎকার জায়গা এটি।

অন্যান্য: এছাড়াও বান্দরবানের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলো হলো- শুভ্র নীলা, জীবন নগর পাহাড়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট ও জাদুঘর, বাকলাই জলপ্রপাত, রিজুক জলপ্রপাত, চিংড়ি ঝিরি জলপ্রপাত, জিংসিয়াম সাইতার জলপ্রপাত, পাতাং জারি জলপ্রপাত, ফাইপি জলপ্রপাত, প্রান্তিক লেক, মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স, কেওক্রাডাং পাহাড়, তাজিনডং পাহাড় প্রভৃতি।

কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সরাসরি এসি-ননএসসি বাসে আসতে পারবেন বান্দরবান। তবে চট্টগ্রাম হয়ে বান্দরবান আসতে হলে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে আসতে হবে। এখান থেকে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে আপনি পাচ্ছেন পূরবী-পূর্বাণী নামে দুটি বাস সার্ভিস। বাসের ভাড়া ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। বাসে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত। আর নিজস্ব এবং ভাড়ায় চালিত রিজার্ভ গাড়ি নিয়েও বান্দরবান আসতে পারবেন। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম থেকে সময় লাগবে আরো কম। তবে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের গাড়িতে করে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানিহাট রাস্তারমোড়ে নেমে গিয়ে পৃথক গাড়িতে করে বান্দরবান আসতে পারবেন। কেরানিহাট থেকে বান্দরবানের দূরত ২৩ কিলোমিটার। সময় লাগে ৪০ মিনিট থেকে একঘণ্টা।

থাকবেন কোথায় ?

বান্দরবনে পর্যটন কর্পোরেশনের একটি হোটেল আছে মেঘলাতে। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন ছোট বড় হোটেল।  থাকার জন্য আপনার সাধ্যমত বেছে নিতে পারেন। এ ছাড়াও বেশ কিছু ভালো মানের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউজ আছে। হলিডে ইন রিসোর্টে এসি-ননএসি দুই ধরনের রুম ভাড়া পাওয়া যায়। এ ছাড়া তাবুতে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। এখানে থাকতে প্রতিদিন রুম প্রতি গুনতে হবে দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। পালকি গেস্ট হাউজ হচ্ছে জেলা শহরের মধ্যেই পাহাড়ের উঁচুতে এসি-ননএসি দুই ধরনের রুমেই থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে।

কীভাবে ঘুরবেন?

বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে বেড়াতে ভাড়ায় চালিত বিভিন্ন ধরনের গাড়ি পাওয়া যায়। তবে দুই একজনের জন্য রিজার্ভ পর্যটকবাহী গাড়িগুলোর ভাড়া অনেকটা বেশি। সেক্ষেত্রে দলবল নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে একসঙ্গে বান্দরবান ঘুরে বেড়াতে এলে খরচ অনেকটাই সাশ্রয়ী হয়। সিএনজি এবং মহেন্দ্র গাড়িতে করেও পর্যটন স্পটগুলো সহজে ঘুরে বেড়ানো সম্ভব। এ ছাড়া বেশির ভাগ পর্যটন স্পটের রুটে বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। সেগুলোতে করে যাতায়াত করলে খরচ আরো কমবে। তবে সময় লাগবে একটু বেশি।

বান্দরবানে কী কী কিনতে পাওয়া যায়?

পাহাড়িদের কোমর তাঁতের তৈরি বিভিন্ন ধরনের কাপড়-চোপড় এবং বাঁশ কাঠের তৈরি হস্তশিল্পের বিভিন্ন রকমের শোপিস। পাহাড়িদের আতিথেয়তা এবং ভালোবাসাও সঙ্গে নিয়ে যাবেন।

এই জায়গাগুলো দেখতে যাওয়া-আসা মিলিয়ে হাতে এক সপ্তাহের সময় নিয়ে যেতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় রাতে ভ্রমণ করে ভোরে বান্দরবান পোঁছানো। আর সেখান থেকে বিকালে রওনা দিয়ে ফিরে আসা। এতে করে বান্দরবানের এই জায়গাগুলো মনের মত ঘুরে আসা সম্ভব।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?